Advertisement
E-Paper

ঘর নেই, মমতার ‘শিশুআলয়ে’ বঞ্চিত শিশুরাই

রাজ্যের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির উন্নতিতে ২০১৫ সালে ‘শিশু আলয়’ প্রকল্প চালু করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রকল্পের শর্ত, প্রতিটি অঙ্গনওয়াড়ির নিজস্ব ঘর থাকতে হবে। কিন্তু হাওড়া জেলার অধিকাংশ অঙ্গনওয়াড়ি এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। জেলায় অনুমোদিত অঙ্গনওয়াড়িকেন্দ্র ৪ হাজার ৫০৬টি। চালু ৪ হাজার ১৫৭টি। নিজস্ব ঘর আছে মাত্র ১ হাজার ২২০টির। ৭০০টি কেন্দ্র চলে ভাড়াবাড়িতে। বাকিগুলি ঠাঁই নিয়েছে ক্লাব, প্রাথমিক স্কুল বা কারও বাড়ির দাওয়ায়।

নুরুল আবসার ও মনিরুল ইসলাম

শেষ আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০১:১২
বারান্দায় চলছে কেন্দ্র। উলুবেড়িয়ার কইজুড়িতে সুব্রত জানার ছবি।

বারান্দায় চলছে কেন্দ্র। উলুবেড়িয়ার কইজুড়িতে সুব্রত জানার ছবি।

প্রকল্প চালু করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। অথচ পরিকাঠামো না থাকায় মিলছে না তার সুফল।

রাজ্যের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির উন্নতিতে ২০১৫ সালে ‘শিশু আলয়’ প্রকল্প চালু করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রকল্পের শর্ত, প্রতিটি অঙ্গনওয়াড়ির নিজস্ব ঘর থাকতে হবে। কিন্তু হাওড়া জেলার অধিকাংশ অঙ্গনওয়াড়ি এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। জেলায় অনুমোদিত অঙ্গনওয়াড়িকেন্দ্র ৪ হাজার ৫০৬টি। চালু ৪ হাজার ১৫৭টি। নিজস্ব ঘর আছে মাত্র ১ হাজার ২২০টির। ৭০০টি কেন্দ্র চলে ভাড়াবাড়িতে। বাকিগুলি ঠাঁই নিয়েছে ক্লাব, প্রাথমিক স্কুল বা কারও বাড়ির দাওয়ায়।

প্রকল্পে কেন্দ্রগুলিকে সুন্দর করে সাজানোর কথা বলা হয়েছে। দেওয়ালে থাকবে নানা রকমের ছবি। ছাত্রছাত্রীদের দেওয়া হবে খেলনা। এর জন্য টাকা দেবে রাজ্য সরকার। কিন্তু ঘর না থাকায় খেলতে খেলতে পড়ার আনন্দ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অধিকাংশ পড়ুয়া। জেলা সমাজকল্যাণ দফতর সূত্রে খবর, শিশুআলয় প্রকল্প চালু করতে গেলে অঙ্গনওয়াড়িকেন্দ্রের নিজস্ব ঘর থাকতে হবে। সেখানে থাকতে হবে শৌচাগার, পানীয় জলের ব্যবস্থা। কিন্তু হাওড়ায় অধিকাংশ অঙ্গনওয়াড়িকেন্দ্রের নিজস্ব ঘরই নেই।

ইতিমধ্যে ডোমজুড়ের ৫০টি অঙ্গনওয়াড়িকেন্দ্রকে মডেল হিসাবে ধরে শিশুআলয় প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ব্লকে আরও পাঁচশো অঙ্গনওয়াড়িকেন্দ্রে এই প্রকল্প চালুর তোড়জোড় চলছে। কিন্তু বাকিগুলি পড়ে অন্ধকারে।

কেমন অবস্থা এমন অঙ্গনওয়াড়িকেন্দ্রগুলির?

বাগনানের বাইনান ঘোলপাড়া অঙ্গনওয়াড়িকেন্দ্র। দেখা গেল একটি ধান ভাঙানোর ঘরে চলছে কচিকাঁচাদের নিয়ে পড়াশোনা। শুরু হয় সকাল ১১টায়। চলে দুপুর ১টা পর্যন্ত। তখন ধান ভাঙানোর যন্ত্র বন্ধ রাখেন মালিক। পড়ুয়ার সংখ্যা ৭৮ জন। তাদের খাওয়ার জোগাড় চলছে পাশের গোয়ালঘরের বারান্দায়। ধানকলের মালিক শেখ আজিজুল বলেন, ‘‘পাড়ার কচিকাঁচারা পড়ছে। তাই ওই সময় ধানকল বন্ধ রাখি। তবে বেশি খদ্দের এলে ওদের বাইরে চলে যেতে হয়। খদ্দের চলে গেলে ফের শুরু হয় পড়াশোনা।’’

প্রায় পাঁচ বছর ধরে চললেও এখনও নিজস্ব বাড়ি তৈরি হল না কেন?

ব্লক প্রশাসন সূত্রের খবর, সরকারি নিয়ম, প্রকল্পে কেউ জমি দান করলে তবেই সরকার নিজস্ব টাকা খরচ করে ঘর করে দেবে। কিন্তু এখানে গ্রামবাসীরা জমি দিতে রাজি হননি। যদিও বাসিন্দারা জানান, কাঠা দুই জমি তাঁরা অনেকেই দিতে রাজি। কিন্তু একটি চাকরি দিতে হবে। এমনই হাল আরও বহু কেন্দ্রের।

জেলা সমাজকল্যাণ দফতর সূত্রে খবর, চাকরির শর্তে জমি দেওয়ার পাশপাশি অনেকে আবার চাইছেন জমি দাতার নাম যেন কেন্দ্রের দেওয়ালে খোদাই থাকে। তবে চাকরির দাবি মানা সম্ভব না হলেও কেন্দ্রের দেওয়ালে জমিদাতাদের নাম খোদাইয়ে আপত্তি নেই বলে জানিয়েছে জেলা সমাজকল্যাণ দফতর। দফতরের এক কর্তার দাবি, জমিদাতাদ‌ের নাম লিখে রাখার বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পরে কিছুটা হল‌েও মানুষের মধ্যে জমি দেওয়ার আগ্রহ বেড়েছে।

জেলা পরিষদের শিশু ও নারী উন্নয়ন, জনকল্যাণ ও ত্রাণ বিষয়ক স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ আম্বিয়া খাতুন বলেন, ‘‘এই বিজ্ঞপ্তিকে হাতিয়ার করে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির জন্য জমি সংগ্রহে জোর দেওয়া হচ্ছে। গ্রামবাসীদের মধ্যে প্রচারও করা হবে। যাতে প্রতিটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র শিশু আলয়ের মতো পড়ুয়া বান্ধব প্রকল্পের সুযোগ পায় তার চেষ্টা চলছে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy