Advertisement
E-Paper

হ্যারি কেনই ভরসা ইংরেজদের, প্রত্যাশার চাপ সামলে পারফর্ম করাই বিশ্বকাপে টুখেলের দলের আসল চ্যালেঞ্জ

গত বারও গ্যারেথ সাউথগেটের দলকে নিয়ে বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন ইংল্যান্ডের ফুটবলপ্রেমীরা। এ বার টমাস টুখেলের দলকে নিয়ে আশায় রয়েছেন তাঁরা। প্রধান ভরসা সেই হ্যারি কেন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬ ০৯:৫৭
picture of football

বিশ্বকাপ জেতার অন্যতম দাবিদার ইংল্যান্ড। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

প্রতি বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ইংল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ঢাকঢোল পেটাতে শুরু করে। কখনও ডেভিড বেকহ্যাম, কখনও মাইকেল ওয়েন, কখনও ওয়েন রুনি, কখনও হ্যারি কেন। বিশ্বজয়ের জন্য একেক বার একেক জনের দিকে তাকিয়ে থাকেন ইংরেজরা। প্রিমিয়ার লিগের পরিকাঠামো এবং তীব্র প্রতিযোগিতা নিয়ে ইংল্যান্ডের ফুটবলপ্রেমী এবং বিশেষজ্ঞদের বিশেষ শ্লাঘা আছে। তাঁদের বিশ্বাস, বিশ্বের অন্যতম কঠিন লিগে খেলে উঠে আসা জাতীয় দলের ফুটবলারেরা স্বপ্ন সফল করবেন।

১৯৬৬ ছাড়া ইংরেজদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি। গত বারও গ্যারেথ সাউথগেটের দলকে নিয়ে বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন ইংল্যান্ডের ফুটবলপ্রেমীরা। ২০২০ এবং ২০২৪ সালে পর পর দু’বার ইউরো কাপ রানার্স হওয়ায় আশা তৈরি হয়েছিল। এ বার টমাস টুখেলের দলকে নিয়েও আশায় রয়েছেন তাঁরা। প্রধান ভরসা সেই হ্যারি কেন। বায়ার্ন মিউনিখের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকারের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা। তারুণ্য এবং অভিজ্ঞতার মিশেলে দল তৈরি করেছেন টুখেল। ট্রফি জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসাবেই আমেরিকায় যাবে ইংল্যান্ড।

শক্তি

প্রচুর বিকল্প – বিশ্বকাপে টুখেলের অন্যতম শক্তি তাঁর হাতে থাকা বিকল্প। ২৬ জন ফুটবলারের মধ্যে ২২-২৩ জন অনায়াসে প্রথম একাদশে জায়গা পেতে পারেন। ফুটবলারেরা ইপিএল-সহ বিশ্বের প্রথম সারির লিগগুলিতে খেলেন। অভিজ্ঞতা এবং লড়াকু মানসিকতার অভাব নেই।

খেলার গতি- ইংল্যান্ডের ফুটবলারেরা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে আক্রমণে উঠতে বা রক্ষণে নামতে পারেন। একাধিক বিশ্বমানের স্ট্রাইকার রয়েছে দলে। হ্যারি কেন দরকারে মাঝমাঠে নেমে খেলা তৈরি করতে পারেন। মাঠের দু’প্রান্ত ব্যবহার করে আক্রমণ তৈরির ক্ষেত্রে ইংল্যান্ডের জুড়ি মেলা ভার।

শক্তিশালী ফাইনাল থার্ড- টুখেলের হাতে রয়েছেন বেশ কয়েক জন আগ্রাসী মানসিকতার ফুটবলার। যাঁরা সর্বক্ষণ প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখতে পারেন। চাপে রাখেন। প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে একসঙ্গে পাঁচ-ছ’জন ফুটবলার উঠে যান। আচমকা দূরপাল্লার শটে প্রতিপক্ষ রক্ষণকে নাড়িয়ে দিতে পারে ইংল্যান্ড।

দুর্বলতা

কৌশলগত রক্ষণশীল মানসিকতা- আগে গোল পেয়ে গেলে রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলার প্রবণতা রয়েছে ইংল্যান্ডের। অনেক সময় মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণও হারিয়ে ফেলে। তাতে পাল্টা চাপে পড়ে যায়। ইংল্যান্ডের এই রোগ অবশ্য নতুন নয়।

রক্ষণের দুর্বলতা- এজ়রি কনসা, মার্ক গেহি-সহ দলে একাধিক বিশ্বমানের ডিফেন্ডার রয়েছে। যোগ্যতা অর্জন পর্বের আটটি ম্যাচে কোনও গোল খায়নি ইংল্যান্ড। তা-ও ইংল্যান্ডের দুর্বলতার অন্যতম জায়গা রক্ষণ। দ্রুতগতির আক্রমণ রোখার ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। এ ছাড়া বেশিক্ষণ চাপ সামলাতে পারেন না কনসা-গেহিরা।

প্রত্যাশার চাপ- প্রথম বিশ্বকাপ জেতার পর ৬০ বছর কেটে গিয়েছে। ইংল্যান্ড দলের উপর এ বারও প্রত্যাশার পাহাড় প্রমাণ চাপ থাকবে। ইংল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম কয়েক মাস আগে থেকে ঢাকঢোল পেটাতে শুরু করে দিয়েছে। প্রত্যাশার চাপ ইংল্যান্ডকে সমস্যায় ফেলতে পারে নকআউট পর্বে।

সম্ভাবনা

বিশ্বকাপে তুলনামূলক সহজ গ্রুপে রয়েছে ইংল্যান্ড। গ্রুপ ‘এল’-এ প্রতিপক্ষ হিসাবে রয়েছে ক্রোয়েশিয়া, ঘানা এবং পানামা। ক্রোয়েশিয়া ছাড়া তেমন কঠিন প্রতিপক্ষ নেই। প্রিকোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত খুব কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলতে হবে না ইংল্যান্ডকে।

আশঙ্কা

বড় প্রতিযোগিতায় ইংল্যান্ডের সাফল্যের হার বেশ কম। লাতিন আমেরিকার আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল বা ইউরোপের জার্মানি, পর্তুগাল, স্পেন, ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী দলগুলির বিরুদ্ধে সমস্যায় পড়তে পারে টুখেলের দল।

প্রধান খেলোয়াড়

ইংল্যান্ডের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে চার ফুটবলারের উপর। আক্রমণে হ্যারি কেন, বুকায়ো সাকা, মাঝমাঠে জুড বেলিংহ্যাম এবং রক্ষণে কনসার পারফরম্যান্সের উপর।

বিশ্বকাপের ইংল্যান্ড দল

গোলরক্ষক

জর্ডন পিকফোর্ড, ডিন হেন্ডারসন, জেমস ট্র্যাফোর্ড।

ডিফেন্ডার

রিস জেমস, এজ়রি কনসা, জ্যারেল কোয়ানসা, জন স্টোনস, মার্ক গেহি, ড্যান বার্ন, নিকো ও'রেইলি, জেড স্পেন্স, টিনো লিভরামেন্টো।

মিডফিল্ডার

ডেক্লান রাইস, ইলিয়ট অ্যান্ডারসন, কোবি মেইনু, জর্ডন হেন্ডারসন, মর্গ্যান রজার্স, জুড বেলিংহ্যাম, এবেরেচি এজ়ে।

ফরোয়ার্ড

হ্যারি কেন, ইভান টোনি, ওলি ওয়াটকিন্স, বুকায়ো সাকা, মার্কাস র‌্যাশফোর্ড, অ্যান্টনি গর্ডন, ননি মাদুকে।

সংক্ষেপে
  • ১১ জুন থেকে শুরু হবে ফুটবল বিশ্বকাপ। এ বার প্রথম ৪৮টি দেশকে নিয়ে প্রতিযোগিতা আয়োজন করছে ফিফা।
  • আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ হবে তিনটি দেশে। আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক। তিনটি দেশে আলাদা আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা নিয়েছে ফিফা।
  • বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ হবে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে। ১১ জুন মেক্সিকোর বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা।
সর্বশেষ
১৬ ঘণ্টা আগে
England Harry Kane
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy