দু’মাস পেরিয়ে গেল, এখনও অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু-রহস্য কাটল না। পুলিশ নিশ্চিত করে জানাতে পারল না, কার বা কাদের গাফিলতিতে রাহুলের মৃত্যু হয়েছে। রাহুলের মৃত্যুর সময়ে ড্রোনে তোলা ফুটেজই বা গেল কোথায়? আদৌ কি তালসারির সমুদ্র সৈকতে শুটিং করার অনুমতি নেওয়া হয়েছিল? নেওয়া হলে সেই অনুমতিপত্র কোথায়? জানা গেল না, কার গাফিলতিতে রাহুলকে দ্রুত উদ্ধার করা গেল না? রাহুলের পরিবারের পক্ষের আইনজীবীর অভিযোগ, পুলিশের তরফে কোনও কিছুই জানানো হচ্ছে না। ‘জানাব, জানাচ্ছি’ বলেই কাটিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এ বার তারা পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্তে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ আনার ভাবনাচিন্তা শুরু করেছেন। এ ব্যাপারে রাহুলের পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে বলেও সূত্রের খবর।
গত ২৯ মার্চ তালসারিতে একটি বাংলা ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হয় রাহুলের। এক সপ্তাহ পরে ওই ধারাবাহিকের প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স’-এর প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায়, কর্ণধার শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়, সহ-পরিচালক শুভাশিস মণ্ডল, কার্যকরী প্রযোজক শান্তনু নন্দী এবং ম্যানেজার চন্দ্রশেখর চক্রবর্তীর নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। তালসারি মেরিন থানা ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৬ (১) (গাফিলতির কারণে মৃত্যু), ২৪০ (মিথ্যা তথ্য প্রদান) এবং ৩ (৫) (সম্মিলিত অপরাধ) ধারায় মামলা রুজু করে। রিজেন্ট পার্ক থানাতেও একটি মামলা রুজু করা হয় ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার্স আর্টিস্টস ফোরাম’-এর পক্ষ থেকে। প্রিয়াঙ্কার অভিযোগ, প্রযোজনা সংস্থা ওড়িশা সরকারের কাছ থেকে শুটিং করার অনুমতি নেয়নি এবং শুটিংয়ের জায়গায় নিরাপত্তা-বিধি মানা হয়নি। প্রযোজনা সংস্থার তরফে রাহুলকে উদ্ধারের ঠিক সময় জানানো হয়নি। বরং পরস্পরবিরোধী কিছু বিবৃতি সামনে এসেছে, যা প্রমাণ করে, এই মৃত্যু মূলত প্রযোজনা সংস্থা ও সেটির সদস্যদের চরম অবহেলার ফল।
প্রিয়াঙ্কা এবং ফোরামের তরফে দু’টি মামলাই করেছিলেন আইনজীবী স্মিতেশ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বললেন, ‘‘রাহুলের মৃত্যুর ঠিক দু’মাস পার হল শুক্রবার। কিন্তু তদন্তের গতিপ্রকৃতির কিছুই আমাদের জানানো হচ্ছে না। আমরা জেনেছি, রাহুলের সঙ্গেই জলে পড়ে যাওয়া সহ-অভিনেত্রীর গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর পরে তদন্ত আর এগিয়েছে কিনা, কাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বা আদৌ করা হয়েছে কিনা, কিছুই জানানো হয়নি। অভিযুক্তেরা জামিন নিয়েছেন কিনা, তাঁদের বয়ান নথিভুক্ত করানো হয়েছে কিনা, এই প্রাথমিক তথ্যগুলিও পুলিশের তরফে আমাদের জানানো হচ্ছে না। আমাদের আইনি লড়াই চলছে, এ বার পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ আনার পথে এগোলেও এগোতে পারি।’’
এ ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হয়েছিল ওড়িশা পুলিশের সঙ্গে। তবে কোনও কর্তাই এ ব্যাপারে মুখ খুলতে নারাজ। তাঁরা জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন থাকায় কিছু দিন দেরি হয়েছে। তবে এফআইআরে যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের বক্তব্য শোনার জন্য ডাকা হয়েছে। কয়েক জনের সঙ্গে কথাও হয়েছে। ঘটনার কিছু ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু এই ঘটনার অন্যতম সূত্র হিসাবে উঠে আসা ড্রোনের ফুটেজ কোথায়, বলতে পারেননি কেউই। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলেও প্রিয়াঙ্কা ফোন ধরেননি। টেক্সট মেসেজেরও উত্তর দেননি। তবে এফআইআর-এ নাম থাকা প্রযোজক লীনা বলেছেন, ‘‘বিচারাধীন বিষয় নিয়ে এখনই বেশি কিছু বলতে চাই না। যাঁরা মামলা করেছেন, তাঁরা ভাল বলতে পারবেন। তবে তদন্তে সব রকমের সহযোগিতা আমি করেছি।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)