Advertisement
E-Paper

ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে? উদ্বেগপ্রকাশ মস্কোর! মার্কিন নীতি নিয়ে কী দাবি

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধকে সামনে রেখেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের খাঁড়া ঝুলিয়েছেন ট্রাম্প। সেই তালিকা থেকে বাদ পড়েনি ভারতও। তবে এ নিয়ে ভিন্ন মত রুশ‌ প্রশাসনের।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:১২
India-US trade deal won\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\'t effect to India-Russia tie, says Russia’s Deputy Foreign Minister Sergei Ryabkov

(বাঁ দিকে) রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র

ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য-সমঝোতার পর্ব শেষ। এখন শুধু বাকি চুক্তিতে সইসাবুদ। তবে এই বাণিজ্য-সমঝোতায় রাশিয়ার তেল একটা বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাণিজ্য-সমঝোতায় অন্যতম শর্ত অনুযায়ী, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনবে না ভারত! অন্তত এমনটাই দাবি মার্কিন প্রশাসনের। অনেকের মনেই প্রশ্ন, সত্যিই কি ভারত এ বার তেল কেনার বিষয়ে রাশিয়ার থেকে মুখ ফেরাবে? যদি তা হয় তবে তার প্রভাব পড়বে কি ভারত-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে? এমন আশঙ্কা অমূলক নয়, তা বুঝিয়ে দিলেন রাশিয়া উপ-বিদেশমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ। উদ্বেগপ্রকাশ করে তিনি জানান, মস্কো আশা করছে ভারত-আমেরিকার বাণিজ্যচুক্তির ফলাফল ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করবে না!

‘ব্রিক্‌স’ শেরপাদের বৈঠকে যোগ দিতে সের্গেই বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। দিল্লিতে সেই বৈঠকের ফাঁকেই ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক সাক্ষাৎকারে ভারত এবং আমেরিকার বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে উদ্বেগের কথা বলেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘ আশা করি এই চুক্তির ফলে আমাদের (ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক) কোনও সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে না। আমাদের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ অনেক বেশি। তবে সেই পরিমাণ বৃদ্ধির সম্ভাবনাও রয়েছে।’’ তার পরেই মার্কিন নীতির সমালোচনা শোনা যায় রুশ উপ-বিদেশমন্ত্রীর কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘‘বর্তমান মার্কিন নীতির সমস্যা হল তারা নিজেদের জন্য সব কিছু চায়। অন্যদের জন্য ভাবে না। এই একতরফা পদ্ধতি সবচেয়ে খারাপ।’’

সের্গেই মনে করেন, একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে শুল্ক হুঁশিয়ারি বা কোনও ধরনের বলপ্রয়োগ কখনই কাম্য নয়। তাঁর কথায়, ‘‘বহুপাক্ষিকতায় বিশ্বাসী অন্যান্য দেশ মনে করে সহযোগিতা এবং পারস্পরিক সুবিধা অর্জনের মধ্যে দিয়েই সমৃদ্ধির পথ বিস্তৃত করা সম্ভব। আমরা সম্মিলিত ভাবে সমস্যার মোকাবিলা এবং সমাধান করি।’’

আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী ‘ব্রিক্‌স’-কে সাম্প্রতিক সময়ে বার বার নিশানা করেছে মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও ‘ব্রিক্‌স’ প্রসঙ্গে তাঁর অসন্তোষ গোপন রাখেননি। তিনি মনে করেন, এই গোষ্ঠী পশ্চিম-বিরোধী। তবে সের্গেইয়ের মতে, ‘‘ব্রিক্‌সের সত্তা কখনওই পশ্চিম-বিরোধী নয়। আমরা আমাদের নিজেদের জন্য যা প্রয়োজন মনে করি, সেটাই করি।’’

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধকে সামনে রেখেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের খাঁড়া ঝুলিয়েছেন ট্রাম্প। সেই তালিকা থেকে বাদ পড়েনি ভারতও। যদিও সের্গেই মনে করেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে বাণিজ্যকে জড়ানো কখনওই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা কখনই ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে নেই। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে একটি সামরিক অভিযানের অধীনে কাজ করছি। এর একমাত্র উদ্দেশ্যই হল ইউক্রেনে বসবাসরত রাশিয়ান এবং রুশভাষী মানুষকে রক্ষা করা।’’

ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে বলে বিশ্বাসী রুশ উপ-বিদেশমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘সম্পর্ক সব সময় উভয় পক্ষের বোঝাপড়ার উপর নির্ভর করে। ভারত এই সম্পর্ককে যত দূর নিয়ে যেতে চায়, আমরাও তত দূর যেতে প্রস্তুত। আকাশ তার শেষ সীমা। আমাদের দু’দেশের সম্পর্কের অসাধারণ ইতিহাস রয়েছে।’’ তেল কেনার ব্যাপারে ভারতের স্বাধীনতা রয়েছে বলে মনে করে রুশ প্রশাসন। প্রসঙ্গত, আমেরিকা-ভারত বাণিজ্য-সমঝোতার ঘোষণা এবং রুশ তেল নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের দাবির পর পরই মস্কো নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছিল।

India-Russia Relationship Narendra Modi Vladimir Putin Donald Trump Russian Oil
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy