রাজ্য সরকারের কাছে বহু বার আবেদন-নিবেদন করেও লাভ হয়নি। মেলেনি বকেয়া টাকা। এ বার তাই হাওড়ার জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের অফিস আটকে অবস্থান-বিক্ষোভে শামিল হলেন ‘জল জীবন’ প্রকল্পে কর্মরত রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের তালিকাভুক্ত ঠিকাদারেরা। মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে বিক্ষোভকারীরা দফতরের গেট আটকে দেওয়ায় আধিকারিক থেকে কর্মী, কেউই অফিসে ঢুকতে পারেননি। আন্দোলনকারীরা জানাচ্ছেন, খরা ও বন্যা পরিস্থিতিতে তাঁরা রাজ্যের গ্রামাঞ্চলে পানীয় জল সরবরাহ করেছেন। অথচ, প্রাপ্য টাকা পাননি। প্রায় ১৮ মাস ধরে শুধু হাওড়া জেলাতেই তাঁদের বকেয়া রয়েছে ৩২৫ কোটি টাকা।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘জল জীবন’ বা ‘হর ঘর জল’ প্রকল্পে ৬০ শতাংশ অর্থ দেয় কেন্দ্র, বাকি ৪০ শতাংশ রাজ্য। রাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় ২০২০-’২১ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে জল সরবরাহের মূল কাজটা করেন সরকারি ঠিকাদারেরা। কিন্তু টাকা না পেয়ে তাঁরা বেঁকে বসায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প কার্যত থমকে যেতে বসেছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বকেয়া চাইলেই তাঁদের বলা হচ্ছে, আগে কাজ শেষ করতে। তার পরে টাকা মিলবে। অথচ, এর পরে বার বার দফতরে হত্যে দিয়েও ঠিকাদারেরা টাকা পাচ্ছেন না। ‘অল বেঙ্গল পিএইচই কনট্র্যাক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর হাওড়া শাখার সম্পাদক দীপঙ্কর চক্রবর্তী বলেন, ‘‘এত দিন ধরে টাকা না পেয়েও আমরা কাজ বন্ধ করিনি শুধু এই কথা ভেবে যে, এর ফলে সমস্যায় পড়বেন গ্রামের মানুষ। কিন্তু এখন অর্থাভাবে ঠিকাদারদের সংসার চলছে না। দফতরে গেলে আমাদের বলা হচ্ছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ টাকা পাঠাচ্ছেন না। সেখানে আবেদন করলে তাঁরা বলছেন, কেন্দ্র টাকা দিচ্ছে না। আবার, কেন্দ্রের কাছে দরবার করলে বলা হচ্ছে, এই প্রকল্পের কাজে পশ্চিমবঙ্গে গোলমাল আছে। তাই টাকা দেওয়া যাচ্ছে না। আমরা তা হলে যাব কোথায়?’’
এই বিষয়ে হাওড়া জেলা জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘‘বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য উপযুক্ত জায়গায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আসলে কেন্দ্র টাকা না দিলে রাজ্য কী ভাবে দেবে?তা সত্ত্বেও রাজ্য তাদের ভাগের টাকা মাঝেমধ্যে মিটিয়ে দিচ্ছে। কেন্দ্র বকেয়া টাকা দিলেই সব মিটিয়ে দেওয়া হবে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)