বিধানসভা ভোটের আগে নানা ধরনের জোট-তৎপরতা অব্যাহত। মুর্শিদাবাদের বাইরে গিয়ে শনিবার উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে দরবার শরিফে গিয়ে পীরজাদা খোবায়েব আমিনের সঙ্গে বৈঠক করলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। এই অবস্থায় দলের গঠনতন্ত্রের কথা মনে করিয়ে দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছে কংগ্রেস। এ দিকে, বিজেপি ও তৃণমূল-বিরোধী শক্তি হিসাবে কংগ্রেসের প্রতি প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে ফের বার্তা দিয়েছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
কংগ্রেস নেতা খোবায়েব বর্তমানে রাজনৈতিক ভাবে তেমন সক্রিয় নন। তাঁর সঙ্গে বৈঠকের পরে হুমায়ুন বলেছেন, “সৌজন্য সাক্ষাৎ। মুসলিমদের স্বার্থে বৈঠক। রাজনীতির ব্যাপার নেই। এখন উনি কংগ্রেস করছেন। আগামী দিনে কে কোথায় থাকবেন!” পীরজাদা খোবায়েবও বলেছেন, “সৌজন্য সাক্ষাৎ। আগামী দিনে জাতির স্বার্থে কিছু করব।” দলের নেতার সঙ্গে হুমায়ুনের এই বৈঠক নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র সুমন রায়চৌধুরী অবশ্য বলেছেন, “যে কোনও দল প্রস্তাব দিতে পারে। কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র অনুযায়ী, ব্লক স্তর থেকে প্রদেশ সভাপতি, সর্বভারতীয় সভাপতি ও নেতৃত্বের আলোচনার মাধ্যমে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।”
এই সূত্রেই জোটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রশ্নে কংগ্রেসের উপরে চাপ বাড়িয়েছে সিপিএম। মালদহের রথবাড়ি মোড়ের সভায় সেলিমের বক্তব্য, “কংগ্রেস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঁধ দিয়েছিল। কংগ্রেসের মনে রাখা উচিত, মুখ্যমন্ত্রীর কাজ হয়ে গেলে ফের ছুড়ে ফেলবেন। লোকসভা ভোটে কংগ্রেস একটা আসন পেয়েছিল। লাল ঝান্ডার কর্মীরা দিন-রাত খেটেছিলেন। এখন প্রদেশ ও কেন্দ্রের কিছু কিছু নেতা কোন দিকে থাকবেন, সেটা দাঁড়িপাল্লায় মাপছেন। কারণ, কংগ্রেস নিজেরা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না!” এই সূত্রেই নিজেদের প্রস্তুতির দিকে ইঙ্গিত করে সেলিমের সংযোজন, মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য তৈরি হচ্ছেন। প্রসঙ্গত, মালদহ শহরের বৃন্দাবনী মাঠে সিপিএমের সভাটি হওয়ার কথা থাকলেও, প্রশাসন অনুমতি দেয়নি। শেষমেশ রথবাড়ি মোড়ে সভা করেছে সিপিএম। বক্তৃতা করেছেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ও।
সেলিমের বক্তব্য প্রসঙ্গে মালদহ দক্ষিণের কংগ্রেস সাংসদ ইশা খান চৌধুরী বলেছেন, “কার সঙ্গে জোট হবে, সেটা কেন্দ্রীয় ভাবে ঠিক হবে। তবে তৃণমূল, বিজেপির সঙ্গে লড়তে প্রস্তুত কংগ্রেস।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)