ভারত এবং আমেরিকা বাণিজ্য-সমঝোতার ‘ফ্যাক্ট শিট’ ঈষৎ সংশোধন করল ওয়াশিংটন। বদল আনা হয়েছে শব্দচয়নেও। এবং, সেই সংশোধন করা হয়েছে বাণিজ্য-সমঝোতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কিছু ক্ষেত্রে। যা, সমঝোতার পাল্লাকে কিছুটা ভারতের দিকেই হেলিয়ে রাখল বলে মনে করা হচ্ছে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, এই পরিবর্তনের বিষয়ে আলাদা ভাবে কোনও ঘোষণা করেনি আমেরিকা। পূর্বের প্রকাশিত ‘ফ্যাক্ট শিট’-এর মধ্যেই এই সংশোধনগুলি করা হয়েছে।
দু’দেশের বাণিজ্য-সমঝোতায় উল্লেখ রয়েছে, আমেরিকা থেকে ভারতের ৫০ হাজার কোটি ডলারের মার্কিন পণ্য কেনার কথা। প্রাথমিক ভাবে, আমেরিকার প্রকাশিত ‘ফ্যাক্ট শিট’-এ এই বিষয়ে যে শব্দচয়ন করা হয়েছিল, তা কিছুটা নরম হয়েছে সংশোধিত ‘ফ্যাক্ট শিট’-এ। আগে বলা হয়েছিল ভারত ওই পণ্য কিনতে ‘প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’। তা সংশোধন করে বলা হয়েছে, ভারত ওই পণ্য কিনতে ‘আগ্রহী’ হয়েছে। এই সংশোধন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সমঝোতায় ভারত প্রসঙ্গে আমেরিকার সুর কিছুটা নরম করেছে বলেই মনে করছেন অনেকে।
‘ফ্যাক্ট শিট’-এ ভারত-আমেরিকার সমঝোতার মূল বিষয়গুলিকে মোটা দাগে কয়েকটি ভাগে উল্লেখ করা হয়েছিল। প্রাথমিক ভাবে সেখানে ৫০ হাজার কোটি ডলারের মার্কিন পণ্যের তালিকায় শক্তি, তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি, কয়লার সঙ্গে কৃষিজ পণ্যের কথাও উল্লেখ ছিল। সংশোধিত ‘ফ্যাক্ট শিট’-এ ওই অংশ থেকে কৃষিজ পণ্যের কথা বাদ দেওয়া হয়েছে। যদিও কৃষিজ পণ্যের কথা পৃথক ভাবে অন্য একটি অংশে উল্লেখ রয়েছে।
ভারত বিভিন্ন মার্কিন শিল্প এবং কৃষিজ পণ্যের উপর শুল্ক কমাবে বাণিজ্য সমঝোতায়। তা আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রাথমিক ভাবে হোয়াইট হাউস প্রকাশিত ‘ফ্যাক্ট শিট’-এ শুল্ক হ্রাসের তালিকায় নির্দিষ্ট কিছু ডালের কথাও উল্লেখ ছিল। তবে সংশোধনের পরে ডালের কথা উল্লেখ করা নেই সেখানে। যদিও পূর্বে যেমন ‘অতিরিক্ত কিছু পণ্যে’র কথা উল্লেখ ছিল, সংশোধনের পরেও শুল্ক হ্রাসের তালিকায় ‘অতিরিক্ত কিছু পণ্য’ রয়ে গিয়েছে। সেগুলি কী কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ভারতের কৃষিক্ষেত্রে ডাল হল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি শস্য দানা। আমেরিকার ‘ফ্যাক্ট শিট’ শুল্ক হ্রাসের তালিকায় ডালের কথা উল্লেখ থাকায় উদ্বেগ দানা বাঁধতে শুরু করেছিল দেশীয় কৃষিক্ষেত্রে। ডালের উপর আমেরিকার শুল্ক কমলে, তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা ছিল ভারতীয় কৃষকদের উপরেও। এবং, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও তার প্রভাব পড়তে পারত বলে মনে করা হচ্ছিল। কারণ, বাণিজ্য-সমঝোতা ঘোষণার পরেই দিল্লি জানিয়ে দিয়েছিল ‘সংবেদনশীল’ কৃষি ক্ষেত্রে কোনও প্রভাব পড়বে না। কিন্তু আমেরিকা পরে ডালের উপর শুল্ক হ্রাসের কথা বলায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল বিভিন্ন মহলে। এ বার সংশোধিত ‘ফ্যাক্ট শিট’ থেকে সেই ডালের প্রসঙ্গ মুছে দিল আমেরিকা।
আরও একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন করা হয়েছে ডিজিটাল পরিষেবা কর (ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স)-এর বিষয়ে। প্রাথমিক ভাবে ‘ফ্যাক্ট শিট’-এ আমেরিকা বলেছিল, “ভারত ডিজিটাল পরিষেবা কর ‘প্রত্যাহার’ করবে। ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বৈষম্য এবং অন্য ঝঞ্ঝাটের বিষয়গুলি দূর করে একটি দ্বিপাক্ষিক ডিজিটাল বাণিজ্যবিধি তৈরি করতে ভারত আলোচনায় বসবে।” হোয়াইট হাউসের সংশোধিত ‘ফ্যাক্ট শিট’ থেকে ডিজিটাল পরিষেবা কর প্রত্যাহারের বিষয়টি মুছে ফেলা হয়েছে। পরিবর্তে শুধু উল্লেখ রয়েছে, “দ্বিপাক্ষিক ডিজিটাল বাণিজ্যবিধি নিয়ে (আমেরিকার সঙ্গে) আলোচনা করবে ভারত।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক কমিয়ে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২ ফেব্রুয়ারি নিজেই সমাজমাধ্যমে এই ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভারতের উপর শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে এনেছেন তিনি।
- ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মোদীই তাঁকে শুল্ক সমঝোতার জন্য অনুরোধ করেন বলে জানান ট্রাম্প। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, আমেরিকার কাছ থেকে আরও বেশি তেল কিনবে ভারত।
-
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি সার! ১৫ নয়, ১০ শতাংশ আমদানি শুল্কই ধার্য করল মার্কিন সরকারি এজেন্সি, মঙ্গলবার থেকেই হল কার্যকর
-
১০ থেকে বেড়ে ১৫ শতাংশ! সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আবার শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের
-
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য-সমঝোতায় বদল নেই, নিজের দেশের সুপ্রিম রায়ে ‘হতাশ’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
-
কোর্ট বেআইনি বলায় কি শুল্কের টাকা ফেরত দিতে হবে? ১০% নতুন শুল্ক আরোপ করে ঘুরপথে আয়ের ভাবনা ডোনাল্ড ট্রাম্পের!
-
কবে থেকে কমছে ২৫% শুল্ক? জানাল আমেরিকা! রুশ তেল নিয়ে সিদ্ধান্ত দেশীয় সংস্থাগুলির দিকে ঠেলল মোদী সরকার