×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ই-পেপার

কলসেন্টার খুলে বিমার টাকা ফেরতের নামে প্রতারণা, ধৃত ২

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ১০ জানুয়ারি ২০২১ ০৩:৩৩
—প্রতীকী ছবি

—প্রতীকী ছবি

তামাদি হয়ে যাওয়া বিমার টাকা ফেরত দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হল দুই ব্যক্তি। এক ব্যক্তির করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ দেখে, রীতিমতো অফিস খুলে চলছিল এই প্রতারণার কাজ। শুক্রবার রাতে নিউ টাউন এলাকায় ওই অফিসে হানা দিয়ে দু’জনকে ধরেছে বিধাননগর পুলিশ। ধৃতদের নাম গোপীনাথ শর্মা এবং অমিত মণ্ডল।

পুলিশ জানায়, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি শুক্রবার বিধাননগর সাইবার থানায় প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানান, তাঁর একটি বিমা তামাদি হয়ে গিয়েছিল। সম্প্রতি এক ব্যক্তি নিজেকে বিমা সংস্থার প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে তাঁকে ফোন করেন। তামাদি হয়ে যাওয়া বিমার টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেবেন বলে জানান ওই ব্যক্তি। টাকা ফেরত নিতে হলে তাঁকে নিউ টাউনের অফিসে যেতে হবে বলে জানানো হয়। এর পরে অভিযোগকারী সেই অফিসে যান। সেখানে অর্পণ ঘোষ বলে পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। অর্পণ বিমার টাকা ফেরত দেওয়ার সব ব্যবস্থা করে দেবেন বলে আশ্বস্ত করেন অভিজিৎবাবুকে।

অভিযোগ, টাকা ফেরত পেতে গেলে অভিযোগকারীকে প্রায় ৩০ হাজার টাকার নতুন একটি বিমা করতে হবে বলে জানানো হয়। ওই বিমা করার পরে তাঁকে আবার ফোন করে ওই অফিসে ডেকে পাঠানো হয়। এ বার তাঁর সঙ্গে অমিত মণ্ডল এবং গোপীনাথ শর্মা কথা বলেন। অভিযোগকারীকে বলা হয়, তাঁকে ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু এর জন্য জিএসটি বাবদ ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। অভিযোগকারী সেই টাকাও দিয়ে দেন। কিন্তু টাকা জমা নেওয়ার কোনও নথি তাঁকে দেওয়া হয়নি। এর পরে আবার তাঁর কাছে টাকা চাওয়া হলে সন্দেহ হয় অভিজিৎবাবুর। তখন তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন।

Advertisement

আরও পড়ুন: গত ২৪ ঘণ্টায় ২০ করোনা আক্রান্তের মৃত্যু, নতুন করে সংক্রমিত ৭৮৭

আরও পড়ুন: দুয়ারে সরকারে নাম নথিভুক্তি পৌঁছে গেল ২ কোটিতে, শুভেচ্ছা মুখ্যমন্ত্রীর

তদন্তে নেমে শুক্রবার পুলিশ ওই অফিসে হানা দেয়। দেখা যায়, কলসেন্টারের ধাঁচে কাজ হচ্ছে সেখানে। দু’জনকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি একাধিক মোবাইল ফোন, ডেবিট কার্ড, বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার স্ক্রিন শট এবং প্রিন্ট আউট, একাধিক চেক, হার্ড ডিস্ক, বিভিন্ন গ্রাহকের নথি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।

সূত্রের খবর, ধৃতদের জেরা করে চক্রের বাকি সদস্যদের তথ্য জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। আরও অনেককে একই কায়দায় প্রতারিত করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান পুলিশের।

পুলিশের একাংশের কথায়, এই ধরনের প্রতারণার ফাঁদ এড়াতে সাধারণ মানুষকে বার বার বার্তা দেওয়া হলেও একাংশের হুঁশ ফিরছে না। কেউ ফোন করে এই ধরনের কোনও প্রস্তাব দিলে সেটি যাচাই না করে সাড়া না দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে পুলিশের তরফে।

Advertisement