E-Paper

রবীন্দ্রভারতীতে ছাত্র নিগ্রহের অভিযোগ, প্রশ্নে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা

শুভজিতের অভিযোগ, ভিডিয়ো করতে দেখেই ৩০-৪০ জন তাঁর দিকে তেড়ে আসেন। তাঁরা ভিডিয়ো ডিলিট করতে চাপ দেন। তিনি বলেন, “কোনও মতে ক্যান্টিনে আশ্রয় নিই। সেখানেও তাড়া করা হয়। ভিডিয়ো মুছে ফেলতে অস্বীকার করলে মোবাইল কেড়ে ভেঙে দেওয়া হয়।’’

হিন্দোল ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬ ০৬:৪৬
রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়।

রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। — ফাইল চিত্র।

ভিডিয়ো তোলাই কি ‘অপরাধ’? নাকি অভিযোগ চাপা দেওয়াই লক্ষ্য? রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিটি রোড ক্যাম্পাসে গত ৩০ জুনের ঘটনায় সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। এক ছাত্রের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের তাণ্ডবের ছবি তুলতে গিয়ে তাঁকে মার খেতে হয়েছে, ভেঙে দেওয়া হয়েছে তাঁর মোবাইল। অথচ, পুলিশ ঘটনাস্থলে থাকা সত্ত্বেও কোনও ভূমিকা ছিল না তাদের। এমনকি, থানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে কোনও অভিযোগও দায়ের হয়নি। বরং ঘটনাটি ক্যাম্পাসেই মেটানোর চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ওই দিন বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ বিটি রোড ক্যাম্পাসে তখন ভর্তির প্রক্রিয়া চলছিল। পড়ুয়াদের সাহায্যে এসএফআই ও এবিভিপি-সহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের তরফে হেল্প ডেস্ক খোলা হয়েছিল। অভিযোগ, এবিভিপি-র একটি মিছিল তখন ক্যাম্পাসে ঢোকে। মিছিলের শেষের কয়েক জন এসএফআইয়ের হেল্প ডেস্কের সামনে থাকা পতাকা খুলতে শুরু করেন। সেই দৃশ্য নিজের মোবাইলে রেকর্ড করছিলেন নাটক বিভাগের স্নাতকোত্তরের দ্বিতীয় সিমেস্টারের ছাত্র শুভজিৎ কর্মকার।

শুভজিতের অভিযোগ, ভিডিয়ো করতে দেখেই ৩০-৪০ জন তাঁর দিকে তেড়ে আসেন। তাঁরা ভিডিয়ো ডিলিট করতে চাপ দেন। তিনি বলেন, “কোনও মতে ক্যান্টিনে আশ্রয় নিই। সেখানেও তাড়া করা হয়। ভিডিয়ো মুছে ফেলতে অস্বীকার করলে মোবাইল কেড়ে ভেঙে দেওয়া হয়।’’ তাঁর ঘাড়ে চোট লাগে। এক্স-রে করাতে হয়। তাঁর দাবি, থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযোগ পাঠালেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। এর পরে শুভজিৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার নূপুর গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। শুভজিতের দাবি, প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কায় বিষয়টিকে অভ্যন্তরীণ স্তরেই মেটানোর চেষ্টা হয়েছে।

এসএফআইয়ের রবীন্দ্রভারতী ইউনিটের সভাপতি দিশা পাল বলেন, ‘‘আমরা ভর্তি সংক্রান্ত হেল্প ডেস্কে বসে ছিলাম। আচমকাই ওরা এসে পতাকা খুলতে শুরু করে। প্রতিবাদ করতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মিছিলে বহিরাগতেরাও ছিল।’’ এবিভিপি-র রাজ্য সম্পাদক নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্যের দাবি, ‘‘এসএফআইয়ের কর্মীরাই আমাদের বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীদের উস্কানি দিচ্ছিল। তার প্রতিবাদ করতে গিয়ে সামান্য ধস্তাধস্তি হয়েছে। মারধর বা ফোন ভাঙার অভিযোগ মিথ্যা।’’ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, নাটক বিভাগের ছাত্র শুভদীপ পাল বলেন, ‘‘শুভজিৎ ওদের কীর্তি দেখে ফেলে, তাই বাইরের লোক এনে বর্বরোচিত আক্রমণ।’’

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি কী ভাবে কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারেন, প্রশ্ন উঠছে। শুভজিতের লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার কথা মেনে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার নূপুর গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘‘পুলিশ সবটা নিয়ন্ত্রণ করেছিল। বর্তমানে উপাচার্য না থাকায় অনেক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এগোতে পারছে না। ক্যাম্পাসে মিছিল, মিটিং, জমায়েতে নিষেধাজ্ঞার পুরনো নির্দেশিকা জারি করে দিয়েছি। শুভজিতের ক্ষতিপূরণেরও ব্যবস্থা করতে এবিভিপি-কে বলা হয়েছে।’’ ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা আধিকারিক দেবাঞ্জন দাসের দাবি, ‘‘নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র দেখেই কাউকে ভিতরে ঢোকানো হয়।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Rabindra Bharati University RBU Student Harassment

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy