Advertisement
E-Paper

নিজেদের স্বার্থে পাকিস্তানকে ব্যবহার করে ‘টয়লেট পেপারের’ মতো ফেলে দিয়েছে আমেরিকা! দাবি পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

সংসদে বক্তৃতার সময় পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ বলেন, ‘‘১৯৯৯ সালের পর আবারও ওয়াশিংটনের সঙ্গে জোট করার সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের স্থায়ী ক্ষতি করেছে। বিশেষত, আফগানিস্তানের বিষয়ে।’’

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৩৫
Khawaja Asif said US used Pakistan worse than toilet paper

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। —ফাইল চিত্র

ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করতে উঠে পড়ে লেগেছে পাকিস্তান। কখনও বিরল খনিজ ভান্ডারের কথা বলে বাণিজ্যচুক্তি সই করিয়েছে, আবার কখনও ট্রাম্পকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ, সেনাপ্রধান আসিম মুনির-সহ প্রথম সারির নেতারা। সেই আবহে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফের গলায় ঝরে পড়ল আমেরিকার প্রতি একরাশ বিরক্তি ও হতাশা। পাকিস্তানের পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেন, আমেরিকা তার কৌশলগত স্বার্থের জন্য ইসলামাবাদকে কাজে লাগিয়েছে। পরে ‘টয়লেট পেপারের থেকেও খারাপ’ বলে ফেলে দিয়েছে! যদিও এ নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি শাহবাজ়।

সংসদে বক্তৃতার সময় আসিফ বলেন, ‘‘১৯৯৯ সালের পর আবারও ওয়াশিংটনের সঙ্গে জোট করার সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের স্থায়ী ক্ষতি করেছে। বিশেষত, আফগানিস্তানের বিষয়ে।’’ আমেরিকার পিছনে ছুটতে থাকাকে ‘গুরুতর ভুল’ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি। তাঁর মতে, ‘‘এই আচরণের পরিণতি কয়েক দশক পরেও পাকিস্তানকে ভুগতে হবে।’’

পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘাতে বার বার ঢুকে পড়েছে আমেরিকা। আসিফের দাবি, ‘‘আশির দশকে আফগানিস্থানে সোভিয়েত-বিরোধী যুদ্ধ আমেরিকার ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে হয়েছিল। কখনওই জ়িহাদের ঘোষণার প্রয়োজন ছিল না।’’ পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি, অতীতে পাকিস্তান এমন অনেক যুদ্ধে জড়িয়েছে, যেখানে তাদের স্বার্থ জড়িত ছিল না। তার ফলে যে অস্থিতিশীলতা এবং সামাজিক ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও সম্পূর্ণরূপে মেরামত সম্ভব হয়নি।

আসিফের বক্তৃতার একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল আমেরিকা। তাঁর কথায়, ‘‘১৯৯৯ সালের পর, বিশেষত ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে হামলার পর, আমেরিকার সঙ্গে আবার জুড়ে যাওয়ার মূল্য ভয়াবহ।’’ এ জন্য তিনি পাকিস্তানের প্রয়াত প্রাক্তন সেনাপ্রধান জ়িয়াউল হক এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পারভেজ মোশরফকে দায়ী করেছেন। তাঁর দাবি, বহির্বিশ্বের যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলায় ‘বন্ধু’ দেশগুলির তুলনায় অনেকটা পিছিয়ে দিয়েছে পাকিস্তানকে।

তবে আসিফ একবারও ট্রাম্প জমানায় ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেননি। তিনি পাকিস্তানের পূর্বতন সরকারের ‘দোষের’ কথা বর্ণনা করেছেন নিজের বক্তৃতায়। তবে অনেকের মতে, পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও আমেরিকার তরফে এখনও পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

গত বছর জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে দ্বিতীয় বার শপথ নেওয়ার পর থেকে ট্রাম্পের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ মজবুত করতে উঠে পড়ে লাগে শাহবাজ় শরিফের সরকার। ট্রাম্পের নানা দাবিকে সমর্থন করে আসছে তারা। গত বছরের মে মাসে ভারত-পাক সংঘর্ষ বিরতি, তাঁর হস্তক্ষেপেই সম্ভব হয়েছে বলে বার বার দাবি করেন ট্রাম্প। যদিও ভারত প্রথম থেকেই সেই দাবি মানতে চায়নি। তবে ট্রাম্পের সেই দাবিকে পাকিস্তান পূর্ণ সমর্থন করে আসছে পাকিস্তান। এখানেই শেষ নয়, ট্রাম্পের দাবিতে সায় দিয়ে শাহবাজ় সরকার এ-ও জানায়, ট্রাম্পের নোবেল পাওয়া উচিত। ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিস’-কেও সমর্থন জানায় পাক সরকার। সেই বন্ধুত্বে কি এ বার চিড় ধরল?

Pakistan Khawaja Asif
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy