Advertisement
E-Paper

পাঁচিল ভেঙে মৃত্যু শিশুর

প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশ জানায়, প্রায় দেড় বিঘার একটি ফাঁকা জমিতে থাকা দীর্ঘ পাঁচিলটি এ দিন রাত সওয়া ৮টা নাগাদ ভেঙে পড়ে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০১৯ ০২:২৮
দুর্ঘটনার পরে এলাকায় উত্তেজনা। বৃহস্পতিবার। ছবি: দীপঙ্কর মজুমদার

দুর্ঘটনার পরে এলাকায় উত্তেজনা। বৃহস্পতিবার। ছবি: দীপঙ্কর মজুমদার

প্রায় আশি বছরের পুরনো একটি পাঁচিল। সেটির গায়ে ডাঁই করে রাখা ছিল কয়েক টন বালি ও পাথরকুচি। ভার রাখতে না পেরে সেই পাঁচিল ধসে পড়ে মৃত্যু হল মহম্মদ সাদ্দাম (২) নামে একটি শিশুর। দুর্ঘটনায় মহিলা ও শিশু-সহ মোট ১০ জন আহত হন। বৃহস্পতিবার রাতে, তপসিয়ার সেকেন্ড লেনে ওই দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশ জানায়, প্রায় দেড় বিঘার একটি ফাঁকা জমিতে থাকা দীর্ঘ পাঁচিলটি এ দিন রাত সওয়া ৮টা নাগাদ ভেঙে পড়ে। সেটির পাশেই প্রোমোটিংয়ের নির্মাণ কাজের জন্য ওই বালি ও পাথরকুচি ডাঁই করা ছিল। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জেনেছে, পাঁচিলটি নড়বড়ে অবস্থায় ছিল। এ দিন আর বালি ও পাথরকুচির ভার রাখতে না পেরে সেটি ভেঙে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেই সময়ে ওই পাঁচিলের কাছেই খেলছিল স্থানীয় বাসিন্দা কয়েকটি শিশু। কয়েক জন মহিলাও সেখানে ছিলেন। পাঁচিলটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে তাঁরা চাপা পড়েন। পুলিশ জানায়, রাতে হাসপাতালে সাদ্দামকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।

প্রত্যক্ষদর্শী মহম্মহ আরফান নামে এক তৃণমূলকর্মী জানান, ঘটনাস্থলের কাছে তাঁদের নির্বাচনী বৈঠক চলছিল। ওই পাঁচিল ধসে যাওয়ার শব্দ পেয়ে তাঁরা সেখানে ছুটে যান। আরফান বলেন, ‘‘বেরিয়ে দেখি প্রচুর লোক চিৎকার করছেন। পুলিশ ও দমকলে ফোন করে খবর দিই।’’

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

তবে স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনাগ্রস্তদের খুব বেশি ক্ষণ ধসের নীচে চাপা পড়ে থাকতে হয়নি। কিছু ক্ষণের মধ্যেই ক্রেন-সহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় লালবাজারের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। শুরু হয় পাঁচিলের ভেঙে পড়া অংশ ও বালি ও পাথরকুচি সরিয়ে উদ্ধারের কাজ। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে ডি সি (এসইডি) কল্যাণ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘পাঁচিল ও বালি চাপা পড়ে কয়েকটি শিশু ও কয়েক জন মহিলা আটকে পড়েন। সকলকেই উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।’’ পরে রাতে কলকাতা পুলিশ তার রিপোর্টে একটি শিশুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। রিপোর্টে জানানো হয়, দুর্ঘটনায় দুই মহিলা ও চারটি শিশু পাঁচিল চাপা পড়েছিল। রাতে দুর্ঘটনাস্থলে আর কেউ আটকে রয়েছে কি না, তা দেখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ কুকুর নিয়ে যাওয়া হয়।

দুর্ঘটনার পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের মন্ত্রী জাভেদ খান, তৃণমূল নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অনেকে। জাভেদ খানের কথায়, ‘‘পাঁচিলটি মজবুত ছিল না। বালি ও স্টোনচিপসের চাপে ভেঙে পড়ে। একটি শিশুর মৃত্যু হয়।’’

ঘটনাস্থলে উপস্থিত পাশের ওয়ার্ডেরই কাউন্সিলর তথা জাভেদের পুত্র ফৈয়াজ আহমেদ সেই সময় মিটিং করছিলেন। পাঁচিলের অবিকৃত একটি অংশের উপরে উঠে তিনি উদ্ধার কাজে তদারকি করছিলেন। তিনি পাঁচিল থেকে

নামার পরেই ওই অংশটিও ভেঙে পড়ে।

Broken Debris Death
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy