E-Paper

অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় বাড়ি থেকে উদ্ধার প্রৌঢ় রেলকর্মী

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তাঁরা এ দিন দুপুরে নিখিলরঞ্জনের বাড়ি থেকে প্রচণ্ড চিৎকার এবং মারধরের আওয়াজ শুনতে পান। তার পরেই দুপুর ১টা নাগাদ ওই ঘটনা। বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ওই প্রৌঢ়ের বাড়ির সামনে এলাকাবাসীরা ভিড় করেছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:০৪

— প্রতীকী চিত্র।

বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এসে এক প্রৌঢ় ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ বলে চিৎকার করছেন। তাঁর গোটা শরীর আগুনে ঝলসে গিয়েছে। চিৎকার শুনে বেরিয়ে এসে এমন ভয়াবহ দৃশ্য দেখে আঁতকে উঠেছিলেন প্রতিবেশীরা। তাঁরা তড়িঘড়ি ওই প্রৌঢ়কে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন শিয়ালদহের বি আর সিংহ হাসপাতালে। হাসপাতাল সূত্রের খবর, প্রৌঢ়ের অবস্থা সঙ্কটজনক।

রবিবার দুপুরে এই ঘটনা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে হাওড়ার মধুসূদন বিশ্বাস লেনে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই প্রৌঢ়ের নাম নিখিলরঞ্জন বসু (৬১)। তিনি পূর্ব রেলের অবসরপ্রাপ্ত টিকিট পরীক্ষক। প্রৌঢ়ের পরিবারে আছেন স্ত্রী সুমিতা বসু এবং একমাত্র ছেলে অনিলাভ রঞ্জন বসু। অনিলাভ আগে কাজকর্ম করলেও বর্তমানে কিছু করেন না। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, নিখিলরঞ্জনের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ও ছেলের মাঝেমধ্যেই অশান্তি হত। অভিযোগ, মারধরও করা হত প্রৌঢ়কে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তাঁরা এ দিন দুপুরে নিখিলরঞ্জনের বাড়ি থেকে প্রচণ্ড চিৎকার এবং মারধরের আওয়াজ শুনতে পান। তার পরেই দুপুর ১টা নাগাদ ওই ঘটনা। বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ওই প্রৌঢ়ের বাড়ির সামনে এলাকাবাসীরা ভিড় করেছেন। মিঠু মিত্র নামে প্রতিবেশী এক মহিলা বলেন, ‘‘ঘটনার সময়ে নিখিলরঞ্জনের স্ত্রী বাড়িতে থাকলেও ছেলে অনিলাভ বাড়ি ছিলেন না। তবে, স্বামী অগ্নিদগ্ধ হলেও কেন স্ত্রী চিৎকার করলেন না বা কারও সাহায্য চাইলেন না, আমরা বুঝতে পারছি না। ওঁর বাড়িতে গিয়ে দেখি, একটি ঘরে স্ত্রী চুপ করে বসে আছেন।’’

তবে, নিখিলরঞ্জন নিজে গায়ে আগুন দিয়েছেন, না কি তাঁকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছে, তা নিয়ে ধন্দে প্রতিবেশীরা। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, ওই প্রৌঢ়ের শরীরের প্রায় ৬৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। প্রভাতকুমার মিত্র নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘‘নিখিলবাবুর স্ত্রী ও ছেলে প্রায়ই টাকাপয়সার জন্য ওঁকে মারধর করতেন। পারিবারিক সমস্যা বলে আমরা হস্তক্ষেপ করিনি। কিন্তু আজ যা ঘটল, তাতে তো মনে হচ্ছে নিখিলবাবুকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছে।’’

এই ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে আসে হাওড়া থানার পুলিশ। প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করার পরে নিখিলরঞ্জনের বাড়ি সিল করে দেন তদন্তকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রৌঢ়ের স্ত্রী ও ছেলেকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে ওই প্রৌঢ়ের সঙ্গেও কথা বলা হবে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

burnt rescue

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy