পশ্চিমবঙ্গে দল ক্ষমতায় আসার পর অনুপ্রবেশ নিয়ে ক্রমশই স্বর চড়িয়েছেন রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্ব। নয়াদিল্লিতেও সাংবাদিক বৈঠকে ধারাবাহিক ভাবে জানানো হয়েছে, বহু অনুপ্রবেশের অভিযোগ তথ্য যাচাইয়ের জন্য ঢাকার কাছে পড়ে রয়েছে। সম্প্রতি বিএসএফ-বিজিবি-র বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠক করাযায়নি বিরোধাভাসে।
এই পরিস্থিতিতে প্রাক্তন সাংসদ থেকে পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে কাজ শুরু করেছেন দীনেশ ত্রিবেদী। সরকার-ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বক্তব্য, বাংলাদেশের অনুপ্রবেশ নিয়ে অধুনা যে আগ্রাসী ভাষ্য তৈরি করা হয়েছে, তাকে এ বার কিছুটা লঘু করা প্রয়োজন। সূত্রের বক্তব্য, নির্বাচনের সময় অনেক কথা বলা হয়, আক্রমণ প্রতি আক্রমণ চলে। কিন্তু ভোট শেষ হয়ে গেলে স্পর্শকাতর, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দিকটিকেও মাথায় রাখতে হবে। সূত্রের মতে, এমন কিছু করা উচিত নয়, যাতে সে দেশে জামায়াতে ইসলামী ভারত-বিরোধিতার নতুন জিগির তুলতে পারে। যে ভাবে পুশ ব্যাক, হোল্ডিং সেন্টার, জিহাদি চক্রান্তের মতো বিষয়গুলিকে বার বার বিভিন্ন সরকারি মঞ্চ থেকে তুলে ধরা হচ্ছে, তাতে বাংলাদেশের মানুষ এবং সে দেশের নতুন সরকারের প্রতিক্রিয়া উত্তরোত্তর খারাপই হবে। পাশাপাশি, এটাও মাথায় রাখা হচ্ছে অনুপ্রবেশ অবশ্যই রয়েছে, কিন্তু তার মোকাবিলা হাতেকলমে, চটজলদি আরও দ্রুত এবং সপ্রতিভ ভাবে করা প্রয়োজন। বিএসএফ আরও ঘনঘন বৈঠক করে এই সংক্রান্ত তথ্য দিক বিজিবি-কে। সীমান্ত হত্যার প্রসঙ্গে যাতে না ওঠে তার জন্য আগাম সতর্কতা নেওয়া হোক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে। কিন্তু তা না-করে শুধু আগ্রাসী বয়ানে লাভের থেকে লোকসান বেশি।
এই কূটনৈতিক সূত্রের মতে, চিন, পাকিস্তান এবং তুরস্কের মতো দেশ বসে রয়েছে ঢাকাকে নিজেদের ভূ-কৌশলগত স্বার্থে ব্যবহার করার জন্য। গণতান্ত্রিক পথে বাংলাদেশ নতুন সরকার এসেছে। মোদী সরকার স্বাগত জানিয়ে সে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছিল। কিন্তু পাঁচ মাস হয়ে গেল তারেক রহমানের ভারত সফরের নামগন্ধ নেই। ঐতিহ্যগত ভাবে বাংলাদেশ নতুন প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর নয়াদিল্লিতেই হওয়ার কথা। কিন্তু তারেক তাঁর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে গেলেন চিন ও মালয়েশিয়ায়। সফরকে ‘অভূতপূর্ব সাফল্য’ হিসেবে তুলে ধরলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, বেজিংয়ের সঙ্গে সই হল ১৭টি সমঝোতাপত্র।
সূত্রের বক্তব্য, আগ্রাসী ভাষ্য যদি খোদ পশ্চিমবঙ্গে থেকেই আসে তা হলে বাংলাদেশে তার প্রভাব দ্বিগুণ হয়। কারণ, তারা গোবলয় নিয়ে ভাবিত নয়, চিকিৎসা পরিষেবা থেকে পর্যটন— অগ্রাধিকার পশ্চিমবঙ্গ। দ্বিতীয়ত, শুধু রাজনৈতিক আগ্রাসী বয়ানে নয়াদিল্লির ইতিবাচক বাংলাদেশ নীতিও আড়ালে চলে যেতে পারে। বাংলাদেশে ‘অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এইমস)-এর শাখা খোলা নিয়ে প্রাথমিক ভাবনাচিন্তা হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাসকে টেলিমেডিসিন কেন্দ্র বানানো যায় কিনা, তা নিয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে বলে খবর।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)