বাসের টক্করে মৃত্যু, ধুন্ধুমার শ্যামবাজারে
নিজস্ব সংবাদদাতা
বেসরকারি বাসের বেপরোয়া রেষারেষিতে ফের প্রাণহানি। এবং তার জেরে ধুন্ধুমার কাণ্ড উত্তর কলকাতার ফড়িয়াপুকুরে। আর জি কর হাসপাতাল সূত্রের খবর, শুক্রবার রাতের ওই দুর্ঘটনায় মৃতের নাম অশোক বাড়ুই (৫৫)। বাড়ি যদু মিত্র লেনে। এক মহিলা-সহ তিন পথচারী জখম হয়েছেন। পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার পরেই ক্ষিপ্ত জনতা পাঁচটি বাস ভাঙচুর করে। অবরোধের ফলে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রোডে প্রায় দু’ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পুলিশ ঘাতক বাসটিকে আটক করলেও চালক এবং কন্ডাক্টর পলাতক। ঠিক কী ঘটেছিল? পুলিশের খবর, রাত ৯টা নাগাদ ৩সি/১ রুটের একটি বেসরকারি বাস নাগেরবাজার থেকে আনন্দপুর যাচ্ছিল। ফড়িয়াপুকুর মোড় থেকে ওই রুটের অন্য একটি বাসের সঙ্গে শুরু হয় তার রেষারেষি। তখনই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক পথচারীকে পিষে দেয় সে। অন্য তিন পথচারী বাসের ধাক্কায় জখম হন। চার জনকেই আর জি করে পাঠানো হয়। হাসপাতালে এক জনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরেই এলাকায় গোলমাল শুরু হয়ে যায়। পথ অবরোধ হয়। বিশাল বাহিনী নিয়ে পুলিশকর্তারা চলে আসেন। তাঁদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় জনতা। মনুকুমার সিংহ নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “রেষারেষি করতে গিয়ে বাসটি চার পথচারী ছাড়াও একটি ভ্যানে ধাক্কা মারে। ভ্যানচালক লাফিয়ে পড়ায় রক্ষা পান।” স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শ্যামবাজারের কাছেই ফড়িয়াপুকুরের মতো ব্যস্ত মোড়ে বাস-মিনিবাস বেপরোয়া ভাবে যাতায়াত করে। বারবার প্রতিবাদ করে বা পুলিশকে বলেও ফল হয়নি। ডিসি (উত্তর) বাস্তব বৈদ্য বলেন, “এ দিনের দুর্ঘটনা রেষারেষির জেরেই ঘটেছে। পুলিশ ব্যবস্থাও নিয়েছে। তবে বাসে-বাসে টক্করের ব্যাপারটা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।”
উদ্বিগ্ন সর্বোচ্চ আদালত
ভারতীয় জাদুঘরের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার একটি মামলার শুনানির সময়ে দুই বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ প্রাথমিক ভাবে জানায়, জাদুঘরের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্তের দেখভাল করতে পারে কলকাতা হাইকোর্ট। জাদুঘরের সংরক্ষণ আধিকারিক সুনীল উপাধ্যায়ের এক আত্মীয়ের করা আবেদনের শুনানি ছিল এ দিন। বেঞ্চ আরও জানায়, জাদুঘরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। কী ভাবে তদন্ত করা যেতে পারে, তা নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত হবে। সুনীলবাবু অবশ্য কয়েক মাস ধরে নিখোঁজ। ভারতীয় পুরাকীর্তি বিদেশের সদবি বা ক্রিস্টির মতো নিলাম ঘরে চলে যাচ্ছে বলে সম্প্রতি কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) যে রিপোর্ট দেয়, তাতেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এর তদন্তের কী উপায় রয়েছে, তা নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। জাদুঘরের মুখপাত্র তথা শিক্ষা অধিকর্তা সায়ন ভট্টাচার্য বলেন, “এটি আদালতের বিষয়। এ ব্যাপারে মন্তব্য করব না।”
শিশুর দেহ উদ্ধার
হাওড়া ও পঞ্চসায়রের পরে এ বার বেহালা। শুক্রবার সকালে বেহালা এলাকায় ফের উদ্ধার হল অজ্ঞাতপরিচয় এক শিশুকন্যার দেহ। এ দিন ডায়মন্ড হারবার রোডে বেহালা বাজারের কাছে পুরসভার একটি পরিত্যক্ত ভ্যাটে প্লাস্টিকের প্যাকেটের মধ্যে থেকে একটি শিশুর মাথা বেরিয়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়েরা। পুলিশ এসে শিশুটিকে বিদ্যাসাগর হাসপাতালে নিয়ে যায়। প্রাথমিক পরীক্ষার পরে চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটি মৃত। শিশুটির দেহ ময়না তদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।
ফের হাজির স্টাইলফাইল
এগারো বছরের ছোট্ট শিবম সোমানির তৈরি কাগজের নানা মজাদার উপহারসামগ্রী থেকে পাকিস্তানি ডিজাইনার সানিয়া মাসকাতিয়ার পোশাক, লন্ডনের অমিশি-র ক্রিস্টাল পার্স থেকে ব্যাঙ্ককের জহরত কিংবা এ দেশের ডিজাইনারদের তৈরি পোশাক, গয়না, ব্যাগ, জুতো-সহ নানা স্বাদের ফ্যাশন-সামগ্রী। এক ছাদের নীচে এক দিনের ‘মিড নাইট বাজার’-এ থাকছে সব কিছুই। কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই, হায়দরাবাদ, বরোদা, উদয়পুর, বেঙ্গালুরু, লন্ডন, করাচি, ব্যাঙ্ককের একঝাঁক দেশি-বিদেশি ডিজাইনারের কাজ নিয়ে আগামী ১৪ নভেম্বর ফের হাজির হচ্ছে ‘স্টাইলফাইল ২০১৪’। শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে উদ্যোক্তা প্রীতি গোয়েন্কা এবং সুমেধা সারাওগি জানান, এ বছরও আলিপুর বর্ধমান রোডের ওল্ড বাংলোয় বিকেল তিনটে থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলবে প্রদর্শনী এবং বিকিকিনি। প্রীতির কথায়, “কলকাতার ডিজাইনারদের তৈরি পোশাক-গয়না তো এ শহরের ক্রেতারা এমনিতেই পান। অন্যান্য শহর বা দেশের ডিজাইনারদের কাজকে কলকাতার হাতের নাগালে এনে দেওয়াটাই আমাদের উদ্দেশ্য।”
মৃতদেহ উদ্ধার
এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার হল। শুক্রবার, বিশরপাড়া থেকে। মৃতের নাম ভবতোষ বিশ্বাস (৫২)। তিনি ওএনজিসি-র প্রাক্তন কর্মী। পুলিশ জানায়, এ দিন কয়েক জন যুবক ভবতোষবাবুর বাড়িতে কেব্লের টাকা নিতে আসেন। কিন্তু দরজায় ধাক্কা দিয়ে সাড়া না পাওয়ায় তাঁরা তিনতলায় ভবতোষবাবুর স্ত্রীকে খবর দেন। প্রতিবেশীরা জানান, ভবতোষবাবুর নাক দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছিল। তাঁর স্ত্রী পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি থাকেন তিনতলায়। ভবতোষবাবু থাকতেন একতলায়। তাই তাঁদের মধ্যে সব সময়ে যোগাযোগ ছিল না। কিন্তু একই বাড়িতে থাকা সত্ত্বেও ভবতোষবাবুর স্ত্রী কেন কিছু টের পেলেন না, পুলিশ খতিয়ে দেখছে।