ক্ষমতা হারিয়ে দুর্বল হয়ে যাওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে আসন্ন কোনও নির্বাচনে জোট হবে কি না, সেই সিদ্ধান্তের ভার থাকছে প্রদেশ নেতৃত্বের উপরেই। আপাতত জোট নিয়ে মাথা না-ঘামিয়ে অপরাধ বা দুর্নীতিতে অভিযুক্ত নন, তৃণমূলের এমন নেতা-কর্মীদের জন্য কংগ্রেসের দরজা খোলা রাখার বার্তা দিয়ে গেলেন এআইসিসি-র সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কে সি বেণুগোপাল। সেই সঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্যের ‘ডাবল ইঞ্জিন’ বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে জোরদার আন্দোলনের জন্য সংগঠনকে প্রস্তুত হওয়ার পরামর্শও দিলেন।
বিধানসভা ভোটের পরে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলের সাংগঠনিক হাল নিয়ে আলোচনার জন্য দু’দিনের সফরে কলকাতায় এসেছিলেন এআইসিসি নেতা। জেলা নেতৃত্ব ও প্রদেশ কংগ্রেসের পদাধিকারীদের সঙ্গে সোমবারের বৈঠকের পরে মঙ্গলবার বেণুগোপালের দু’দফায় বৈঠক ছিল রাজ্যে দলের বর্ষীয়ান নেতা এবং বিধানসভা নির্বাচনে দলের প্রার্থীদের সঙ্গে। সূত্রের খবর, সেখানেই তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে কিছু মামলা বা অভিযোগ থাকেই। প্রতিহিংসা থেকেও অনেক সময় সে সব হয়ে থাকে। তবে এলাকায় যাঁদের ভাবমূর্তি বা আচরণ নিয়ে তেমন প্রশ্ন নেই, তৃণমূলের এমন নেতা-কর্মীরা শামিল হতে চাইলে কংগ্রেস স্বাগত জানাবে। অন্য বেশ কিছু রাজ্যের মতোই এখানেও বিজেপির মদতে তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠী তৈরি করা হয়েছে বলে তাঁর মত। বেণুগোপাল দলের নেতা-কর্মীদের বলেছেন, বিজেপির জনবিরোধী ও সংবিধান-বিরোধী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে লড়তে হবে।
তৃণমূল ও কংগ্রেসের জোট-সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নে বিধান ভবনে এ দিন বেণুগোপাল বলেছেন, “এই মুহূর্তে সেই প্রশ্ন প্রাসঙ্গিক নয়। জাতীয় স্তরে ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চ রয়েছে। সাংবিধানিক মূল্যবোধ রক্ষার জন্য আমরা সকলের সঙ্গে সহযোগিতা করব।” পাশাপাশিই কেররলের আলপ্পুঝার কংগ্রেস সাংসদের বক্তব্য, “দেশের গণতন্ত্র বিপদের মুখে পড়লে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সব রাজনৈতিক দলই এক জোট হবে। রাজ্য-ভেদে রাজনৈতিক মতপার্থক্য অবশ্যই থাকবে। কেরলে আমাদের সঙ্গে সিপিএমের রাজনৈতিক লড়াই রয়েছে। এখানেও বিভিন্ন দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। পঞ্জাবে কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টির মধ্যে রাজনৈতিক লড়াই চলছে। কিন্তু দেশ যখন সঙ্কটের মুখে পড়ে, তখন আমরা এক সঙ্গে দাঁড়াই। তাই ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চ।” রাজ্যে আসন্ন পুরভোটে জোট প্রসঙ্গে তাঁর সংযোজন, “এটা রাজ্য নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)