কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের বাড়িতে হানা দিল ইডি। তাঁর বালিগঞ্জের ফার্ন রোডের বাড়িতে সাতসকালে পৌঁছে গিয়েছেন ইডি আধিকারিকেরা। বাড়িতে তল্লাশি চলছে বলে খবর। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, বালিগঞ্জে সোনা পাপ্পুর মামলায় ইডির এই তল্লাশি অভিযান। শান্তনু একসময় কালীঘাট থানার ওসি ছিলেন। রবিবার সকালে বেহালার এক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও ইডি হানা দিয়েছে।
বালিগঞ্জে গোলমালের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সোনা পাপ্পুকে পুলিশ এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি। যদিও সমাজমাধ্যমে তাঁকে প্রকাশ্যে আসতে এবং ‘লাইভ’ করতে দেখা গিয়েছে। এই ঘটনায় এর আগে এক আইপিএস আধিকারিককে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল ইডি। এ বার খোদ ডিসি-র বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালানো হল।
আরও পড়ুন:
সূত্রের খবর, বেহালায় ব্যবসায়ী জয় কামদারের বাড়িতে ইডি গিয়েছে। তিনি মূলত প্রোমোটিংয়ের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি স্থানীয়দের। এর আগেও তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। সোনা পাপ্পুর বাড়িতে তল্লাশির সূত্রেই তাঁর নাম উঠে এসেছিল। বেশ কিছু নগদ অর্থ বেহালার এই বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এই ব্যবসায়ীকে দু’বার তলব করেছিল ইডি। কিন্তু তিনি দু’বারই হাজিরা এড়িয়েছেন। তার পর ফের রবিবার তাঁর বাড়িতে গেলেন কেন্দ্রীয় আধিকারিকেরা।
সূত্রের খবর, ভোরেই সিজিও কমপ্লেক্স থেকে রওনা দিয়েছিল ইডি-র একাধিক দল। সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা রয়েছেন। বেহালায় গিয়ে ব্যবসায়ীর বাড়ির সামনে বেশ কিছু ক্ষণ তাঁদের অপেক্ষা করতে হয়। অভিযোগ, বার বার ডাকাডাকি সত্ত্বেও বাড়ির দরজা খুলছিলেন না কেউ। অনেক ক্ষণ পরে দরজা খোলা হয় এবং ইডি ভিতরে প্রবেশ করে। বালিগঞ্জেও ভোরেই পৌঁছে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকেরা।
আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল রাজ্যের ২৯৪টি আসনে দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে। ভোটের ফলাফল জানা যাবে ৪ মে। তার আগে রাজনৈতিক দলগুলি জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন মামলায় খাস কলকাতায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে ইডি। বেআইনি নির্মাণের মামলায় শুক্রবার শহরের একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চলেছে। কিছু দিন আগে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতেও তারা হানা দিয়েছিল। এ ছাড়া, রাসবিহারীর বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়িতে হানা দিয়েছিল আয়কর দফতর। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির এই অতি তৎপরতার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। অভিযোগ, কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার এই সংস্থাগুলিকে রাজনৈতিক প্রয়োজনে ব্যবহার করছে। বিজেপি সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে।