Advertisement
E-Paper

বমি করেছিল ২৯ কোটি বছর আগে! সেই জীবাশ্ম পরীক্ষা করেই বিজ্ঞানীরা জানলেন কী খেত সেই প্রাণীরা

বিজ্ঞানীরা বলছেন, জার্মানির জায়গাটি থেকে যে জীবাশ্ম মিলেছে, তা আদতে বেশ কিছু হাড়গোড়ের সমষ্টি। এর আগে ওই এলাকায় এ ধরনের কোনও জীবাশ্ম মেলেনি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:০৭
Fossilised vomit of land animal tells the menu of predators that lived 29 crore years ago

ছবি: সংগৃহীত।

প্রাণীদের বমিও জীবাশ্মে পরিণত হতে পারে? বিজ্ঞানীরা বলছেন, হ্যাঁ। সম্প্রতি কোনও এক প্রাণীর উগরে দেওয়া বমির জীবাশ্ম আবিষ্কার করে একপ্রকার নিশ্চিত হয়েছেন তাঁরা। পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, সেই প্রাণী কোটি কোটি বছর আগে পৃথিবীর বুকে বেঁচে ছিল। জীবাশ্ম পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা এ-ও জানতে পেরেছেন যে, কোটি কোটি বছর আগে ওই অঞ্চলের প্রাণীরা কী খাওয়াদাওয়া করত।

জার্মানির ব্রোমাকার প্যালিয়োন্টোলজিক্যাল সাইটে উদ্ধার হয়েছে সেই জীবাশ্ম। জীবাশ্ম পরীক্ষা করে তিন প্রকার প্রাণীর হাড় পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তার মধ্যে একটি আবার স্তন্যপায়ী শিকারি প্রাণীর। ওই অঞ্চল থেকে সেই স্তন্যাপায়ী প্রাণীর জীবাশ্ম আগেই পেয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা।

যেখানে এই বমির জীবাশ্ম মিলেছে, সেই শিলার বয়স প্রায় ২৯ কোটি বছর বলে দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। সেখানে উদ্ভিদ, সরীসৃপ, উভচর প্রাণীর জীবাশ্ম এবং বিভিন্ন রকম প্রাণীর পায়ের ছাপ মিলেছে। এ বার সেখানে মিলেছে বেশ কিছু হাড়ের দলার জীবাশ্ম। তার কোনও আকৃতি নেই। একেই মনে করা হচ্ছে প্রাচীন এক প্রাণীর বমির জীবাশ্ম। বিজ্ঞানীরা এর আগে প্রাচীন কালের প্রাণীর বিষ্ঠার জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছিলেন। তা পরীক্ষা করে বেশ কিছু তথ্যও পেয়েছিলেন তাঁরা।

কী ভাবে বোঝা গেল জীবাশ্ম কোনও প্রাণীর বমির?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, জার্মানির ওই জায়গাটি থেকে যে জীবাশ্ম মিলেছে, তা আদতে বেশ কিছু হাড়গোড়ের সমষ্টি। এর আগে ওই এলাকায় এ ধরনের কোনও জীবাশ্ম মেলেনি। বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, কিছু খেয়ে কোনও শিকারি প্রাণী তা মল বা বমির মাধ্যমে ত্যাগ করেছে। তবে তাঁদের মতে, ওই জীবাশ্ম বিষ্ঠা নয়। কেন, তা-ও জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, যদি ওই জীবাশ্ম বিষ্ঠা হত, তা হলে ব্যকটিরিয়ার কার্যকলাপের কারণে তাতে ফসফরাসের পরিমাণ বেশি থাকত। তা সংরক্ষিত থাকত পাললিক স্তরের মধ্যে।

কিন্তু ব্রোম্যাকার থেকে মেলা জীবাশ্মে এ রকম কিছু দেখা যায়নি। মাইক্রো-এক্সআরএফ (এক্স-রে ফ্লুওরেসেন্স স্পেক্টোমেট্রি) করে দেখা গিয়েছে, ওই জীবাশ্মে কোনও ফসফরাস নেই। তা থেকেই মনে করা হচ্ছে, এটি বিষ্ঠা নয়। সেই সঙ্গে জীবাশ্মের থ্রিডি সিটি স্ক্যান করা হয়েছে। তাতে তিন রকম প্রাণীর হাড় মিলেছে জীবাশ্মে— এক, চারপেয়ে সরীসৃপ, দুই, দ্বিপদ সরীসৃপ, তিন, বড় কোনও তৃণভোজী প্রাণীর হাত বা পায়ের হাড়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, সেই তিনটি প্রাণীকে ধরেই খেয়েছিল সেই শিকারি স্তন্যপায়ী, তার পরে বমি করে উগরে দিয়েছে।

এর আগে কোনও প্রাণীর বমির জীবাশ্ম উদ্ধার হয়নি বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। পরীক্ষা করে তাঁরা এ-ও জানিয়েছেন, বৃহৎ কোনও মাংসাশী প্রাণী। ব্রোম্যাকারে যে সব প্রাণীর জীবাশ্ম রয়েছে, তাদের মধ্যে এই ধরনের প্রাণীরও জীবাশ্ম মিলেছে। মনে করা হচ্ছে, ওই প্রাণী ডিমেট্রোডন বা টাম্বাকার্নিফেক্স হতে পারে। ওই অঞ্চলে ওই দুই প্রাণীরই জীবাশ্ম মিলেছে। তবে এই বমির জীবাশ্ম থেকে খাদকের খাদ্যাভ্যাস স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বিজ্ঞানীদের কাছে। সেই সঙ্গে তাঁরা বুঝতে পেরেছেন, বমিতে যে তিন প্রাণীর হাড় মিলেছে, তারা এবং খাদক একই সময়কালে একই অঞ্চলে থাকত। ২৯ কোটি বছর আগে ওই অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্রের বিষয়েও কিছুটা ধারণা করতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা।

Fossils Predators
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy