সরকারি স্কুলের প্রাথমিক এবং উচ্চ প্রাথমিকের পড়ুয়াদের মিড-ডে মিলে ১২টি অতিরিক্ত ডিম অথবা মরসুমি ফল দিতে হবে ৩১ মার্চের মধ্যে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে এমনটাই জানিয়েছিল শিক্ষা দফতরের অধীনস্থ মিড-ডে মিল বিভাগ। ওই বিজ্ঞপ্তির পরে ফেব্রুয়ারি মাস পেরিয়ে গিয়ে মার্চ মাসের আট দিন কেটে গেল। অভিযোগ, এই অতিরিক্ত ডিম বা ফল দেওয়া এখনও বহু স্কুলে শুরুই হয়নি।
যার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষকেরা প্রশ্ন তুলছেন, চলতি মাস শেষ হতে বাকি ২৩ দিন। তার মধ্যে রবিবার ও ছুটির দিন আছে। তা হলে যে সব স্কুলে এখনও ফল এবং ডিম দেওয়া শুরু হয়নি, সেখানে ৩১ মার্চের মধ্যে তা দেওয়া কী ভাবে সম্ভব? এমনকি, যে সব স্কুলে এই কাজ শুরু হয়েছে, সেখানেও ১২টি ডিম বা ফল দিতে পারা যাবে কিনা, উঠছে সেই প্রশ্নও।
অভিযোগ, কলকাতা লাগোয়া উত্তর ২৪ পরগনা জেলার প্রায় কোনও স্কুলেই এখনও অতিরিক্ত ডিম বা ফল দেওয়া শুরু হয়নি। নারায়ণ দাস বাঙুর মেমোরিয়াল মাল্টিপারপাজ় স্কুলের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় বড়ুয়া বলেন, ‘‘আমাদের জেলার কোনও স্কুলে এখনও মিড-ডে মিলে অতিরিক্ত ডিম বা ফল দেওয়া শুরু হয়নি। শীঘ্রই তা শুরু না হলে এই কাজ কোনও ভাবেই শেষ করা যাবে না।’’
শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, চলতি মাসের বাকি ২৩ দিনের মধ্যে তিনটি রবিবার। তা হলে হাতে থাকছে ২০ দিন। মিড-ডে মিলের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, সপ্তাহে দু’টি ডিম এমনিই পড়ুয়াদের পাওয়ার কথা। সেই হিসাবে, আগামী তিন সপ্তাহের দু’দিন করে বাদ দিলে ছ’দিন বাদ যাচ্ছে। বাকি থাকছে ১৪ দিন। বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনন্দ হান্ডা বলেন, ‘‘এই ১৪ দিনের মধ্যে ১৭ মার্চ হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মদিন, ২০-২১ মার্চ ইদ, রামনবমী ২৬ মার্চ, মহাবীর জয়ন্তী ৩১ মার্চ— এই পাঁচ দিন অতিরিক্ত ছুটি। তা হলে পড়ে রইল ন’দিন। যে সব স্কুলে এখনও অতিরিক্ত ডিম বা ফল দেওয়া শুরু হয়নি, সেখানে মাত্র এই ক’দিনে কোনও ভাবেই তা দেওয়া সম্ভব নয়। আমরা চাই, প্রতিটি পড়ুয়াকে অতিরিক্ত ডিম বা ফল দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানো হোক।’’
আনন্দের আরও দাবি, এখনও পর্যন্ত ঝাড়গ্রাম, বীরভূম, দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনায় অতিরিক্ত ডিম ও বা ফল দেওয়ার বিজ্ঞপ্তিই জারি হয়নি। হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানে সবে শুরু হয়েছে। বাকি জেলার স্কুলে অবশ্য এই অতিরিক্ত পুষ্টি জোগানের কাজ চলছে।
কলকাতার বেশ কিছু স্কুলে ফল বা ডিম দেওয়া শুরু হলেও যে সব স্কুলে উচ্চ মাধ্যমিকের আসন পড়েছিল, সেখানে এখনও এই কাজ শুরু হয়নি বলে অভিযোগ। কিছু স্কুলে সবে অতিরিক্ত ডিম বা ফল দেওয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে শহরের কয়েকটি স্কুলে আগামী দু’-এক দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর চলে আসার কথা। যা থেকে শিক্ষকদের ধারণা, সেখানে অতিরিক্ত ১২টি ডিম বা ফল দেওয়া যাবে না। যদিও শিক্ষা দফতরের এক কর্তার দাবি, সব পড়ুয়া অতিরিক্ত ডিম বা ফল পাবে। উচ্চ মাধ্যমিকের জন্য কিছু স্কুল এই কর্মসূচি শুরু করতে পারেনি। দ্রুত সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলিতে সেই কাজ শুরু হবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)