E-Paper

কুকীর্তি ফাঁস রুখতে নথি লোপাট করেন প্রাক্তন পুলিশকর্তা, দাবি ইডি-র

তদন্তকারীদের দাবি, কলকাতা পুলিশ ওয়েলফেয়ার কমিটির অন্যতম মাথা ছিলেন শান্তনু। উপরন্তু, তিনি বিগত সরকারের সর্বোচ্চ ক্ষমতাশালীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এই মামলায় শান্তনুর বাড়িতে তল্লাশি অভিযানের পরপরই বডিগার্ড লাইন্সে পুলিশ ওয়েলফেয়ার কমিটির অফিসের একাংশ ভেঙে ফেলা হয় বলে অভিযোগ।

শুভাশিস ঘটক

শেষ আপডেট: ৩১ মে ২০২৬ ০৮:৩৮

— প্রতীকী চিত্র।

কুকীর্তি প্রকাশ্যে আসা ঠেকাতে নিজের তিনটি মোবাইল ফোনই শুধু আড়াল করে রাখা নয়, জালিয়াতি করে সরকারি ও বেসরকারি জমি দখল এবং সেই জমিতে অবৈধ নির্মাণের মামলায় জেল হেফাজতে থাকা কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন উপ-নগরপাল শান্তনু সিংহ বিশ্বাস আলিপুর বডিগার্ড লাইন্সে কলকাতা পুলিশ ওয়েলফেয়ার কমিটির অফিস থেকে দুর্নীতির যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ লোপাট করেছেন বলেও এ বার দাবি করল ইডি। প্রসঙ্গত, এই মামলায় শান্তনু এবং আর এক ধৃত, দক্ষিণ কলকাতার দাগি দুষ্কৃতী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুকে ইতিমধ্যেই জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত।

তদন্তকারীদের দাবি, কলকাতা পুলিশ ওয়েলফেয়ার কমিটির অন্যতম মাথা ছিলেন শান্তনু। উপরন্তু, তিনি বিগত সরকারের সর্বোচ্চ ক্ষমতাশালীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এই মামলায় শান্তনুর বাড়িতে তল্লাশি অভিযানের পরপরই বডিগার্ড লাইন্সে পুলিশ ওয়েলফেয়ার কমিটির অফিসের একাংশ ভেঙে ফেলা হয় বলে অভিযোগ।

মামলার তদন্তকারী অফিসারের দাবি, এই দুর্নীতির সূত্রপাত ২০২২ সালে। নথি জাল করে সরকারি ও বেসরকারি জমি দখলের পাশাপাশি প্রবীণ নাগরিকদের হুমকি দিয়ে, কার্যত জলের দরে তাঁদের কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তিরও দখল নিয়েছিলেন অভিযুক্তেরা। এর পরে ওই সব সম্পত্তি ভেঙে নতুন নির্মাণ শুরু করা হয়েছিল। ২০২৪ সাল থেকে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি বিক্রি করা শুরু হয়। যার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা মুনাফা করতে থাকেন শান্তনু-সহ অন্য অভিযুক্তেরা।

তদন্তকারীদের কথায়, শান্তনু, সোনা পাপ্পু এবং নির্মাণ ব্যবসায়ী জয় কামদার— এই ত্রয়ীর মিলিত হওয়ার অন্যতম জায়গা ছিল কলকাতা পুলিশ ওয়েলফেয়ার কমিটির অফিস। সেখানে প্রায় নিয়মিত ভিত্তিতে তাঁরা বৈঠক করতেন। ইডি সূত্রের দাবি, শান্তনু-ঘনিষ্ঠ তিন পুলিশ অফিসার ওই অফিসের কম্পিউটার ও ল্যাপটপে দুর্নীতির কালো টাকার লেনদেনের হিসাব তৈরি করতেন। গত ১৪ এপ্রিল শান্তনুর বাড়িতে তল্লাশির কয়েক দিনের মধ্যেই ওয়েলফেয়ার কমিটির অফিসের একটি বড় অংশ ভেঙে ফেলা হয়। ইডি-র দাবি, অফিসের যে অংশে যাবতীয় আর্থিক লেনদেন চলত, ভাঙা হয় সেই অংশটিই। সেই সঙ্গে, সরিয়ে ফেলা হয় সমস্ত কম্পিউটার ও ল্যাপটপ। শান্তনু এবং সোনা পাপ্পু হেফাজতে থাকাকালীন তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই বিষয়টি জানা গিয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। তাঁরা আরও দাবি করেছেন, ইতিমধ্যে শান্তনুর ঘনিষ্ঠ ওই তিন পুলিশ অফিসারকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তদন্তকারীদের কথায়, পুরো দুর্নীতির মূল তিন মাথা ছিলেন শান্তনু, সোনা পাপ্পু ও নির্মাণ ব্যবসায়ী জয়। বিগত সরকারের সর্বোচ্চ ক্ষমতাশালীর ঘনিষ্ঠ থাকার সুবাদে শান্তনু প্রভাবশালীদের সঙ্গে যোগাযোগের সব তথ্য মুছে ফেলার জন্য নিজের তিনটি মোবাইল আড়াল করে রেখেছেন। এমনকি, দুর্নীতির কালো টাকা প্রভাবশালীদের কাছে পৌঁছনোর সব নথি লোপাট করেছেন। ইডি সূত্রের খবর, টাকা তছরুপের ধারার পাশাপাশি শান্তনুর বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের ধারা যুক্ত করার জন্য আদালতে আবেদন জানানো হবে।

তবে তদন্তকারীদের দাবি, পুরো দুর্নীতিতে কত টাকা লেনদেন হয়েছিল, জয় কামদারকে জেরা করে তাঁর অনেকটাই হিসাব পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি, শান্তনু-ঘনিষ্ঠ কলকাতা পুলিশের কর্মী রুহুল আমিন আলির কসবার বাড়ি থেকেও এই দুর্নীতির বহু নথি উদ্ধার করা হয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Enforcement Directorate Shantanu Sinha Biswas

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy