Advertisement
E-Paper

ঘরে আগুন, বেরোতে না পেরে দগ্ধ চার জন

বহুতলে আগুনের রেশ কাটার আগেই ফের শনিবার ভোরে আগুন লাগল হাওড়ার শিবপুর এলাকার কাজিপাড়ার একটি বাড়িতে। যে ঘরে আগুন লাগে, সেখান থেকে বেরোতে না পেরে গুরুতর ভাবে অগ্নিদগ্ধ হলেন বাড়ির চার সদস্য।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ ডিসেম্বর ২০১৬ ০২:২৩

বহুতলে আগুনের রেশ কাটার আগেই ফের শনিবার ভোরে আগুন লাগল হাওড়ার শিবপুর এলাকার কাজিপাড়ার একটি বাড়িতে। যে ঘরে আগুন লাগে, সেখান থেকে বেরোতে না পেরে গুরুতর ভাবে অগ্নিদগ্ধ হলেন বাড়ির চার সদস্য। অভিযোগ, বাইরে থেকে আটকানো ছিল ওই ঘরের ছিটকিনি। আহতদের তিন জন হাওড়া জেলা হাসপাতালে ভর্তি। এক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দুপুরে তাঁকে কলকাতার একটি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় কাজিপাড়ার কাছেই দীনবন্ধু কলেজের উল্টো দিকে একটি বহুতলের দোতলায় বিধ্বংসী আগুন লাগে। জখম হন দু’জন। মোট ছ’জনকে পাশের বাড়ির ছাদ থেকে উদ্ধার করেন এলাকার বাসিন্দারা। এর পরেই শনিবার ভোর তিনটে নাগাদ ওই বহুতল থেকে তিনশো মিটার দূরে কাজিডাঙা লেনে টালির চালের ওই ঘরে আগুন লাগে। ঘরে তখন ঘুমোচ্ছিলেন গৃহকর্তা ধর্মেন্দ্র দাস, তাঁর স্ত্রী বেবি দাস, মেয়ে নেহা দাস এবং বেবিদেবীর দিদি সবিতা সিংহ। পাশের ঘরেই ছিলেন ধর্মেন্দ্রবাবুর বোন সরিতা দাস।

সরিতাদেবী এ দিন জানান, তিনিই প্রথম চিৎকার শুনে পাশের ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। দেখেন, তাঁর দাদার ঘরের দরজার নীচ থেকে আগুনের হল্কা বেরোচ্ছে। ভিতর থেকে পরিত্রাহী চিৎকার করছেন দাদা-বৌদি-ভাইঝি ও বৌদির দিদি। সরিতাদেবীই চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ঘুম থেকে তোলেন। সকলে মিলে দরজা ভেঙে ওই চার জনকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। ধর্মেন্দ্রবাবুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে কলকাতার নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়। এ দিকে, ঘটনার খবর পেয়ে দমকলের একটি ইঞ্জিন এসে আধ ঘণ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ দিন সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় তখনও পোড়া ঘরের সামনে এলাকার বাসিন্দাদের ভিড়। পুড়ে গিয়েছে দশ বাই আট ফুটের ওই ঘরের খাট, বিছানা-সহ সমস্ত আসবাব ও বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম। বাসিন্দারা জানান, আগুন লেগেছে দরজার সামনে থেকে। সে কারণেই কেউ ঘর থেকে বেরোতে পারেনি। বরং বারবার দরজা খোলার চেষ্টা করার ফলে সকলেই কম-বেশি অগ্নিদগ্ধ হন।

সরিতাদেবীর অভিযোগ, ‘‘মনে হচ্ছে কেউ ওই ঘরে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। না হলে বাইরে থেকে দরজার ছিটকিনি বন্ধ করা থাকত না। আর বাইরে থেকে বন্ধ ছিল বলেই দাদারা বারবার চেষ্টা করেও দরজা খুলে বেরিয়ে আসতে পারেনি। আমরাও অন্ধকারে বুঝতে পারিনি।’’ সরিতাদেবী জানান, এ নিয়ে তাঁরা পুলিশের কাছে খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করবেন।

দমকলের তরফে অবশ্য আগুন লাগার কারণ নিয়ে কিছু জানানো হয়নি। দমকলের এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘‘আগুন যে দরজার সামনে থেকে লেগেছে, তা পরিষ্কার। ফরেন্সিক পরীক্ষার পরেই আগুনের সঠিক কারণ জানা যাবে।’’

Fire Burnt
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy