Advertisement
E-Paper

দেহ দীর্ঘক্ষণ কেন বাড়িতে? প্রশ্ন প্রশাসনের ভূমিকায়

শনিবার রাতভর দেহ পড়ে থাকে বাড়িতেই। রবিবার সকালে সৎকারের ব্যবস্থা করে বিধাননগর পুর প্রশাসন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ মে ২০২১ ০৭:০২
ফাইল চিত্র।

ফাইল চিত্র।

সন্ধ্যায় মৃত্যু হয়েছিল বৃদ্ধার। কিন্তু ডেথ সার্টিফিকেট পেতে এবং প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে করতেই রাত পেরিয়ে যায়। শনিবার রাতভর দেহ পড়ে থাকে বাড়িতেই। রবিবার সকালে সৎকারের ব্যবস্থা করে বিধাননগর পুর প্রশাসন।

পুর প্রশাসনের যুক্তি, শ্মশানে কোভিড দেহ সৎকারের দীর্ঘ লাইন ছিল। কোথাও জায়গা পাওয়া যায়নি। তাই বাড়ি থেকে দেহ সরাতে এত ঘণ্টা সময় লেগেছে।

ফলে শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত দেহ আগলে রইল বিধাননগরের করুণাময়ী আবাসনের বাসিন্দা, কোভিডে মৃত এক বৃদ্ধার পরিবার।

স্থানীয় সূত্রের খবর, সল্টলেকের করুণাময়ী আবাসনে ৮৫ বছরের এক বৃদ্ধার কোভিডে মৃত্যু হয় শনিবার সন্ধ্যায়। ওই বাড়িতে থাকা তাঁর আত্মীয়েরাও সংক্রমিত। তাই স্থানীয় বাসিন্দারাই বৃদ্ধার মৃত্যুর খবর জানতে পেরে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তা সত্ত্বেও মৃত্যুর পরে ১৩-১৪ ঘণ্টা বাড়িতেই দেহ পড়েছিল বলে অভিযোগ করছেন আবাসিকেরা।

সংক্রমণের আশঙ্কায় ত্রস্ত বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, সৎকার করতে যদি দেরিও হয়, বাড়ি থেকে দেহ সরিয়ে কোথাও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হোক। পুর প্রশাসন এখন অন্তত সেই বিষয়ে জোর দিক। না হলে এত ঘণ্টা দেহ বাড়িতে পড়ে থাকলে তা থেকে সংক্রমণ ছড়ানো নিয়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। তা ছাড়া, এই পরিস্থিতি মৃতের পরিবারের কাছেও বড় মানসিক ধাক্কা হয়ে যাচ্ছে।

এই সমস্যার কথা মেনে নিলেও পুরসভার দাবি, তারা নিরুপায়। পুর প্রশাসক কৃষ্ণা চক্রবর্তী জানান, খবর পাওয়ার পর থেকেই তৎপরতা শুরু হয়েছিল। বিধাননগরে করোনা আক্রান্তের মৃত্যু হলে বরাহনগর, কামারহাটি-সহ উত্তর ২৪

পরগনার বেশ কয়েকটি শ্মশানে সৎকার নির্দিষ্ট করে দিয়েছে প্রশাসন। কিন্তু সব শ্মশানে এতই ভিড় হচ্ছে যে, কোনও একটি দেহ নিয়ে গেলে ওই শববাহী যানের ফিরতে কয়েক ঘণ্টা সময় পার হয়ে যাচ্ছে। পুরসভা সূত্রের খবর, সব শ্মশানেই কোভিড দেহ

সৎকার করার নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে। ফলে ওই সময়ের মধ্যে দেহ না পৌঁছলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে যাচ্ছে। পুর কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, বাড়ি থেকে মৃতদেহ সরিয়ে নিয়ে কোথায় রাখা হবে, তা নিয়েও সমস্যা আছে। এ ক্ষেত্রে জায়গা সব থেকে বড় বাধা।

এর আগেও রাজারহাট-গোপালপুর এলাকায় এক বৃদ্ধের দেহ দীর্ঘক্ষণ বাড়িতে পড়েছিল। নির্বাচনী বিধির জন্য তখন জন প্রতিনিধিদের কেউ পুর প্রশাসকমণ্ডলীতে ছিলেন না। তাই এই সমস্যা হচ্ছে বলে যুক্তি দেখানো হয়েছিল। সম্প্রতি তাঁরা ফের পুর প্রশাসকমণ্ডলীর দায়িত্বে এসেছেন। তবু কেন এই পরিস্থিতি? এখনও অবশ্য আশ্বাস, “দ্রুত পদক্ষেপ করা হচ্ছে।”

দিন কয়েক আগে দত্তাবাদে এক মহিলার মৃত্যুর পরে সারা রাত কাটলেও মেলেনি ডেথ সার্টিফিকেট। ফলে দেহ সারারাত বাড়িতে পড়ে থাকার পরে সকালে পুরসভার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শংসাপত্র দেন। তার পরে সৎকারের ব্যবস্থা করে পুরসভা।

করুণাময়ী আবাসনের ঘটনায় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, দ্রুত সৎকারের সমস্যা রয়েছে, বোঝা গেল। কিন্তু দীর্ঘ সময় দেহ এ ভাবে বাড়িতে পড়ে থাকছে কেন? কোনও বিকল্প ব্যবস্থা কেন নেবে না পুর প্রশাসন? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রশাসন কি আদৌ সক্রিয়? স্পষ্ট উত্তর মেলেনি কোনও প্রশ্নেরই।

COVID-19
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy