Advertisement
E-Paper

তোলা নিয়ে মুখ খুলতেই যুবককে ছুরি কামারহাটিতে

এ বার তোলাবাজির অভিযোগ উঠল কামারহাটির এক তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। পুলিশ ও পুরসভার চেয়ারম্যানের কাছে সেই অভিযোগ করলেন ওই কাউন্সিলরেরই ‘অতি ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত এক যুবক।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ জুলাই ২০১৬ ০১:১০
ছুরিতে জখম অভিযোগকারী যুবক।

ছুরিতে জখম অভিযোগকারী যুবক।

এ বার তোলাবাজির অভিযোগ উঠল কামারহাটির এক তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। পুলিশ ও পুরসভার চেয়ারম্যানের কাছে সেই অভিযোগ করলেন ওই কাউন্সিলরেরই ‘অতি ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত এক যুবক। শুধু তা-ই নয়, থানা ও দলের শীর্ষ নেতাকে বিষয়টি জানানোর অপরাধে ওই যুবককে কাউন্সিলর খুনের চেষ্টাও করেছেন বলে অভিযোগ।

গত সোমবার বেলঘরিয়া থানায় কামারহাটি পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অজিতা ঘোষ (দত্ত) এবং তাঁর স্বামী তাপস দত্তের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় তৃণমূলকর্মী শিবু নাগ। তিনি কামারহাটি পুরসভার অস্থায়ী ওয়ার্ড সুপারভাইজার। কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ওই যুবকের করা অভিযোগের কথা স্বীকার করেছেন পুর চেয়ারম্যান তথা বেলঘরিয়ায় তৃণমূলের সভাপতি গোপাল সাহা। তিনি বলেন, ‘‘শিবু দীর্ঘ দিন ধরেই অজিতার ঘনিষ্ঠ বলেই জানি। কিন্তু বেশ কিছু দিন ধরেই ওই যুবক আমার কাছে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাচ্ছিলেন। এর পরে কাউন্সিলরকে ফোন করে সংযত হতেও বলেছিলাম। নিজেদের মধ্যে বিষয়টি মিটিয়ে নিতেও বলি।’’ অভিযোগ, এর পরেই গত সোমবার ওই যুবককে খুনের চেষ্টা করেন ওই কাউন্সিলর। তাঁর ছুরির ঘায়ে ওই যুবক আহত হন বলে অভিযোগ।

দলের তরফে তোলাবাজি বা কোনও অন্যায় সমর্থন করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন গোপালবাবু। তাঁর দাবি, ‘‘কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ এসেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে রেয়াত করা হবে না।’’ তবে খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই আর যোগাযোগ করা যায়নি অজিতাদেবী ও তাঁর স্বামী তাপসবাবুর সঙ্গে। শুক্রবার পুর চেয়ারম্যানও দাবি করেন, ওই কাউন্সিলরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি তিনি।

এ দিনই বিছানায় শুয়ে শিবু জানান, এক সময়ে তিনি ওই কাউন্সিলরের ছায়াসঙ্গী ছিলেন। কিন্তু ইদানীং অজিতাদেবী বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েছিলেন বলে প্রতিবাদ করেছিলেন ওই যুবক। আর তা নিয়েই দু’জনের সম্পর্কে চিড় ধরে। অভিযোগ, কয়েক দিন আগে শিবুরই এক আত্মীয় রাস্তায় টোটো নামাতে কাউন্সিলরের কাছে যান। অভিযোগ, সেই সময়ে অজিতাদেবী ও তাঁর স্বামী ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। ওই যুবকের কথায়, ‘‘টাকা না দিলে রাস্তায় টোটো নামানো যাবে না এবং বাইরে কাউকে জানালে আমার ওই আত্মীয়ের দুই মেয়ের ক্ষতি করে দেবেন বলেও তাপসদা হুমকি দেন।’’

শিবু জানান, এই তোলাবাজির বিষয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছিল গোপালবাবুর কাছে। কাউন্সিলরকে ফোনে সতর্কও করেন পুর চেয়ারম্যান। শিবু বলেন, ‘‘চেয়ারম্যানের ফোন পেয়েই ক্ষেপে গিয়ে অজিতাদি আমাকে ফোনে হুমকি দেন। তখনই পুলিশে অভিযোগ করেছিলাম।’’ ওই যুবকের আরও দাবি, পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর সময়ে তাঁর এক বন্ধু সুশান্ত রায়চৌধুরী সাক্ষী দেন। সেই জন্য গত ১৭ জুলাই, রবিবার রাতে সুশান্তর বাড়িতেও দলবল নিয়ে চড়াও হন তাপসবাবুরা। সেই বিষয়েও বেলঘরিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। ঘটনায় পুলিশ রাজু দাশগুপ্ত নামে এক অভিযুক্ত গ্রেফতার হয়।

ওই যুবকের আরও অভিযোগ, ওই ঘটনার পরদিন, সোমবার বেলঘরিয়া রেল সাইডিংয়ের পাশের রাস্তা দিয়ে ফেরার সময়ে তাঁর উপরে আক্রমণ করেন অজিতাদেবী। স্থানীয় এক যুবকের বাইকে চেপে এসে তিনি শিবুর গলা লক্ষ করে ছুরি চালান। কিন্তু তা শিবুর ডান হাতে লাগে। পাঁচটি সেলাই পড়ে সেই হাতে।

ব্যারাকপুরের ডেপুটি কমিশনার (জোন ২) ধ্রুবজ্যোতি দে বলেন, ‘‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগকারীর সঙ্গেও ফের কথা বলছেন তদন্তকারীরা।’’ অন্য দিকে গোপালবাবুও বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বলেছেন, দাদাগিরি রেয়াত করা হবে না। তাই ওই কাউন্সিলর কিংবা তাঁর স্বামী দোষী প্রমাণিত হলে পুলিশ যথাযত ব্যবস্থা নেবে। দলও কড়া ব্যবস্থা নেবে।’’

—নিজস্ব চিত্র

TMC councillor Extortion
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy