রাজ্য পুলিশের তদন্তেই শুধু নয়, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ধৃত শেখ মুরসালিন ও গৌতম খাঁড়ার নাম উঠে এসেছিল এক বছর আগে, জয়পুর পুলিশে দায়ের হওয়া গুপ্তচরবৃত্তির আর একটি মামলার তদন্তেও।
পুলিশ সূত্রের খবর, গত বছরের জুলাইয়ে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ধরা হয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ানকে। অফিশিয়াল সিক্রেটস আইনে তাকে ধরেছিল জয়পুর পুলিশ। পুলিশের দাবি, ওই জওয়ান গ্রেফতার হওয়ার পরেই তদন্তে উঠে এসেছিল মুরসালিন ও গৌতমের নাম। অভিযোগ, জয়পুরের মামলায় যে মোবাইল নম্বরটি ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটির সিম কার্ড চালু করা হয়েছিল পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা থেকে। পুলিশের অনুমান, মুরসালিন ও গৌতমই ওই কাজ করেছিল। তদন্তকারীরা জানান, ওই নম্বরের ওয়টস্যাপ অ্যাকাউন্টটি পাকিস্তানে বসে সেখানকার গোয়েন্দারা ব্যবহার করছিলেন বলে জয়পুর পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। মনে করা হচ্ছে, ওই মামলার সূত্রে ধৃতদের জেরা করতে কলকাতায় আসতে পারে জয়পুর পুলিশের একটি দল।
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা থানা এলাকার ক্ষীরাই পঞ্চায়েতের দুই বাসিন্দা, শেখ মুরসালিন ও গৌতম খাঁড়াকে ধরেছিল রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। গোয়েন্দারা প্রাথমিক ভাবে জেনেছেন, গৌতমের মোবাইল ফোনের সিম কার্ডের দোকান রয়েছে। সেখান থেকেই বিভিন্ন গ্রাহকের নথির সাহায্যে চারশোর মতো সিম কার্ড চালু করে মুরসালিনের হাতে দিয়েছিল সে। মুরসালিন সেই নম্বরগুলি পাঠাত বিভিন্ন ওয়টস্যাপ গ্রুপে আলাপ হওয়া পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের গুপ্তচরদের। যা দিয়ে পাকিস্তানে বসে থাকা ভারত-বিরোধী এজেন্টরা ওয়টস্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলত। পুলিশের দাবি, সিম কার্ডগুলি যে হেতু মুরসালিনের কাছেই থাকত, তাই ওয়টস্যাপ চালুর ওটিপি আসত তার কাছে। সে সেই ওটিপি জানাত আইএসআই এজেন্টদের। বিনিময়ে মোটা টাকাও পেত সে।
সূত্রের দাবি, ভারতীয় মোবাইল নম্বর দিয়ে খোলা ওয়টস্যাপ অ্যাকাউন্টের সাহায্যে এক বা একাধিক পাকিস্তানি গোয়েন্দা যে এ দেশে গুপ্তচরবৃত্তির কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, তার প্রমাণ মিলেছে। ওই সব ওয়টস্যাপ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই পাক এজেন্টরা ভারতে মাদক পাচার ও অবৈধ অস্ত্রের চোরাচালান করছেন বলে অনুমান। তদন্তকারীদের দাবি, ওই সব ভারতীয় মোবাইল নম্বর মুরসালিন ও গৌতম সরবরাহ করেছে। গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, ধৃতদের জেরা করে কিছু মোবাইল নম্বর মিলেছে, যেগুলির মাধ্যমে খোলা ওয়টস্যাপ অ্যাকাউন্ট পাকিস্তানে বসে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেগুলি বন্ধের জন্য মোবাইল পরিষেবা সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)