রাস্তার কলে স্নান করার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল বছর ন’য়েকের অঞ্জলি। ঘণ্টাখানেক পরও বাড়ি না ফেরায় খোঁজ শুরু করেন পরিজনরা। অবশেষে ছোট্ট অঞ্জলির নিথর দেহ ভাসতে দেখা গেল পূর্ত দফতরের খোলা রিজার্ভারে। শনিবার এই ঘটনা ঘটেছে আলিপুর থানার থ্যাকারে রোডে।
ন’বছরের অঞ্জলি প্রায় অনাথ। কয়েক বছর আগে মায়ের মৃত্যু হয়েছে। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্যত্র থাকেন। মায়ের মৃত্যুর পর থেকে মামারবাড়িতেই দিন কাটছিল অঞ্জলির। দাদু-দিদার সংসারে। দাদু মহাদেব দাস প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে অস্থায়ী কাজ করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন দুপুরে রোজকার মতো রাস্তার কলে স্নান করতে গিয়েছিল অঞ্জলি। ঘণ্টা খানেক কেটে যাওয়ার পরও সে না ফেরায় মহাদেববাবু ও তাঁর স্ত্রী নাতনির খোঁজ শুরু করেন। বেশ কিছুক্ষণ কেটে যাওয়ার পর প্রেসিডেন্সি জেলের পিছন দিকের একটি খোলা রিজার্ভারে অঞ্জলিকে অচৈতন্য অবস্থায় ভাসতে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা সঙ্গে সঙ্গে অঞ্জলিকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই এলাকায় এরকম খোলা ট্যাঙ্ক, রিজার্ভার ও ম্যানহোল অনেকগুলি রয়েছে। আশপাশে বসতি থাকা সত্ত্বেও সেগুলি ঢাকা দেয়নি পূর্ত দফতর বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর আগেও এলাকার একটি শিশু অন্য একটি খোলা ট্যাঙ্কে পড়ে গিয়েছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি। অবিলম্বে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোয় সে বেঁচে যায়। ঘটনার পরে স্থানীয় বাসিন্দারাই ওই ট্যাঙ্কে ঢাকনা লাগানোর ব্যবস্থা করেন। কিন্তু সব ম্যানহোল বা রিজার্ভার ঢাকা দেওয়া স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষে সম্ভব নয়। পূর্ত দফতরের গাফিলতির বিরুদ্ধে তাই ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী। পূর্ত দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, শীঘ্রই ম্যানহোল, রিজার্ভার ও অন্যান্য জলাশয় ঢাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।