E-Paper

ভাঙা হয়নি পূর্ব কলকাতা জলাভূমির অবৈধ নির্মাণ, রাজ্যকে তোপ বিচারপতির

এ দিন আদালতের আগের নির্দেশ অনুযায়ী রিপোর্ট দেন জলাভূমি কর্তৃপক্ষ। তাঁদের আইনজীবী জানান, কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী জলাভূমি সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে সংবাদপত্রে এবং পূর্ব কলকাতা জলাভূমি কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:১৪
কলকাতা হাই কোর্ট।

কলকাতা হাই কোর্ট। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

পূর্ব কলকাতা জলাভূমিতে গজিয়ে ওঠা অসংখ্য বেআইনি নির্মাণ ভাঙার ক্ষেত্রে রাজ্যের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ কলকাতা হাই কোর্ট। সোমবার এই মামলার শুনানিতে মামলাকারীর দুই আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং সুদীপ্ত দাশগুপ্ত অভিযোগ করেন, জলাভূমিতে বেআইনি নির্মাণের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিক আদালত, এমনই আবেদন করেন তাঁরা। যা শোনার পরে বিচারপতি অমৃতা সিংহের পর্যবেক্ষণ, ‘‘আদালতের একাধিক নির্দেশ থাকলেও শুধু রিপোর্ট দিয়েছে রাজ্য ও জলাভূমি কর্তৃপক্ষ।আদালতে রিপোর্টের স্তূপ জমে গেলেও অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজের বিষয়ে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি। প্রতি বার একই প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি হয় আদালতে, কবে নির্মাণ ভাঙা হবে।’’

এ দিন আদালতের আগের নির্দেশ অনুযায়ী রিপোর্ট দেন জলাভূমি কর্তৃপক্ষ। তাঁদের আইনজীবী জানান, কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী জলাভূমি সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে সংবাদপত্রে এবং পূর্ব কলকাতা জলাভূমি কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে। এর পাশাপাশি, কলকাতা পুরসভার বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ করেন আইনজীবী। তাঁর অভিযোগ, কলকাতা পুরসভার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের বানতলা, ধাপা, চৌবাগা এলাকায় গত বছরের ডিসেম্বরে একটি যৌথ অভিযানের জন্য পুরসভাকে চিঠি দেওয়া হলেও তাদের কোনও আধিকারিক আসেননি। আইনজীবীর আরও দাবি, ওই এলাকার চিহ্নিত বেআইনি নির্মাণগুলিতে বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে এলাকার মানুষের প্রতিরোধের মুখে পড়েন জলাভূমি কর্তৃপক্ষ, সিইএসসি এবং আনন্দপুর থানার আধিকারিকেরা।

বিচারপতি অমৃতা সিংহের পাল্টা মন্তব্য, ‘‘পুরসভা সহযোগিতা করছে না, জলাভূমি কর্তৃপক্ষের উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই। রাজ্য সরকার বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে না পারলে আমি এই কাজে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেব। আমি জলাভূমির পরিধি বাড়াতে বলছি না। ২০০৬ সালের জলাভূমি সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী জলাভূমি সংরক্ষণ করতে বলছি। বেআইনি নির্মাণ ভেঙে জলাভূমিকে তার পুরনো অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে বলছি।’’ এর পরেই বিচারপতি সিংহের নির্দেশ, এই মামলায় কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও পরিবেশ মন্ত্রককে যুক্ত করতে হবে মামলাকারীদের। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৬ মার্চ হবে বলে জানান বিচারপতি।

উল্লেখ্য, এর আগেও এই মামলার শুনানিতে একাধিক বার পূর্ব কলকাতা জলাভূমি কর্তৃপক্ষ ও রাজ্যসরকারকে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অমৃতা সিংহ। জলাভূমি এলাকায় কর্তৃপক্ষ ৫০৫টি বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করলেও সেগুলি ভাঙার বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করেনি। রাজ্যের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলে বিচারপতি মন্তব্য করেছিলেন, ‘‘কয়েকটি অস্থায়ী ছোট দোকান ভেঙে বলছেন, বেআইনি নির্মাণ ভেঙেছেন। বেসরকারি স্কুল, শপিং মল, গাড়ি মেরামতির কারখানা, বড় আবাসন, প্লাস্টিক কারখানা— সেগুলির ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ করেছেন? আমি দেখতে চাই, অবৈধ নির্মাণ ভাঙার নোটিস পাঠিয়েছেন। শহরবাসী ও আদালত দেখতে চায়, দখলমুক্ত জলাভূমি।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Calcutta High Court Wetlands

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy