E-Paper

তারাতলার ঘটনায় ছয় ধৃতের ফের পুলিশি হেফাজত

মামলার তল্লাশি অভিযানে অন্যতম অভিযুক্ত কালীচরণের বাড়ি থেকে একটি ল্যাপটপ এবং লাল ও কালো রঙের দু’টি পেনড্রাইভ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এবং ওই সব বৈদ্যুতিন নথি প্রাথমিক ভাবে যাচাই করে বিভিন্ন ব্যবসা ও সম্পত্তিতে টাকা বিনিয়োগের হিসাব পাওয়া গিয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬ ০৬:৩৮
তারাতলায় ভেঙে পড়া নির্মীয়মাণ গুদামের কাঠামো।

তারাতলায় ভেঙে পড়া নির্মীয়মাণ গুদামের কাঠামো। — ফাইল চিত্র।

তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামঘর ভেঙে ১৬ জন শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রাক্তন মেয়রের আপ্ত সহায়ক কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শম্ভুনাথ বেহড়া, গুলজার হোসেন, কমল সামন্ত, দিবাকর ভান্ডারি ও আব্দুল হামিদ নামে ছয় অভিযুক্তকে ৮ জুলাই পর্যন্ত ফের পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিল আলিপুরের মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত। শনিবার এই ছয় অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজত থেকে আদালতে আনা হয়।

মামলার তল্লাশি অভিযানে অন্যতম অভিযুক্ত কালীচরণের বাড়ি থেকে একটি ল্যাপটপ এবং লাল ও কালো রঙের দু’টি পেনড্রাইভ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এবং ওই সব বৈদ্যুতিন নথি প্রাথমিক ভাবে যাচাই করে বিভিন্ন ব্যবসা ও সম্পত্তিতে টাকা বিনিয়োগের হিসাব পাওয়া গিয়েছে। ওই ল্যাপটপ এবং পেনড্রাইভের সমস্ত তথ্য উদ্ধারকরার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে মামলার তদন্তকারী অফিসার তাঁর লিখিত রিপোর্টে আদালতে জানিয়েছেন।

এ দিন কালীচরণের আইনজীবী আদালতে জামিনের আবেদন করে বলেন, ‘‘নকশা অনুমোদন থেকে মাটি পরীক্ষা, সব কিছুই পুরসভার ডিজি (বিল্ডিং)-র দফতর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হত। এ কাজে বিল্ডিং দফতরের অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারদের একটি দল রয়েছে। নকশা অনুমোদন থেকে নির্মাণের সমস্ত বিষয় ডিজি (বিল্ডিং) দফতরের দায়িত্ব। নকশা অনুমোদন থেকে নির্মাণ— মেয়রের আপ্ত সহায়ক হিসেবে কোনও ক্ষেত্রেই কালীচরণের কোনও ভূমিকা নেই। গাফিলতির অভিযোগে বরং ডিজি (বিল্ডিং) দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ারদের গ্রেফতার করা প্রয়োজন। কালীচরণের জামিনের আবেদন করা হচ্ছে।’’

সরকারি আইনজীবী সৌরীন ঘোষাল ছয় অভিযুক্তের জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, ‘‘ডিজি (বিল্ডিং)-র দফতরে একাধিক ইঞ্জিনিয়ারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁদের বয়ান অনুযায়ী তদন্ত চলছে। নকশা অনুমোদনের পরে নির্মাণের ক্ষেত্রে যা যা করণীয়, তা করা হয়নি। মাটি পরীক্ষার রিপোর্ট এবং স্ট্রাকচারের নকশার রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়নি।’’

সৌরীন জানান, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক জন বিশেষজ্ঞ ঘটনাস্থলে গিয়ে সব খতিয়ে দেখেছেন। তাঁদের মন্তব্য, সবটাই ভুলে ভরা। ২৯ হাজার বর্গফুট জুড়ে বেআইনি ভাবে নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছিল। সেই সঙ্গে সরকারি আইনজীবীর বক্তব্য, ‘‘কালীচরণের মাথায় প্রভাবশালীদের হাত রয়েছে। তাই তিনি এত বেপরোয়া। তাঁর তৈরি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পুরসভার সব বিভাগের কাজ নিয়ন্ত্রণ করতেন কালীচরণ। ফলে, দায়িত্বে থাকাসত্ত্বেও বহু অফিসার বিধি অনুযায়ী কাজ করতে পারতেন না বলেতদন্তে উঠে এসেছে। ওই ঘটনায় প্রচুর টাকার বেআইনি লেনদেন হয়েছে বলেও তথ্য মিলেছে। সেই টাকা কোথায় পৌঁছেছে, খোঁজ করা হচ্ছে। তল্লাশি অভিযানে লিখিত ও বৈদ্যুতিন নথি উদ্ধার হয়েছে।’’

এ সব ব্যাখ্যা করে তদন্তের অগ্রগতির জন্য অভিযুক্তদের ফের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করেন সরকারি আইনজীবী। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পরে সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন বিচারক।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Taratala Alipore Court

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy