Advertisement
E-Paper

ট্রমা কেয়ারে দুই মৃত্যুর পরে আরজি করের ইমার্জেন্সি বিভাগ চালু করার উদ্যোগ! বন্ধ ছিল সেই ভাঙচুরের সময় থেকে

আরজি কর লিফ্‌টকাণ্ডে পিডব্লিউডি এবং যে সংস্থার লিফ্‌ট তাদের প্রতিনিধিদের বয়ান নিয়েছে পুলিশ।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২৬ ২১:৩৭
আরজি কর হাসপাতালের ট্রমা সেন্টার।

আরজি কর হাসপাতালের ট্রমা সেন্টার। — ফাইল চিত্র।

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের ট্রমা কেয়ারে পর পর দুই মৃত্যু নিয়ে বিতর্কের আবহে ইমার্জেন্সি বিভাগ আবার চালু করতে উদ্যোগী হলেন কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বন্ধ হয়ে থাকা ওই বিভাগ মঙ্গলবার পরিদর্শন করেছেন রাজ্যের স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহা, হাসপাতালের সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় এবং অধ্যক্ষ মানস বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বাস্থ্য ভবনেও বৈঠক হয়েছে বলে খবর। স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর, ইমার্জেন্সি বিভাগ মেরামতির জন্য অর্থ প্রাথমিক ভাবে বরাদ্দ হয়েছে। দ্রুত মেরামতি শুরুর চেষ্টাও হচ্ছে। আরজি কর আন্দোলনের সময়ে ইমার্জেন্সি বিভাগে ভাঙচুরের পর থেকে তা বন্ধ ছিল। অন্য দিকে, আরজি কর লিফ্‌টকাণ্ডে পিডব্লিউডি এবং যে সংস্থার লিফ্‌ট তাদের প্রতিনিধিদের বয়ান নিয়েছে পুলিশ।

আরজি করে ট্রমা কেয়ারে এক যুবক এবং এক প্রৌঢ়ের মৃত্যুর পরে অব্যবস্থার অভিযোগ উঠেছে। সেই সূত্র ধরেই ট্রমা কেয়ারে রোগীর চাপের বিষয়টিও প্রকাশ্যে এসেছে। হাসপাতালের সূত্রেই জানা গিয়েছে, আরজি কর আন্দোলনের সময়ে ইমার্জেন্সি বিভাগে ভাঙচুরের পর থেকে তা বন্ধ হওয়ার কারণে ট্রমা কেয়ারে রোগীর চাপ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল বিধায়ক তথা আরজি করের রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য অতীন ঘোষ জানান, ইমার্জেন্সি বিভাগ চালু করার বিষয়ে তিনি প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের সঙ্গেও কথা বলবেন। তার পরের দিন, মঙ্গলবার সেখানে পরিদর্শনে যান রাজ্যের স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা, হাসপাতালের সুপার এবং অধ্যক্ষ। হাসপাতালের একটি সূত্র বলছে, রাজ্যে এখন আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর রয়েছে। মেরামতির জন্য টেন্ডার ডাকার ক্ষেত্রে কী বিধি রয়েছে, তা দেখা হবে। হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগ চালু করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তবে স্বাস্থ্য ভবন সূত্রের খবর, শীঘ্রই চালু করা হবে ইমার্জেন্সি বিভাগ। সেই তোড়জোড় চলছে।

২০২৪ সালের অগস্টে আরজি করের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত এক চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুন করা হয়েছিল। তার প্রতিবাদে রাতদখলের ডাক দিয়েছিল নাগরিক সমাজ। ১৪ অগস্ট রাতের সেই আন্দোলনে আরজি করে বহিরাগতেরা ঢুকে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। জরুরি বিভাগে ভাঙচুর চালানো হয়। তার পর থেকে ট্রমা কেয়ার ভবনেই জরুরি বিভাগের কাজ চলছে।

অন্য দিকে, শৌচালয়ে যেতে গিয়ে প্রৌঢ় বিশ্বজিৎ সামন্তের মৃত্যুর ঘটনায় অনুসন্ধানকারী কমিটি তৈরি করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মৃতের পরিবারের অভিযোগ ছিল, রোগীর নাক দিয়ে রক্ত পড়েছিল। তার পরেও তাঁকে শৌচালয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনও স্ট্রেচার মেলেনি। কোনও নার্স বা আয়াও এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ। হাসপাতালের একটি সূত্র বলছে, ট্রমা কেয়ারে কয়েকশো শয্যা থাকলেও সেখানে পৃথক ভাবে কোনও কর্মীর ব্যবস্থা নেই। ইমার্জেন্সি বিভাগ বন্ধ থাকায় সেখানে চাপ বেড়েছে। তবে বাড়তি কর্মী নিয়োগের অনুমোদন নেই বলেই খবর।

সম্প্রতি একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে (আনন্দবাজার ডট কম তার সত্যতা যাচাই করেনি)। তাতে দেখা গিয়েছে, অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধরাধরি করে আনা হচ্ছে। হাসপাতালের সিসি ক্যামেরায় দু’বার অরূপের গতিবিধি ধরা পড়েছিল। শুক্রবার ভোরে সেই ওটির সামনেই প্রথম বার দেখা গিয়েছিল অরূপকে। ফুটেজ অনুসারে প্রায় এক ঘণ্টা পরে আহত অরূপকে উদ্ধার করে ওয়ার্ডে নিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে।

গত শুক্রবার ভোরে আরজি করের এই ট্রমা কেয়ার ভবনের লিফ্‌টে আটকে মৃত্যু হয়েছে দমদমের বাসিন্দা অরূপের। তিন বছরের সন্তানকে শৌচালয়ে নিয়ে যেতে ট্রমা কেয়ারের লিফ্‌টে উঠেছিলেন দমদমের বাসিন্দা অরূপ এবং তাঁর স্ত্রী। লিফ্‌ট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দরজায় আটকে ঘষটে মৃত্যু হয় অরূপের। রবিবার রাতে এই ট্রমা কেয়ারেই শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন প্রৌঢ় বিশ্বজিৎ। অভিযোগ, হেঁটে হেঁটে দূরের শৌচালয়ে যেতে গিয়ে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy