বাঁকড়া বাজার এলাকার নিত্য যানজট মেটানোর জন্য উদ্যোগী হল ডোমজুড় ব্লক ও পুলিশ প্রশাসনের কর্তারা। প্রাথমিক পর্যায়ে বাঁকড়া বাজারের মিনিবাস, ট্রেকার ও মালবাহী ছোট গাড়ির স্ট্যান্ডকে অন্যত্র সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্ট্যান্ড তৈরির জন্য জমি চিহ্নিত করে সাফাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি নতুন স্ট্যান্ড তৈরির প্রস্তাবিত জায়গাগুলি ঘুরে দেখেন ব্লক প্রশাসনের কর্তারা।
ব্লক প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকড়া বাজার এলাকায় যানজটের সমস্যা দীর্ঘদিনের। এই এলাকায় মূলত পোশাক শিল্পের কাজ হয়। হাওড়া-আমতা রোডের পাশে রয়েছে পোশাক সামগ্রী বিক্রির দোকান। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকে ছোট গাড়ি ও ভ্যান রিকশা। রাস্তার উপরেই রয়েছে বাঁকড়া-পার্কসার্কাস রুটের মিনিবাস ও বাঁকড়া-নাজিরগঞ্জ রুটের ট্রেকার স্ট্যান্ড। আমতা, বড়গাছিয়া, ডোমজুড় থেকে হাওড়াগামী বেশিরভাগ বাস-সহ অন্যান্য গাড়ি বাঁকড়া দিয়েই যাতায়াত করে। ফলে সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা অবধি এলাকায় প্রবল যানজট তৈরি হয়। সমস্যা মেটাবার জন্য ডোমজুড় থানার পক্ষ থেকে যান নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ কর্মী নিয়োগ করা হলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। সমস্যা মেটাতে সম্প্রতি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকে বসেন ডোমজুড় থানার কর্তারা।
প্রশাসন সূত্রে খবর, সেই বৈঠকে ডোমজুড় থানার আইসি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাঁকড়া ১, ২ ও ৩ নম্বর পঞ্চায়েতের সদস্য, ডোমজুড় পঞ্চায়েত সমিতি ও ব্লক প্রশাসনের কয়েকজন কর্তা। সেখানেই বাস, ট্রেকার ও ছোট মালবাহী ছোট গাড়ির স্ট্যান্ড সরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ডোমজুড় থানার এক কর্তা জানান, মিনিবাস স্ট্যান্ডটি সরে আসবে ৬ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে সলপ উড়ালপুর সংলগ্ন একটি মোটরবাইক নির্মাতা সংস্থার শোরুমের পাশে। মালবাহী গাড়িগুলি দাঁড়াবে সলপ উড়ালপুলের নিচে এবং ট্রেকার ও ট্যাক্সি থাকবে স্থানীয় পশ্চিম কলকাতা উপনগরী সংলগ্ন ফাঁকা জায়গায়। তবে নতুন বাসস্ট্যান্ড চালু হওয়ার পরেও ব্যবসার সুবিধার জন্য বাঁকড়া বাজারে রাত্রি ৯টা থেকে সকাল ৯টার মধ্যে মালবাহী গাড়ি ঢুকতে পারবে। তারপর সেগুলিকে নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডেই থাকতে হবে। ওই কর্তা বলেন, ‘‘পুরো বিষয়টি দেখভালের জন্য জেলা পুলিশের থেকে অতিরিক্ত সিভিক ভলেন্টিয়াস্ চাওয়া হয়েছে।’’
বাঁকড়া ১ পঞ্চায়েতের প্রধান আখতার হোসেন মোল্লা জানান, বাস ও ট্রেকারের মালিকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। এলাকার স্বার্থে তারা প্রাথমিক ভাবে নতুন জায়গায় সরে যেতে রাজি হয়েছে।
ডোমজুড় পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি বাবলু মণ্ডল বলেন, ‘‘বাঁকড়ার যানজট বহু দিনের সমস্যা। আমরা চলতি মাসের মধ্যে নতুন জায়গায় স্ট্যান্ডগুলি চালু করে দেব। সাফাই শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রকল্প রিপোর্ট তৈরির কাজ চলছে।’’