দীর্ঘ ২০ বছর ধরে উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন বছর তেতাল্লিশের মহিলা। বিভিন্ন ওষুধ ব্যবহার করেও তা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছিল না। শেষে রোগ চিহ্নিত করে বিশেষ শল্য-প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কিডনিতে রক্ত সরবরাহকারী ধমনীর চারপাশে থাকা স্নায়ুকে নিষ্ক্রিয় করে সমস্যার সমাধান করলেন চিকিৎসকেরা। সম্প্রতি শহরের এক বেসরকারি হাসপাতালে ইএসআই প্রকল্পে ওই পরিষেবা পেয়েছেন রোগী।
দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপের ফলে ধীরে ধীরে ওই রোগীর হৃদ্যন্ত্র মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। হৃৎপিণ্ডের বাম নিলয়ের পাম্পিং ক্ষমতা ২৩ শতাংশে নেমে এসেছিল। যেখানে স্বাভাবিক মাত্রা ৫৫ শতাংশ বা তার বেশি থাকার কথা।অত্যধিক রক্তচাপ ও হার্ট ফেলিওরের উপসর্গ নিয়ে বার বার হাসপাতালেও ভর্তি হতে হচ্ছিল ওই মহিলাকে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, দৈনিক ১৪টি ওষুধ খেলেও রক্তচাপ মারাত্মক বেশি থাকত। কেন উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না, তা জানতে প্রয়োজনীয় সমস্ত পরীক্ষা করে ‘সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন’-এর সম্ভাব্য সব কারণ খতিয়ে দেখা হলেও নির্দিষ্ট ভাবে কিছু ধরা পড়েনি।
তবে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকেরা চিহ্নিত করেন, ওই মহিলা ‘আনকন্ট্রোলড রিফ্র্যাক্টরি হাইপারটেনশন’-এ আক্রান্ত। এটি অত্যন্ত বিরল এবং উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের মাত্র পাঁচ শতাংশের ক্ষেত্রে দেখা যায়। তখন চিকিৎসকেরা ‘রেনাল ডিনারভেশন’ করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই মতো মণিপাল ব্রডওয়ে হাসপাতালের হৃদ্রোগ চিকিৎসক মৈনাক মুখোপাধ্যায়, বিভাগীয় প্রধান চিকিৎসক অরিজিৎ ঘোষ-সহ এক চিকিৎসক-দল প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেন। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, রোগীর কুঁচকির ধমনী দিয়ে একটি বিশেষ ক্যাথিটার প্রবেশ করিয়ে কিডনিতে রক্ত সরবরাহকারী ধমনীর চারপাশে থাকা ‘অতিরিক্ত সক্রিয় স্নায়ু’ রেডিয়োফ্রিকোয়েন্সির মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, স্নায়ুর কার্যকলাপ কমে যাওয়ার কারণে মস্তিষ্ক ও কিডনির মধ্যেকার অতিরিক্ত সিগন্যাল বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ধীরে ধীরে রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। কেন্দ্র ও রাজ্যের ইএসআই কর্তৃপক্ষের যৌথ অনুমোদনে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা খরচের ওই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)