সেই ২০১০-এর কথা। প্রথম ম্যাচে সুইৎজ়ারল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপ শুরু করা স্পেন যে শেষ পর্যন্ত ট্রফি হাতে তুলবে তা অনেকেই ভাবতে পারেননি। জ়াভি, আন্দ্রে ইনিয়েস্তা, কার্লেস পুয়োলদের সেই দল অসম্ভবকে সম্ভব করেছিল। তার পর থেকে শুধুই হতাশা। প্রতি বারই ফুটবল বিশ্বকাপ এলে স্পেনকে ট্রফির দাবিদার ধরা হয়। কিন্তু গত তিনটি বিশ্বকাপের কোনও টিতেই স্পেন শেষ ষোলোর বাধা পেরোতে পারেনি। তবে গত তিন বছরের মধ্যে ইউরো কাপ, নেশন্স লিগ জেতায় স্পেন দলকে নিয়ে আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন সমর্থকেরা। বিশ্বকাপের আগে স্পেন দলের বিশ্লেষণ করল আনন্দবাজার ডট কম।
শক্তি
১) কৌশলগত দাপটের দিক থেকে স্পেন দলের মিডফিল্ড বিশ্বকাপের মধ্যে সবচেয়ে ভাল। রদ্রি খেলা তৈরি করেন। এ ছাড়া পেদ্রি, গাভি এবং ফ্যাবিয়ান রুইজ়ের সাহায্যে স্পেন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ করা, বল নিয়ন্ত্রণ এবং চাপের সাহায্যে প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। মাঝমাঠে তাদের ভারসাম্য বিশ্বের অন্যতম সেরা বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞেরা।
২) অতীতে স্পেন দল ছোট পাসে খেলতে পছন্দ করত। এই দল ডিরেক্ট আক্রমণাত্মক পাস খেলতে পছন্দ করে। লেমিনে ইয়ামাল এবং নিকো উইলিয়ামসের ড্রিবলিং, গতি, একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে দক্ষতা অন্যতম। ২০১০-এ যে দল খেলেছিল, তাদের থেকেও দ্রুত এই স্পেন দল খেলা বদলে দিতে পারে। ইয়ামাল বিশ্বকাপের মহাতারকা হতে পারেন।
৩) পুরনো তিকিতাকা ফুটবল থেকে স্পেনকে সরিয়ে এনেছেন কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তে। এই দল পজেশনাল ফুটবল, আক্রমণাত্মক ফুটবল এবং প্রতি আক্রমণ নির্ভর ফুটবল খেলতে পারে। ৪-৩-৩ ছক থেকে দ্রুত ৪-২-৩-১ ছকে বদলে যেতে পারে। মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বাকিদের থেকে স্পেনকে আলাদা করে দেবে।
৪) এই দলের বেশির ভাগ ফুটবলার একসঙ্গে যুব দলে দীর্ঘ দিন খেলেছেন। ফলে বোঝাপড়া অনবদ্য। ২০২৪ ইউরোজয়ী দলের ১৬ জন ফুটবলার রয়েছেন। রিয়াল মাদ্রিদের একজনও ফুটবলার না নিয়ে ফুয়েন্তে বুঝিয়েছেন, তাঁর ক্লাবপ্রীতি নেই।
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
দুর্বলতা
১) সঠিক মানের স্ট্রাইকার, অর্থাৎ ‘নাম্বার নাইন’ যাকে বলে, তা স্পেনের দলে নেই। মিকেল ওয়ারজ়াবাল, ফেরান তোরেস, বোরহা ইগলেসিয়াসেরা গোল করতে পারেন। কিন্তু ফ্রান্স, ইংল্যান্ড বা আর্জেন্টিনার সেরা ফরোয়ার্ডদের মতো গোল করার নিখুঁত দক্ষতা তাঁদের নেই। নকআউট ম্যাচে এটি ফারাক গড়ে দিতে পারে।
২) বিপক্ষের প্রতি আক্রমণের সময় স্পেনের রক্ষণের দুর্বলতা প্রকট হয়ে পড়তে পারে। পাউ কুবারসির মতো তরুণ ডিফেন্ডারেরা প্রতিভাবান। তবে বিশ্বকাপে খেলার পক্ষে অনভিজ্ঞ। বিধ্বংসী ফরোয়ার্ড থাকা দলের সামনে স্পেন বিপদে পড়তে পারে।
৩) পেদ্রি, গাভি, রদ্রি, ইয়ামালের মতো ফুটবলারেরা চোটপ্রবণ। স্পেন দলের টেকনিক্যাল দক্ষতা এতটাই নিখুঁত যে ছোটখাটো চোটও পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে।
৪) উনাই সিমন না ডেভিড রায়া, কে শুরু করবেন? কারও মতে, ক্লাবের ফর্মের কারণে রায়া এগিয়ে থাকবেন। তবে এটি বড় সমস্যা নয়। তবে খেলাতে হতে শুরু থেকেই একজনকে বেছে নিতে হবে।
সম্ভাবনা
১) দীর্ঘ দিন পর স্পেনের আর একটা সোনালি প্রজন্ম এসে হাজির। ইয়ামাল, পেদ্রি, গাভি, কুবারসিরা আগামী এক দশক আন্তর্জাতিক ফুটবল শাসন করতে পারেন।
