তৃণমূল কংগ্রেসের সেই তিন অ্যাকাউন্টে গত পাঁচ বছরের লেনদেনের সব হিসাব (স্টেটমেন্ট) ব্যাঙ্কের কাছ থেকে চেয়ে পাঠাল বিধাননগর পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ, দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক তৃণমূল বিধায়ক বিধাননগর সাইবার অপরাধ থানায় যে অভিযোগ জানান, তার ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ।
বিধায়ক অভিযোগ করেছিলেন, ওই দিনই তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে বেআইনি পথে আয়ের টাকা জমা করা হয়েছে। তিনি দ্রুত তিনটি অ্যাকাউন্টের লেনদেন আটকে দিয়ে তদন্তের আর্জি জানান পুলিশকে।
পরের দিনই বিধাননগর পুলিশ শরৎ বসু রোডের ওই বেসরকারি ব্যাঙ্কের তিনটি অ্যাকাউন্টের লেনদেন ‘ফ্রিজ’ করার নির্দেশ দেয়। পুলিশ সূত্রে খবর, তিনটি অ্যাকাউন্টে ৪৪০ কোটি টাকার মতো রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত পাঁচ বছরের জমা খরচের হিসাব ছাড়াও, ওই অ্যাকাউন্টগুলি কবে খোলা হয়েছিল, কী কী নথি দিয়ে খোলা হয়েছিল এবং অ্যাকাউন্ট খোলার সময় কারা সই করেছিলেন, সে সমস্ত তথ্যও বিশদে জানতে চাওয়া হয়েছে ব্যাঙ্কের কাছ থেকে।
অভিযোগকারী বিধায়ক তাঁর অভিযোগপত্রে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর উল্লেখ করলেও, সেই অ্যাকাউন্ট কার নামে তা উল্লেখ করেননি। তবে নির্বাচন কমিশনকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া নথি থেকে জানা যাচ্ছে, অভিযোগের তালিকায় থাকা একটি অ্যাকাউন্ট সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নামে রয়েছে। বাকি দু’টি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের ত্রিপুরা এবং গোয়া শাখার নামে নথিভুক্ত।
দক্ষিণ ২৪ পরগণার ওই বিধায়ক তিনটি অ্যাকউন্ট নিয়ে অভিযোগ জানানোর আগেই তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, শরৎ বোস রোডের ওই বেসরকারি ব্যাঙ্কের শাখায় থাকা তৃণমূলের সমস্ত অ্যাকাউন্টের লেনদেন বন্ধ রাখার আর্জি জানিয়ে চিঠি দেন ব্যঙ্ক কর্তৃপক্ষকে।
১২ জুন অরূপ বিশ্বাস তাঁর লেখা চিঠিতে নিজেকে তৃণমূল কংগ্রেসের কোষাধ্যক্ষ পরিচয় দিলেও, তৃণমূল কংগ্রেসের (মমতাপন্থী) মুখপাত্র কুণাল ঘোষ দাবি করেন, অরূপ আর কোষাধ্যক্ষ পদে নেই। ৫ জুন দলের কর্মসমিতির বৈঠকে শুভাশিস চক্রবর্তীকে কোষাধ্যক্ষ পদে মনোনীত করা হয়েছে বলেও কুণাল দাবি করেন। যদিও পুলিশ সূত্রে খবর, কোষাধ্যক্ষ পরিবর্তন হলে, ‘সিগনেটরি’ বা স্বাক্ষরকারী বদলের জন্য ব্যাঙ্কে যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়, তা দল বা ‘নতুন কোষাধ্যক্ষ’ কারও তরফ থেকেই করা হয়নি।
তৃণমূলের এই অ্যাকাউন্ট বিতর্ক গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্টেও। মমতা অনুগামী তৃণমূল ‘ফ্রিজ়ড’ অ্যাকাউন্ট খোলার আর্জি জানিয়ে মামলা করেছে। অন্য দিকে অরূপ বিশ্বাস যোগ দিয়ে ফেলেছেন দলের বিদ্রোহী শিবিরে। এই পরিস্থিতিতে তহবিলের দখল নিয়ে আদালতে দীর্ঘ লড়াই হবে এই আশঙ্কা দুই শিবিরেই। আর সেই লড়াইয়ে পুলিশি তদন্তের রিপোর্ট বড় ভূমিকা পালন করবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- বিধানসভার পরে লোকসভাতেও তৃণমূল হাতছাড়া হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
- লোকসভার ২৮ জন তৃণমূল সাংসদের মধ্যে ২০ জনই মমতাকে ছেড়ে যোগ দিলেন বিদ্রোহী শিবিরে।
- জোড়াফুলের এই ২০ সাংসদ এর পর যোগ দিতে চাইছেন কেন্দ্রে বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট এনডিএ-তে।
-
মতুয়া ভোটব্যাঙ্কে ভর করে উত্থান, মন্ত্রী হয়েই নানা অভিযোগে বিদ্ধ! কী ভাবে তৃণমূলের দাপুটে নেতা হয়ে ওঠেন বালু?
-
তৃণমূল ভাঙতে জোড়াফুল সাংসদদের সঙ্গে যোগাযোগ! সদা গোপনে থেকে মমতার দলকে টুকরো করা কে এই রমেশ?
-
মমতার বাড়িতে বৈঠকের মাঝে বাগ্বিতণ্ডা অভিষেক-কুণালের! তর্কাতর্কি সামাল দিতে দলনেত্রী বললেন, ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল
-
তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরে এ বার সুদীপও! শতাব্দীর সঙ্গেই দিল্লি পৌঁছে একই গাড়ি চড়ে গেলেন সেই ভূপেন্দ্রর বাড়িতে
-
ফোন করেননি মমতা, কালীঘাট গেলেন না কল্যাণও! পিসিই থাকবেন, না কি দিদিকে ফিরে পাওয়া যাবে? চর্চা তৃণমূলে