নবান্নের পর কলকাতা পুরসভা। ‘নীলবাড়ির লড়াইয়ে’ পরাস্ত হওয়ার এক মাসের মধ্যে ‘লালবাড়ি’ও হাতছাড়া হল তৃণমূলের? বুধবার কলকাতার মেয়র পদ ছাড়তে চাইলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। এমনটাই তৃণমূল সূত্রে খবর। বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অনুমতি নিয়েই ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফিরহাদ। যদিও ফিরহাদ নিজে এ নিয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেননি।
বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে তৃণমূলের বেশ কয়েক জন বিধায়ক নবান্নে গিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কলকাতা বন্দরের বিধায়ক ফিরহাদও। সেখান থেকে ফিরেই মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বলে তৃণমূলের একটি সূত্রে খবর। বিধায়ক কুণাল জানান, পুরসভায় এই মুহূর্তে কাজ করা যাচ্ছে না। সেটাই তৃণমূলনেত্রী মমতাকে গিয়ে জানিয়েছিলেন ফিরহাদ। কুণালের কথায়, ‘‘নেত্রী বারণ করেছিলেন। কিন্তু ফিরহাদ জানান, সম্মানের সঙ্গে নিষ্কৃতি চান তিনি। এর পরে মমতা সম্মতি দিয়েছেন।’’
২০১৮ সালের নভেম্বরে রাজ্যের তৎকালীন নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ কলকাতার মেয়র হন। বস্তুত, ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কেএমসি-র প্রথম মুসলমান মেয়র হয়েছিলেন তিনি। তার পর ২০২১ সালে দ্বিতীয় বার মেয়রের আসনে বসেন কলকাতা বন্দর কেন্দ্রের বিধায়ক তথা কলকাতার ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। প্রায় আট বছর মন্ত্রিত্ব এবং মেয়র পদ সমানতালে সামলানোর পর বুধবার আচমকা ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ। মঙ্গলবারই কলকাতা পুরনিগমের মেয়র পারিষদ (নিকাশি) পদ ছাড়েন তারক সিংহ। তিনি আবার ফিরহাদকে নিশানা করেছেন। তৃণমূলের প্রতীকে আর ভোটে না দাঁড়ানোর ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর প্রশংসা করেছেন। তারকের কথায়, ‘‘কর্মী এবং সমর্থকদের কোনও ভাবে সুরক্ষা দিচ্ছেন না দলীয় নেতৃত্ব। যে কারণে ওই ঠান্ডা ঘরে বসে জ্ঞানের বাণী শোনার তাঁর কোন সদিচ্ছা নেই।” তারকের ইস্তফার পর ফিরহাদ বলেছিলেন, ‘‘আমরা একটা টিম হিসাবে কাজ করি। যা করব একসঙ্গেই করব।’’
বুধবার তৃণমূলের জন্য ঘটনাবহুল দিন। বুধবারই তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ৫৮ বিধায়কের সমর্থনে বিরোধী দলনেতা হয়েছেন। বুধবারই রাজ্যে দলের সমস্ত কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল। দলে ভাঙন-সম্ভাবনা রুখতেই তৃণমূল নেতৃত্ব এই কৌশলী পদক্ষেপ করলেন কি না, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়। কেউ কেউ মনে করছেন, নির্বাচনে দলের শোচনীয় পরাজয় এবং তার পরেই ভাঙন-সম্ভাবনার আবহে ছাত্র, যুব, শ্রমিক, মহিলা সংগঠনকে নতুন করে সাজাতে চাইছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা। এই সব জল্পনার মাঝে কালীঘাটে মমতার সঙ্গে আলোচনায় বসেন অভিষেক, কুণাল, চন্দ্রিমারা। আবার তার মাঝে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছে ইডি-র নোটিস। নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় ওই পদক্ষেপ বলে খবর। সেই ডামাডোলের মাঝে আলোচনায় ফিরহাদের ইস্তফা নিয়ে জল্পনা।