E-Paper

বাণিজ্যিক নির্মাণে রাজ্যের পাঁচ সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতি ছুঁতে পারে হাজার কোটি

নির্মাণ সংস্থাগুলির সংগঠন ক্রেডাইয়ের তথ্য বলছে, শুধু কলকাতা পুর এলাকাতেই অন্তত ৭০০টি প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়েছে। দৈনিক লোকসান হচ্ছে ২৫ কোটি টাকা।

অঙ্কুর সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ ০৭:৩০
তারাতলায় ভেঙে পড়া নির্মীয়মাণ গুদামের কাঠামো।

তারাতলায় ভেঙে পড়া নির্মীয়মাণ গুদামের কাঠামো। — ফাইল চিত্র।

তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ার পরে কলকাতা পুরসভা-সহ ছ’টি পুর এলাকায় আপাতত পাঁচ সপ্তাহ বাণিজ্যিক নির্মাণের কাজে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাজ্য সরকার। উদ্দেশ্য, নির্মীয়মাণ এই ধরনের সব প্রকল্পের ছাড়পত্র খতিয়ে দেখা। কিন্তু নির্মাণ সংস্থাগুলির দাবি, এর ফলে বিরাট ক্ষতির মুখে পড়বে তারা। যার অঙ্ক ছুঁতে পারে অন্তত ১০০০ কোটি টাকা। আর এই বোঝার বেশ খানিকটা বহন করতে হতে পারে সাধারণ ক্রেতাদের।

নির্মাণ সংস্থাগুলির সংগঠন ক্রেডাইয়ের তথ্য বলছে, শুধু কলকাতা পুর এলাকাতেই অন্তত ৭০০টি প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়েছে। দৈনিক লোকসান হচ্ছে ২৫ কোটি টাকা। সোনারপুর, বারুইপুর, সল্টলেক, নিউ টাউন, দক্ষিণ দমদম, বরাহনগর ও কামারহাটি পুর এলাকা যোগ করলে ক্ষতি পৌঁছতে পারে ৩০-৩২ কোটিতে। কমপক্ষে ১২০০টি প্রকল্প বন্ধ রয়েছে। ফলে চিন্তা বাড়ছে। শহরের একটি নির্মাণ সংস্থার শীর্ষ কর্তা বলেন, ‘‘কাজ বন্ধ হওয়া এলাকায় আমার ৮-১০টি প্রকল্প চলছিল। দিনে কয়েক লক্ষ টাকা লোকসান গুনছি। শ্রমিকদের এত দিন ধরে রাখাও মুশকিল।’’

ক্রেডাই সরকারি সিদ্ধান্তের সঙ্গে সহমত। তারা জানিয়েছে, সুরক্ষার প্রশ্নে আপস করা হবে না। তবে তারা এ-ও বলেছে, অন্তত ৪০ হাজার শ্রমিকের রুটিরুজিও গুরুত্বপূর্ণ। তাই সদস্য নির্মাণ সংস্থাগুলিকে এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শহরের এক প্রথম সারির নির্মাণ সংস্থার কর্তা বলেন, ‘‘আমরা বিরাট ক্ষতির মুখে পড়ব। সরকারের কাছে আর্জি, দ্রুত সব খতিয়ে দেখে কাজ শুরুর অনুমতি দেওয়া হোক।’’

নির্মাণ উপদেষ্টা নাইট ফ্রাঙ্কের প্রাক্তন কর্তা অভিজিৎ দাস বলেন, ‘‘রাজ্যের এই সিদ্ধান্তে প্রকল্পের খরচ বাড়বে। ভারী হবে সংস্থাগুলির বোঝা। যদিও তারাতলায় যা হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত ঠিক।’’ তাঁর মতে, এর জন্য দ্রুত ও সময় বেঁধে ছাড়পত্র দেওয়া উচিত। যত দ্রুত সম্ভব সেই কাজ বিশেষজ্ঞ কমিটির করা উচিত। সেই সঙ্গে, এই সময়ে শ্রমিকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া উচিত সরকার ও নির্মাণ সংস্থার। না হলে নির্মাণক্ষেত্রই পরে সমস্যায় পড়বে।

সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের মতে, কাজ থেমে যাওয়ায় সংস্থাগুলির যে ক্ষতি হচ্ছে, তাতে আবাসনের দাম এক-দুই শতাংশ বাড়তে পারে। ক্রেতাদের ফ্ল্যাট দিতে দেরি হতে পারে। তাতে তাঁদেরও খরচ বাড়বে। তাই পশ্চিমবঙ্গ রেরার কাছে আবাসন হস্তান্তরের সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন করার পরিকল্পনা করছে একাধিক সংগঠন। যাতে ক্রেতাদের ফ্ল্যাট দিতে দেরি হওয়ার কারণে জরিমানার মুখে তাদের পড়তে না হয়।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Taratala West Bengal government construction work

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy