Advertisement
E-Paper

‘দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পু থেকে ডিসি শান্তনুর সঙ্গে বেআইনি আর্থিক যোগ!’ দাবি ইডি-র, ব্যবসায়ী জয়কে পেল ৮ দিনের হেফাজতে

জয়ের সঙ্গে সোনা পাপ্পু থেকে কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। শান্তনুর পুত্র জয়ের সংস্থা থেকেও ব্যবসায়ী টাকা নিয়েছেন বলে ইডির দাবি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:০৯
জয় এস কামদার।

জয় এস কামদার। —ফাইল চিত্র।

ইডি-র হাতে ধৃত বেহালার ব্যবসায়ী জয় এস কামদারের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল আদালত। অভিযুক্তের সঙ্গে দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পু থেকে কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের বেআইনি আর্থিক যোগের অভিযোগ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এমনকি, পুলিশ আ শান্তনুর পুত্র জয়ের একটি সংস্থা থেকে দু’টি ফ্ল‍্যাটের জন‍্য তিনি টাকা নিয়েছেন বলে ইডির দাবি।

রবিবার গ্রেফতারির পর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন জয়। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করানো হয়েছিল তাঁকে। চিকিৎসকদের ছাড়পত্র পেয়ে সোমবার জয়কে হেফাজতে নেওয়ার জন্য ব্যাঙ্কশাল আদালতে হাজির করে কেন্দ্রীয় সংস্থা। তবে ধৃত ব্যবসায়ী আইনজীবীর মাধ্যমে জানান, কোনও অপরাধকাণ্ডে নির্দিষ্ট করে তাঁর নাম নেই। জয়ের আইনজীবী সঞ্জয় দাশগুপ্ত তাঁর মক্কেলের জামিনের আর্জি জানিয়ে বলেন, ‘‘ওঁর সংস্থার সঙ্গে দেড় কোটির লেনদেনের কথা বলেছে ইডি। কিন্তু সেই লেনদেন বেআইনি কি না, তা বলা হয়নি।’’ পাল্টা ইডির আইনজীবী বলেন, ‘‘সিডিউল অপরাধে নাম নেই মানে ইডি কোনও তথ‍্য পেলে তদন্ত করতে পারবে না, এমন ভাববার কোনও কারণ নেই। পুলিশের চার্জশিটে নাম নেই মানে, এমনটা নয় যে দুর্নীতির টাকা থাকবে না।’’

আদালতে ইডি জানিয়েছে, জয়ের অফিস এবং বাড়ি থেকে নগদ অর্থ বাজেয়াপ্ত হয়েছে। মোবাইল চ‍্যাট এবং অন্যান্য ডিজিটাল গেজ়েট থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ‍্য পাওয়া গিয়েছে। সেখান থেকে হাওয়ালা যোগের তথ্য উঠে এসেছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্তের কাছ থেকে বেশ কিছু জবাব মেলেনি। তিনি সঠিক উত্তর দেননি। মালয়েশিয়া, ব্রিটেন এবং দুবাইয়ের কয়েক জনের সঙ্গে চ‍্যাট পাওয়া গিয়েছে মোবাইলে। সে নিয়ে তাঁর কাছে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলেও তিনি জানাননি।

Advertisement

জয়ের বিরুদ্ধে তলব এড়ানোর অভিযোগ তুলেছে ইডি। তাদের আইনজীবী বলেন, ‘‘সমন পাঠালেও উনি বলেন, আসতে পারছেন না! সেটা কি তদন্ত এড়িয়ে যাওয়া নয়?’’ সওয়ালের সময় সোনা পাপ্পুর প্রসঙ্গ ওঠে। ইডির আইনজীবী বলেন, ‘‘সোনা পাপ্পুর সঙ্গে লেনদেন নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে উনি বলেন, ‘মাত্র ১৪-১৫ লক্ষ লেনদেন হয়েছে।’ মোবাইল ⁠চ‍্যাট থেকে ৪০ কোটি টাকা লেনদেনের বিষয়ে সঠিক তথ্য জানাননি। ভুয়ো সংস্থা রয়েছে ওঁর। শেষ চার মাসে ৫০০ কোটির লেনদেন হয়েছে সেখানে।’’

বেহালার ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে হাওয়ালার মাধ্যমে বিদেশি মুদ্রা পাচারের অভিযোগ করে ইডি। তাদের দাবি, ⁠অভিযুক্তের মোবাইল চ্যাট থেকে পরিষ্কার যে, হাওয়ালায় লেনদেনের জন‍্য নোটের ছবি ব‍্যবহার করা হয়েছে নগদ চিহ্নিতের জন‍্য। তা ছাড়া রাজ্য প্রশাসনের ⁠উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে মোবাইলে বার্তালাভের প্রমাণ মিলেছে। আইনজীবীর অভিযোগ, ‘‘জয় বলছেন, ১৫ লক্ষ টাকা সোনাকে দিয়েছেন। কিন্তু নথি দেখে দেড় কোটির তথ‍্য জানা যাচ্ছে।’’

‘দুর্নীতির অর্থ’ বিদেশেও পাঠানো হয়েছে বলে আদালতে দাবি করেছে ইডির। তারা জানায়, জয় জামিন পেলে তদন্ত ব‍্যাহত হবে। ১৫০টি ব‍্যাঙ্ক অ‍্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইডির দাবির প্রেক্ষিতে জয়ের আইনজীবী জানান, পুলিশ আধিকারিক ⁠শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের পুত্র দু’টি ফ্ল‍্যাটের জন‍্য আনুমানিক ৬ লক্ষ দেন। কিন্তু ওই চুক্তি পরে বাতিল করা হয়েছিল। আদালতে জয় বলেন, ‘‘নির্মাণকারী হিসাবে আমার নাম রয়েছে। ইডি বাড়িতে গিয়েছিল, তখনও বাড়িতে ছিলাম। তা হলে পালিয়ে যাওয়ার বিষয় কী ভাবে আসছে! মনে হচ্ছে দেশে যা হচ্ছে সব আমার জন‍্য হচ্ছে। উনি তদন্ত এড়িয়ে যাচ্ছেন এমন নয়। ⁠একজনের চারটি এফআইআর হয়েছে। সেই সব মামলার চার্জশিট হয়েছে। এখনও পর্যন্ত আমার বিরুদ্ধে কিছু মেলেনি।’’

যদিও সমস্ত পক্ষের সওয়াল-জবাবের পর জয়কে আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ইডি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। যে হেতু গ্রেফতারির পর ব্যবসায়ী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যাপারে নজর রাখতে বলা হয়েছে।

ED
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy