যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে শুক্রবার দুপুরে মিছিল শুরু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পাশে রয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, দেব, সোহম-সহ তৃণমূলের অন্য সাংসদ, বিধায়কেরা। রয়েছেন টেলি-তারকারাও। মিছিল শুরুর আগে ৮বি বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে মমতা জানান, দিল্লির বঞ্চনা, লাঞ্ছনার বিরুদ্ধে, এ রাজ্যের মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে ‘রাস্তাই রাস্তা’। বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ হাজরায় শেষ হয় মিছিল।
যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে বিকেল ৩টে নাগাদ মিছিল শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী। গন্তব্য হাজরা মোড়। মমতার সঙ্গে রয়েছেন রাজ্যের শাসকদলের নেতা-মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদ থেকে বিশিষ্টজন এবং সাধারণ মানুষ। মিছিল শুরু করার আগে যাদবপুরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘এই অঞ্চলের সকল নাগরিকবৃন্দকে, মা-মাটি-মানুষকে প্রণাম, ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। সকলকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানাই। আপনাদের সমর্থন বাংলার মানুষকে সারা বিশ্বের দরবারে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’’ তার পরেই তিনি জানিয়ে দেন, শুক্রবারের এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য। তাঁর কথায়, ‘‘দিল্লির বঞ্চনা, লাঞ্ছনা, অত্যাচার, অপমান, অসম্মান, ২ কোটি মানুষের ভোট কেটে দেওয়া হচ্ছে, অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে— তার বিরুদ্ধে রাস্তাই আমাদের রাস্তা। এটা নেতাজির কথা।’’ তিনি এ-ও বলেন, ‘‘যাদবপুরের মাটি লড়াইয়ের মাটি। উদ্বাস্তুদের মাটি।’’
তার পরেই মিছিল শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর এক পাশে তৃণমূল সাংসদ দেব, অন্য পাশে তৃণমূল বিধায়ক সোহম, রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ, অরূপ। পিছনের সারিতে দলের নেতা-নেত্রী, টেলিতারকারা। রাস্তার দু’পাশে বহু মানুষের জমায়েত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আইপ্যাক সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউ়ডন স্ট্রিটের ফ্ল্যাট এবং সংস্থার সল্টলেকের দফতরে তল্লাশি চালায় ইডি। মমতা জানান, তাঁর নির্বাচনী কৌশল, নথি ছিনতাই করতেই এই অভিযান হয়েছে। তাঁর দলের নির্বাচনী কৌশলের তথ্য ‘ট্রান্সফার’ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। তাই তাঁর মতে, ইডির এই হানা ‘অপরাধ’। তিনি আঙুল তোলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দিকে, যাঁর দফতরের অধীনে রয়েছে ইডি। তিনি এ-ও জানান, এই ‘হামলার প্রত্যুত্তর’ জনগণ দেবে। সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতরের বাইরে দাঁড়িয়েই শুক্রবারের মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন মমতা। সেইমতো শুক্রবার দুপুরে যাদবপুর থেকে শুরু হয় মিছিল।