আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের পর চার দিন পেরিয়ে গিয়েছে। এখনও নিখোঁজ ২৭ জন! শুক্রবার পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে ২১টি দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। তবে মৃতের সংখ্যা ঠিক কত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলি কাদের, তা-ও জানা যায়নি। সেগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে এখনও চলছে দেহাংশ খোঁজার কাজ।
শুক্রবার বারুইপুর পুলিশ জেলার এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, আনন্দপুরে ২৭ জনের নামে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে ২১টি দেহাংশ। তবে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা কত, তা বলা যাচ্ছে না। নিহতদের শনাক্ত করতে দেহাংশগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (সিএফএসএল)-তে পাঠানো হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার পরে নিহতদের সঠিক পরিচয় নির্ধারণ করা যাবে। বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপার নিজেও সিএফএসএল-এ গিয়েছিলেন, যাতে যত দ্রুত সম্ভব পরীক্ষাগুলি করানো যায়। অন্য দিকে, শুক্রবারও ঘটনাস্থল খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে আরও কোনও দেহাংশ পাওয়া যায় কি না। ডেকরেটার্সের গুদামের টিনের শেড উপড়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে।
ঘটনাস্থলে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। — নিজস্ব চিত্র।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। আনন্দপুরের পুড়ে যাওয়া দুই গুদাম ঘুরে বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন তিনি। বেরিয়ে রাজ্যপাল বোস বলেন, ‘‘দোষ খুঁজতে নয়, তথ্য অনুসন্ধানে এসেছি। তবে প্রশাসনকে আরও বেশি সতর্ক হতে হত। ঘটনার পর এ ভাবে দায় এড়ানো যায় না।’’ পাশাপাশি, শুক্রবার সকালে ফের এলাকায় গিয়েছে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল। ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন তাঁরা।
আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ওয়াও মোমোর সেই গুদামের ম্যানেজার মনোরঞ্জন শিট এবং ডেপুটি ম্যানেজার রাজা চক্রবর্তীকে নরেন্দ্রপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের শুক্রবার বারুইপুর মহকুমা আদালতে হাজির করানো হবে। এ ছাড়া, আগেই গ্রেফতার হয়েছেন দ্বিতীয় গুদামটির মালিক গঙ্গাধর দাস। ফলে সব মিলিয়ে ওই ঘটনায় ধৃতের সংখ্যা বেড়ে হল তিন।