ঘোলায় বৃদ্ধ দম্পতিকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হল তাঁদেরই নাতি পার্থ দাস ওরফে চোর রানা ও তার দুই বন্ধু।
পুলিশ জানায়, ১৬ ফেব্রুয়ারি ঘোলার ইন্দ্রপুরীতে কালীপদ দাস (৭৫) ও তাঁর স্ত্রী গীতা দাসকে (৭০) শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। পরদিন সকালে পরিচারিকা কাজে আসার পরে তাঁর চেঁচামেচিতেই দেহ দু’টি উদ্ধার হয়।
তদন্তে জানা গিয়েছে, দামি মোটরবাইকের জন্য দাদুর কাছে লাগাতার আবদার করেও টাকা না পেয়ে ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ পার্থ ও তার দুই বন্ধু প্রবীর দাস ওরফে লেবু ও আর এক কিশোর ইন্দ্রপুরীতে পৌঁছয়। কালীপদবাবু গেট খুললে প্রথমে পার্থ ভিতরে ঢোকে। পরে সে-ই দুই বন্ধুকে দোতলায় লিফ্টে লুকিয়ে রাখে। রাতের খাবারও সঙ্গে ছিল তাদের। রাতে বৃদ্ধ দম্পতি শুয়ে পড়লে দুই বন্ধুকে ডেকে আলমারি খুলে টাকা খোঁজার চেষ্টা করে পার্থ। ঘুম ভেঙে তা দেখে কালীপদবাবু চিৎকার করতে গেলে পার্থরা প্রথমে তাঁকে থামাতে চেষ্টা করে। খাটের কোনায় মাথা ঠুকে যায় তাঁর। তাতেও বৃদ্ধ চুপ না করলে গলা টিপে ধরে নাতি ও তার বন্ধুরা। তাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। ইতিমধ্যে ঘুম ভেঙে গীতাদেবীও চেঁচামেচি শুরু করলে তাঁর মুখে বালিশ চাপা দেওয়া হয়। বাঁচার মরিয়া চেষ্টা করতে থাকায় বৃদ্ধাকেও গলা টিপে খুন করে পার্থরা। নিজেদের আনা গামছার ফাঁস দিয়ে দেয় গলায়। শেষমেশ বাড়িতে অন্য একটি তালা লাগিয়ে রাতেই পালায় তিন জন।
পুলিশের দাবি, জেরায় খুনের কথা কবুল করেছে ধৃতেরা। পুলিশ জানায়, জেরায় বৃদ্ধ দম্পতির নাতি-নাতনি ও পুত্রবধূর শোকতাপহীন মুখ ও কালীপদবাবুর দেওয়া তিন হাজার টাকা মাসোহারায় সংসার চালানো মঞ্জুদেবীর ছেলে পার্থর জীবনযাপন দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের। গুরুদাস কলেজের কমার্সের ছাত্র পার্থ ও তার দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম নেশা ও ছোটখাটো চুরির অভিযোগ রয়েছে।
ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার নীরজকুমার সিংহ বলেন, ‘‘এখনও অনেক কিছু অজানা। জেরায় পার্থ জানিয়েছে, ঘটনায় আরও ক’জন জড়িত।’’ সোমবার ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে পার্থ ও প্রবীরের সাত দিনের পুলিশ হেফাজত হয়। ধৃত কিশোরকে বিধাননগর জুভেনাইল আদালতে তোলা হয়।