২) ৪৮ দলের বিশ্বকাপও স্পেনকে সাহায্য করবে। লম্বা প্রতিযোগিতায় যে দলের গভীরতা এবং ট্যাকটিক্যাল দক্ষতা যত ভাল, তাদের তত বেশি সুবিধা।
৩) ২০২৪ ইউরো কাপ জেতার ফলে এই দলের আলাদা আত্মবিশ্বাস রয়েছে। বড় নকআউট ম্যাচে কী ভাবে চাপ সামলাতে হবে সেটা স্পেনের ফুটবলারেরা জানেন।
৪) টেকনিক্যাল দক্ষতার সঙ্গে গতি এবং শারীরিক সক্ষমতা মিশে স্পেনকে বাকিদের থেকে আলাদা করেছে। এই বিবর্তন তাদের এগিয়ে রাখবে বাকিদের থেকে।
আরও পড়ুন:
শঙ্কা
১) ফ্রান্স, ব্রাজ়িল, আর্জেন্টিনার মতো দল প্রতি আক্রমণ নির্ভর ফুটবল খেলে স্পেনের অতি আগ্রাসী ফুটবলকে বিপদে ফেলতে পারে।
২) ইয়ামাল, পেদ্রির মতো খেলোয়াড়দের ফর্ম খারাপ থাকলে বিপদে পড়তে পারে স্পেন। তা ছাড়া বিশ্বকাপের মঞ্চে তরুণ ফুটবলারদের আবেগ সামলানোর ক্ষমতাও বেশ কম।
৩) শারীরিক ভাবে শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে সমস্যায় পড়তে পারেস্পেন। যে দলের রক্ষণ শক্তিশালী, তাদের সামনে স্পেনের স্বাভাবিক ফুটবলের ছন্দ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
৪) অনেক সময় ভাল দলও বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে চারে থাকে। প্রত্যাশা অনেক বেশি থাকায় তরুণ ফুটবলারেরা চাপে থাকতে পারেন।সার্বিক পর্যবেক্ষণস্পেন বিশ্বকাপ জয়ের দাবিদার। তবে তারা কতটা সুযোগ কাজে লাগাতে পারছে, চাপের মুখে কতটা ভাল খেলতে পারছে, ফুটবলারেরা কতটা ফিট তার উপরে অনেক কিছু নির্ভর করছে।
আরও পড়ুন:
স্পেন দল
গোলকিপার— উনাই সিমন, ডেভিড রায়া, জোয়ান গার্সিয়া।
ডিফেন্ডার— পেদ্রো পোরো, মার্কোস লোরেন্তে, আয়মেরিক লাপোর্তে, পাউ কুবারসি, মার্ক পুবিল, এরিক গার্সিয়া, মার্ক কুকুরেয়া, আলেজান্দ্রো গ্রিমাল্দো।
মিডফিল্ডার— রদ্রি, মার্তিন জ়ুবিমেন্দি, পেদ্রি, ফ্যাবিয়ান রুইজ়, মিকেল মেরিনো, গাভি, আলেক্স বায়েনা।
ফরোয়ার্ড— মিকেল ওয়ারজ়াবাল, লেমিনে ইয়ামাল, ফেরান তোরেস, বোরহা ইগলেসিয়াস, দানি অলমো, ভিক্টর মুনোজ়, নিকো উইলিয়ামস, ইয়েরেমি পিনো।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ১১ জুন থেকে শুরু হবে ফুটবল বিশ্বকাপ। এ বার প্রথম ৪৮টি দেশকে নিয়ে প্রতিযোগিতা আয়োজন করছে ফিফা।
- আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ হবে তিনটি দেশে। আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক। তিনটি দেশে আলাদা আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা নিয়েছে ফিফা।
- বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ হবে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে। ১১ জুন মেক্সিকোর বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা।
-
১৫:১৩
তরুণ তুর্কিদের মাঝে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছেন ৪০-এর ‘বৃদ্ধ’রাও! বুড়ো হাড়ে ভেলকি দেখাতে তৈরি যে সাত তারকা -
১৪:০৪
৫ গোলকিপার: অবসর ভেঙে ফেরা ন্যুয়ের থেকে বিশ্বকাপ জেতানো মার্তিনেজ়, নজর থাকবে যাঁদের দিকে -
১৩:৪৪
বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে ধাক্কা ফ্রান্স-স্পেনের, আইভোরি কোস্টের কাছে হার এমবাপেদের! ইরাক আটকে দিল ফুয়েন্তের দলকে -
১০:০৯
আরও ক্ষমতা বাড়ছে ভার-এর, ফুটবলারেরা সময় নষ্ট করলেই পড়বেন বিপদে, বিশ্বকাপে নতুন কী কী নিয়ম দেখতে পাওয়া যাবে? -
৫ মিডফিল্ডার: চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী ভিটিনহা থেকে প্রতিভাবান বেলিংহ্যাম, ফুটবল বিশ্বকাপে মাঝমাঠ কাঁপাতে চলেছেন কোন ফুটবলারেরা?