E-Paper

ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণ মিললেও কাছে পাননি সন্তানকে, হাই কোর্টের দ্বারস্থ মা-বাবা

কোর্টের খবর, ২০২৪ সালের মার্চে পূর্ব কলকাতা এলাকায় নর্দমা থেকে ওই সদ্যোজাতকে উদ্ধার করা হয়েছিল। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও সেই নথিতে শিশুটির অভিভাবক হিসাবে কারও নাম ছিল না।

সব্যসাচী ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৬:৪৯

—প্রতীকী চিত্র।

নর্দমা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল এক সদ্যোজাতকে। হাসপাতাল ঘুরে তার ঠাঁই হয় শিশু কল্যাণ সমিতির হোমে। সেই শিশুটির বয়স এখন দু’বছর। এ বার তাকে ফিরে পেতে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বাবা-মা। শিশু কল্যাণ সমিতির সঙ্গে আইনি লড়াইয়েও নেমেছেন তাঁরা। সমিতি অবশ্য কোর্টে রিপোর্ট দিয়ে বলেছে, স্থানীয় বাসিন্দারা নর্দমা থেকে ওই সদ্যোজাতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সমিতির নির্দেশে শিশুটির বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে মামলাও হয়। এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বাবা-মায়ের বক্তব্য জানতে চেয়েছেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও। আজ, বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি হতে পারে।

কোর্টের খবর, ২০২৪ সালের মার্চে পূর্ব কলকাতা এলাকায় নর্দমা থেকে ওই সদ্যোজাতকে উদ্ধার করা হয়েছিল। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও সেই নথিতে শিশুটির অভিভাবক হিসাবে কারও নাম ছিল না। তাই সদ্যোজাত আশ্রয় পায় শিশু কল্যাণ সমিতির হোমে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার জন্য নোটিস দেয় সমিতি। সমিতির সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবং শিশুটিকে ফিরে পেতে হাই কোর্টে মামলা করেন তার বাবা-মা।

কোর্টে ওই দম্পতির দাবি, দুর্ঘটনাবশত বাড়ির পাশের নর্দমায় পড়ে গিয়েছিল শিশুটি। তার বাবা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে স্থানীয় থানার পুলিশও ছিল। শিশুটির মা-ও সে দিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে ওই একই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বাবা-মায়ের পাল্টা অভিযোগ, সন্তানকে ফেরত পাওয়ার আর্জি জানালেও তা খারিজ করে দিয়েছে শিশু কল্যাণ সমিতি। কোর্টে তারা রিপোর্ট দিয়ে বলেছে, শিশুটিকে উদ্ধার করেছিলেন স্থানীয়েরা এবং পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল। কেউ অভিভাবকত্বের দাবি না করায় সমিতির জিম্মায় গিয়েছিল শিশুটি এবং তাদেরই নির্দেশে বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে মামলা হয়।

উল্লেখ্য, এই শিশুটির বাবা-মা এর আগেও হাই কোর্টে মামলা করেছিলেন। সেই মামলায় বিচারপতি অমৃতা সিংহের নির্দেশ ছিল, শিশুটির ডিএনএ নির্ধারণ করতে হবে এবং মায়ের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে যেতে হবে। কোর্টের খবর, মামলাকারী দম্পতি যে শিশুটির বাবা-মা, তা ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত ভাবে জানা গিয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, এর পরেও বাবা-মায়ের অভিভাবকত্বের আবেদন ফিরিয়ে দেয় শিশু কল্যাণ সমিতি।

সমিতির অবশ্য দাবি, শিশুটির নর্দমায় পড়ে যাওয়া এবং আঘাত বিষয়ে উপযুক্ত কারণ দেখাতে পারেননি বাবা-মা। সমিতি জানায়, বাবা-মায়ের কর্তব্যে গাফিলতির বিষয়টি বিবেচনা করে শুধুমাত্র মাতৃত্ব বা পিতৃত্বের উপরে শিশুটির অভিভাবকত্ব নির্ভর করে না। তাই আইনানুগ ভাবে শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার জন্য আবেদন গ্রহণ করছে কমিটি। যদিও বাবা-মায়ের আইনজীবীর পাল্টা দাবি, পুলিশের চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, মায়ের গাফিলতির প্রমাণ মেলেনি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Calcutta High Court

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy