E-Paper

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে যুবকের মৃত্যু নিয়ে ধন্দ

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, হোটেলে কাজ করতে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে এক এজেন্টের মাধ্যমে ২০২৩ সালে রাশিয়ায় যান ইন্দ্রজিৎ। থাকতেন পশ্চিম-মধ্য রাশিয়ার চেলিয়াবিনস্কে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ ০৮:৪০
ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাস।

ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাস। — নিজস্ব চিত্র।

ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে রাশিয়ার সেনা বাহিনীতে যোগ দেওয়া এক যুবকের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে ভেঙে পড়েছে পরিবার। আলিপুরদুয়ার ১ ব্লকের শালকুমারের মুন্সিপাড়ার বাসিন্দা ওই যুবকের নাম ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাস (২৬)। সরকারি ভাবে তাঁর মৃত্যুসংবাদ আসেনি। সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে মঙ্গলবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হন বাড়ির লোক। আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার অমিতকুমার শা বলেন, ‘‘খবরটি কানে এসেছে। বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।’’

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, হোটেলে কাজ করতে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে এক এজেন্টের মাধ্যমে ২০২৩ সালে রাশিয়ায় যান ইন্দ্রজিৎ। থাকতেন পশ্চিম-মধ্য রাশিয়ার চেলিয়াবিনস্কে। স্থানীয় ভাষা শিখতে সেখানকার একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হন। কাকা অজিত জানান, ভাষা শেখা শেষ হওয়ার আগেই ইন্দ্রজিতের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তার পরে কিছু দিন রাশিয়াতে গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে পরিবারের লোকেরা তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টাও করেন। কিন্তু যে এজেন্টের মাধ্যমে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন, তিনি বারণ করেন বলে অভিযোগ পরিবারের।

ইন্দ্রজিতের বাবা প্রদীপ বলেন, ‘‘পরে রাশিয়ার সিটিজ়েন কার্ড নিয়ে সেখানকার সেনাবাহিনীতে যোগ দেয় ছেলে। তাকে ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানো হয়েছিল। সেনা বাহিনীতে যোগদানের পরে কয়েক মাস পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ ছিল। তার পরে রোজ যোগাযোগ হত।” ইন্দ্রজিতের বোন প্রিয়া বলেন, ‘‘শনিবারও দাদা ফোন করেছিল। বলল সাত দিনের ছুটি শেষ করে রবিবার ফের যুদ্ধে যাচ্ছে। আর রবিবার বিকেলেই গগন নামে দাদার এক বন্ধু ফোন করে জানান, দাদা নেই!” প্রদীপের কথায়, “গগন প্লাস্টিকে মোড়া একটি দেহের ছবি আমাদের পাঠিয়েছে। তাতে মুখ দেখা যাচ্ছে না। ফলে, সেটা আমার ছেলের দেহ কি না, বুঝতে পারছি না।”

রবিবার দুপুরে ইন্দ্রজিতের মৃত্যু সংবাদ মুন্সিপাড়ায় পৌঁছয়। পর দিন তাঁর ঠাকুরদা নীলরতন বিশ্বাসেরও (৮০) মৃত্যু হয়েছে। তিনি কিডনির অসুখে ভুগছিলেন। এমন একটা পরিস্থিতিতে ঘরের ছেলের মৃত্যু সংবাদ আদৌ ঠিক কি না, তা নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার বিকেল থেকে প্রশাসনের দ্বারস্থ হন ইন্দ্রজিতের পরিবারের লোকেরা। সন্ধ্যায় আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পরে বিজেপির জেলা দফতরে গিয়ে আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গার সঙ্গেও দেখা করেন তাঁরা। সাংসদ বলেন, ‘‘বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করছি।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Death Case

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy