এসএসকেএম হাসপাতালের বোন ব্যাঙ্ক থেকে হাড় নিয়ে তা প্রতিস্থাপন করা হল নাবালক রোগীর দেহে। এসএসকেএমেই হয়েছে সেই প্রতিস্থাপন। হাসপাতাল সূত্রের খবর, রোগীর নাম ওয়াসিম রাজা (১০)। তার বাড়ি মুর্শিদাবাদে। রাজ্যে এই প্রথম বোন ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া অস্থি প্রতিস্থাপন করা হল রোগীর দেহে।
হাসপাতাল সূত্রের খবর কাঁধের নীচে টিউমারের সমস্যায় বেশ কিছু দিন ধরেই ভুগছিল ওয়াসিম। বড় আকারের ওই টিউমারটিকে অস্ত্রোপচারের সাহায্যে অপসারণ করাই একমাত্র পথ বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকেরা। সে ক্ষেত্রে ‘শূন্যস্থান পুরণের’ জন্য অতিরিক্ত অস্থির প্রয়োজন। এসএসকেএমের এক চিকিৎসক জানান, সাধারণ রোগী হলে এ ক্ষেত্রে তাঁরই দেহের কোমর বা অন্য কোনও অংশের হাড় নিয়ে ‘মেরামতির’ কাজ করা সম্ভব হত। কিন্তু ১০ বছরের শিশু ওয়াসিমের দেহের অন্য কোনও অংশ থেকে বাড়তি হাড় সংগ্রহ করা সম্ভব ছিল না।
আরও পড়ুন:
এ ক্ষেত্রে দু’টি বিকল্প ছিল। প্রথমত, কৃত্রিম (সিন্থেটিক) হাড় ব্যবহার করা। দ্বিতীয়ত, এসএসকেএম হাসপাতালে কয়েক মাস আগে চালু হওয়া বোন ব্যাঙ্কের সাহায্য নেওয়া। মৃত মানুষের হাড় বা কোনও রোগীর অস্ত্রোপচারে বাদ পড়া দেহাংশের হাড় জীবানুমুক্ত করে রাখা হয় ওই বোন ব্যাঙ্কে। প্রায় ১০ সেন্টিমিটার লম্বা এমনই একটি হাড়ের টুকরো গত ১১ মার্চ প্রতিস্থাপন করা হয় ওয়াসিমের দেহে। চিকিৎসা পরিভাষায় একে বলা হয় ‘অ্যালোগ্রাফ্ট ট্রান্সপ্ল্যান্ট’। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অস্থি প্রতিস্থাপনের পর কোনও শারীরিক সমস্যা হয়নি ওয়াসিমের। শল্য চিকিৎসা করা অংশে রক্ত চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে। এসএসকেএমের চিকিৎসক তন্ময় দত্ত মঙ্গলবার বলেন, ‘‘অস্ত্রোপচারের পরে ওই অংশে কোনও সংক্রমণ ঘটেনি। আশা করছি দ্রুত রোগী সুস্থ হয়ে উঠবে।’’