Advertisement
E-Paper

হাওড়ায় চিন্তা বাড়াচ্ছে ২২টি ওয়ার্ড

প্রথম থেকেই এই ২২টি ওয়ার্ডকে ‘রেড জ়োন’ ঘোষণা করেছিল প্রশাসন। তা সত্ত্বেও ওই সব এলাকায় ইতিমধ্যেই খুলে গিয়েছে সমস্ত দোকানপাট।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ জুন ২০২০ ০৪:৩০
গায়ে-গায়ে: ছোঁয়াচ এড়ানোর উপায় নেই। এমনকি, মাস্কও নেই অনেকের মুখে। এ ভাবেই চলছে ‘আনলক-১’। বুধবার, বাগুইআটিতে। ছবি: সুমন বল্লভ

গায়ে-গায়ে: ছোঁয়াচ এড়ানোর উপায় নেই। এমনকি, মাস্কও নেই অনেকের মুখে। এ ভাবেই চলছে ‘আনলক-১’। বুধবার, বাগুইআটিতে। ছবি: সুমন বল্লভ

করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে হাওড়ায় একটানা তার রেখচিত্র ছিল ঊর্ধ্বমুখী। ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে চার দফা লকডাউন। কিন্তু এখনও শহরের ২২টি ওয়ার্ড স্বস্তির শ্বাস ফেলতে দিচ্ছে না জেলা স্বাস্থ্য দফতর এবং পুরসভাকে। এই ২২টি ওয়ার্ডের মধ্যে রয়েছে টিকিয়াপাড়া, পিলখানা, মল্লিকফটকের মতো ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল এবং বস্তি এলাকা। সেখানে সংক্রমণ কমার কোনও লক্ষণ নেই। উল্টে প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা।

প্রথম থেকেই এই ২২টি ওয়ার্ডকে ‘রেড জ়োন’ ঘোষণা করেছিল প্রশাসন। তা সত্ত্বেও ওই সব এলাকায় ইতিমধ্যেই খুলে গিয়েছে সমস্ত দোকানপাট। চলতে শুরু করেছে যানবাহন। মাস্ক ছাড়াই ঘুরে বেড়াচ্ছেন লোকজন। শিকেয় উঠেছে দূরত্ব-বিধি। অভিযোগ, সব দেখেও পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার হাওড়ায় আসে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল। কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেন দলের সদস্যেরা।

রেড জ়োনে সংক্রমণ কমাতে কী ভাবছেন পুর কর্তৃপক্ষ? পুরসভার এক শীর্ষ কর্তা মেনে নিয়েছেন, ওই ওয়ার্ডগুলিতে লোকজন নিয়ম মানছেন না। তিনি জানান, বাসিন্দারা যাতে সুরক্ষা-বিধি মেনে চলেন, তা দেখার জন্য পুলিশকে বলা হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিনিধিদেরও বলা হয়েছে আক্রান্তদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিতে। নমুনা পরীক্ষাও বাড়াতে বলা হয়েছে।

মুদ্রার উল্টো পিঠও অবশ্য আছে। জেলা স্বাস্থ্য দফতর এবং পুরসভা উভয়েরই দাবি, ২২টি ওয়ার্ড ছাড়া হাওড়া শহরের বাকি ৪৪টি ওয়ার্ডে গত এক সপ্তাহে অনেকটাই কমেছে আক্রান্তের সংখ্যা। সেই কারণে ওই ওয়ার্ডগুলি ‘গ্রিন জ়োন’ হওয়ার দিকে এগোচ্ছে। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, গত এক সপ্তাহে কন্টেনমেন্ট জ়োনে সংক্রমণের হার ৭৫ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩৩ শতাংশে। স্বাস্থ্য দফতর জানাচ্ছে, হাওড়ায় এখনও কোনও ওয়ার্ড গ্রিন জ়োন হয়নি। তবে ৪৪টিতে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কম।

আরও পড়ুন: গভীর রাতে বারবার লোডশেডিং, দুই ওয়ার্ডে আতঙ্ক

হাওড়ার এক পুরকর্তা বলেন, ‘‘ওই ওয়ার্ডগুলি গ্রিন জ়োন হয়ে গিয়েছে, এখনই সেটা বলছি না। তবে নিয়মিত পরীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ ওয়ার্ডে আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে।’’ একই মত জেলা স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিকের। তিনি বলেন, ‘‘কন্টেনমেন্ট জ়োনের বাইরে থাকা ওয়ার্ডগুলিতে করোনা পজ়িটিভ রোগীর সংখ্যা কমেছে। একই সঙ্গে কন্টেনমেন্ট জ়োনও ৭৬ থেকে কমে ৩৩ হয়েছে।’’ ওই আধিকারিকের দাবি, শহরে প্রতিদিন প্রায় ৯০০ জনের লালারসের নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, আগে যেখানে ১০০ জনের পরীক্ষায় ৭০ জনের রিপোর্ট পজ়িটিভ আসত, সেখানে এখন ৩০ জনের রিপোর্ট পজ়িটিভ আসছে।

এরই মধ্যে এ দিন হাওড়ায় আসে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল। সমগ্র জেলার কী পরিস্থিতি, কোন কোন ওয়ার্ডে করোনার প্রকোপ বাড়ছে— জেলাশাসকের সঙ্গে বৈঠকে সেই খোঁজ নেন দলের সদস্যেরা। এর পরে দলটি যায় হাওড়া জেলা হাসপাতালে। যেখানে রোগীদের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে, সেই জায়গা ছাড়াও হাসপাতালের ফিভার ক্লিনিক ঘুরে দেখে তারা।

প্রতিনিধিদলের পরিদর্শনের মধ্যেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক বৃদ্ধের আত্মীয় অভিযোগ করেন, ঠিক মতো সিটি স্ক্যান পরিষেবা মিলছে না। দলের আধিকারিকেরা হাওড়ার জেলাশাসক মুক্তা আর্যকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেন। এর পরে দলটি ফুলেশ্বরের একটি বেসরকারি কোভিড হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেয়।

Coronavirus Health Covid-19
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy