E-Paper

দেড় মাস যাবৎ নিখোঁজ ছেলে, তদন্তের গতি নিয়ে অখুশি পরিবার

গত ২১ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ পড়তে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল প্রীতম। বেলেঘাটা দেশবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সে।

শেষ আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬ ০৮:৫৪
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

বাড়ি থেকে বেরোনোর সময়ে মাকে বলেছিল, ‘‘পড়তে যাচ্ছি।’’ কাঁধে ছিল স্কুলব্যাগ। ২১ এপ্রিলের সেই সন্ধ্যার পরে কেটে গিয়েছে প্রায় দেড় মাস। কিন্তু এখনও খোঁজ মেলেনি বেলেঘাটা ৯৫ বস্তির বাসিন্দা ১৪ বছরের প্রীতম দাসের। ছেলের ফেরার অপেক্ষায় থাকা প্রীতমের মা-বাবা পুলিশি তদন্তের গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার এই ঘটনার তদন্তে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১৩৭(২) ধারায় অপহরণের মামলা রুজু করে তদন্ত করছে পুলিশ।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২১ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ পড়তে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল প্রীতম। বেলেঘাটা দেশবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সে। ছেলে বাড়ি না ফেরায় ওই রাতেই বেলেঘাটা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন পরিজনেরা। পরে অপহরণের মামলা রুজু করা হয়।

প্রীতমের বাবা প্রসেনজিৎ দাস একটি বেসরকারি সংস্থায় হাউসকিপিংয়ের কর্মী। তিনি জানান, প্রীতমের স্নায়ুর অল্প সমস্যা ছিল। তার জন্য চিকিৎসাও চলছিল। প্রসেনজিতের অভিযোগ, ‘‘এক মাসেরও বেশি আগে অভিযোগ করেছি। কিন্তু নির্বাচন-সহ নানা কাজ দেখিয়ে বার বার অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।’’ পরিবারের অভিযোগ, তদন্ত এগোলেও সেই গতি প্রত্যাশার তুলনায় অত্যন্ত ধীর।

কী হয়েছিল গত ২১ এপ্রিল? সকালে স্কুলে না যাওয়ায় ছেলেকে বকেছিলেন মা বুলা দাস। সেই স্মৃতিই এখন বার বার ফিরে আসছে তাঁর কাছে। বুলার কথায়, ‘‘সন্ধ্যায় নিজেই বলল পড়তে যাচ্ছে। তার পরে আর ফিরল না। এখন শুধু জানতে চাই, আমার ছেলে কোথায় আছে।’’

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রীতম অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের। পাড়ার বাইরে খুব একটা যেত না। তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহপাঠী রাজ কুণ্ডু বলে, ‘‘স্কুলে আমার সঙ্গেই বেশি কথা বলত প্রীতম।’’

প্রীতম নিয়মিত পড়তে যেত শিক্ষিকা মহুয়া মুন্সির কাছে। মহুয়া জানান, সে দিন প্রীতমের কাকার মেয়ে অঙ্কিতা একাই পড়তে এসেছিল। তিনি বলেন, ‘‘অঙ্কিতাকে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, প্রীতম কোথায়? পরে জানতে পারি, সে বাড়ি থেকে বেরোলেও পড়তে আসেনি।’’

তদন্তে উঠে এসেছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। কিশোরের পরিবারের দাবি, সিসি ক্যামেরার ফুটেজে প্রীতমকে চিংড়িঘাটা দুর্গামন্দিরের দিক দিয়ে সায়েন্স সিটির দিকে যেতে দেখা গিয়েছে। তখন তার পিঠে ব্যাগ ছিল। পরে দেখা যায়, একই রাস্তা ধরে সে ফিরছে, কিন্তু ব্যাগ নেই।

পুলিশ সূত্রের খবর, বেলেঘাটা থানা এবং লালবাজারের মিসিং পার্সনস স্কোয়াড যৌথ ভাবে ঘটনার তদন্ত করছে। প্রীতমের সম্ভাব্য যাতায়াতের পথের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখা হয়েছে। শহর, শহরতলি এবং রাজ্যের বিভিন্ন থানায় পাঠানো হয়েছে তার ছবি। তবে প্রীতমের যাতায়াতের পথের কিছু সিসি ক্যামেরা বিকল থাকায় তদন্তে সমস্যা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও দাবি, গত ২১ এপ্রিল রাত থেকেই তাঁরা নিজেদের উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার লাগানো শুরু করেন। নিখোঁজ কিশোরের পরিবারের দাবি, এর আগে দু’-এক বার বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেও সে দিনই ফিরে এসেছিল প্রীতম।

আগামী অগস্টে প্রীতমের জন্মদিন। সেই উপলক্ষে ছেলেকে একটি সাইকেল উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন মা-বাবা। আপাতত পরিবারের একটাই দাবি, তদন্তে গতি এনে যত দ্রুত প্রীতমকে
অক্ষত খুঁজে বার করুক পুলিশ।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Missing

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy