নারকেলডাঙায় ভোট পরবর্তী হিংসা এবং বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারের হত্যার ঘটনায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হল। বুধবার কলকাতার নগরদায়রা আদালতে চার্জ গঠন করেছেন বিচারক। এই ১৯ জনের তালিকায় আছে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পালের নাম। এ ছাড়া, পুলিশের প্রাক্তন কয়েক জন আধিকারিকও অভিযুক্তের তালিকায় রয়েছেন।
নারকেলডাঙা কাণ্ডে বুধবার চার্জ গঠন হয়েছে প্রাক্তন কাউন্সিলর স্বপন সমাদ্দার, পাপিয়া ঘোষ, পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত এসি (নারকেলডাঙার তৎকালীন ওসি) শুভজিৎ সেন, তৎকালীন এসআই রত্না সরকার এবং হোমগার্ড দীপঙ্কর দেবনাথের বিরুদ্ধেও। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের পর নারকেলডাঙায় খুন হন অভিজিৎ। সিবিআইয়ের দাবি, প্রাক্তন বিধায়ক পরেশের উস্কানিতেই তাঁকে খুন করা হয়েছিল। অভিযুক্তদের সকলকেই চার্জ গঠনের দিন আদালতে হাজির করানো হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে খুন, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, অবৈধ জমায়েত-সহ বিভিন্ন ধারায় চার্জ গঠিত হয়েছে। অভিযুক্তেরা অবশ্য নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করেছেন আদালতে।
আরও পড়ুন:
নারকেলডাঙার ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত স্বপন কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র পারিষদ। ২০২২ সালে এক মহিলাকে যৌন হেনস্থা, মারধর, ভাঙচুরের অভিযোগে কিছু দিন আগে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এঁদের প্রত্যেকের নামেই সিবিআই চার্জশিট জমা দিয়েছিল আদালতে। তার ভিত্তিতে বুধবার চার্জ গঠিত হল।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। প্রথম বার সরকার গঠন করেছে বিজেপি। একে একে তৃণমূল কাউন্সিলর, বিধায়কদের পুরনো অভিযোগে গ্রেফতারির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নারকেলডাঙার ঘটনাটির তদন্তভার অবশ্য অনেক আগেই তুলে দেওয়া হয়েছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে। গত ১২ জুন আদালতে পরেশদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান নিহত অভিজিতের দাদা বিশ্বজিৎ সরকার এবং তাঁর সঙ্গীরা। ‘খুনি’, ‘চোর’ স্লোগানও দেওয়া হয়। চার্জ গঠনের পর বিশ্বজিৎ জানিয়েছেন, পরেশ, স্বপনেরা জেলে গেলে তিনি খুশি হবেন।