জুন মাসের লড়াইয়ে ইউক্রেনের অন্তত ৩৮ হাজারের সেনা নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছেন বলে দাবি করল রাশিয়া। বুধবার যুদ্ধের ১৫৯০তম দিনে রুশ সংবাদ সংস্থা ‘তাস’ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ইউক্রেন সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশি সংস্থার ভাড়াটে যোদ্ধারাও রয়েছেন।
রুশ সামরিক বিশ্লেষক আন্দ্রেই মারোচকো বলেন, ‘‘জুন মাসে রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের অন্তত ৩৮,৩২৫ জন যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ইউক্রেনীয় সেনার সদস্য ও বিদেশি ভাড়াটে যোদ্ধারা রয়েছেন। এই সংখ্যা মে মাসে হতাহতের তুলনায় ৭,১৮০ জন বেশি।’’ ভলোদিমির জ়েলেনস্কির বাহিনীতে হতাহতের সংখ্যাবৃদ্ধির কারণ জানাতে গিয়ে আন্দ্রেই বলেন, ‘‘ইউক্রেনীয় সেনায় পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব এবং মাত্র কয়েক সপ্তাহের প্রশিক্ষণ শেষেই দ্রুত সেনাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর কারণে হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে।’’
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬টায় (মস্কোর স্থানীয় সময়) রাশিয়ার সরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে জাতির উদ্দেশে বক্তৃতায় কিভের বিরুদ্ধে ‘সামরিক অভিযানের’ কথা ঘোষণা করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউক্রেনের ‘নির্দিষ্ট ৭০টি লক্ষ্যে’ ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমান হামলা চালিয়েছিল রুশ ফৌজ। পরবর্তী ধাপে শুরু হয়েছিল স্থলপথে অভিযানও। সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের পূর্বাভাস ছিল, কয়েক মাসের মধ্যেই পরাস্ত হবে ইউক্রেন। কিন্তু ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জ়েলেনস্কির বাহিনী টানা প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে যে ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, তা দেখে চমকে গিয়েছেন অনেকেই। ইতিহাস বলছে, ইতিমধ্যেই মেয়াদের নিরিখে প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে পিছনে ফেলে দিয়েছে পুতিনের ইউক্রেন অভিযান। বসনিয়ায় আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দের হত্যাকাণ্ডের জেরে ১৯১৪ সালের ২৮ জুলাই অস্ট্রিয়া এবং হাঙ্গেরি যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল সার্বিয়ার বিরুদ্ধে। ওই ঘটনাই ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা। তার ৪ বছর ৩ মাস (১৫৬৪ দিন) পরে, ১৯১৮ সালের ১১ নভেম্বর ফ্রান্সের কমপিয়েঁতে মিত্রবাহিনীর কাছে জার্মানি এবং তার সহযোগীদের আত্মসমর্পণের পরে শেষ হয়েছিল ওই প্রাণঘাতী যুদ্ধ।