মাদক সরবরাহকারী চক্রের এক চাঁইকে মণিপুরের থৌবল জেলা থেকে গ্রেফতার করলেন রাজ্য পুলিশের এসটিএফের গোয়েন্দারা। ধৃতের নাম মহম্মদ জালালউদ্দিন শাহ। তাকে ধরার জন্য আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। সেই পরোয়ানা মণিপুরের স্থানীয় পুলিশকে পাঠিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। এসটিএফ সূত্রের খবর, থৌবল জেলার ইয়ারিপোক সিংঘ লেইকাই গ্রামে জালালউদ্দিন লুকিয়ে আছে বলে সম্প্রতি খবর পান গোয়েন্দারা। এর পরেই মণিপুর পুলিশকে নিয়ে ওই গ্রামে হানা দিয়ে তাকে ধরা হয়। ধৃতকে বুধবার ট্রানজ়িট রিমান্ডে পশ্চিমবঙ্গে এনে বারাসতের বিশেষ মাদক আদালতে তোলা হলে বিচারক জেল হেফাজতে পাঠান।
আদালত সূত্রের খবর, গত ৭ অক্টোবর নদিয়া জেলার কালীগঞ্জ থানার পলাশিতে হানা দিয়ে দু’টি গাড়ি আটক করে এসটিএফ। বাজেয়াপ্ত হয় এক কেজি হেরোইন। গ্রেফতার করা হয় হাফিজুল শিকারি এবং জিব্রাইল মণ্ডল নামে দুই পাচারকারীকে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে, মাদক পাচারের আসল মাথা জালালউদ্দিন। সে উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে মাদক সরবরাহ করত। পলাশি থেকে বাজেয়াপ্ত করা মাদকও জালালউদ্দিনের নির্দেশেই নিয়ে আসা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে এসটিএফের গোয়েন্দারা আদালতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার আবেদন করলে বিচারক সেই আর্জি মঞ্জুর করেন।
কী ভাবে মাদক পাচার করত জালালউদ্দিন? সূত্রের খবর, আগে মাদক তৈরির কাঁচামাল থেকে শুরু করে মাদক— সব নিজেই এই রাজ্যে পৌঁছে দিত অভিযুক্ত। পশ্চিমবঙ্গে ছিল ১২ জনেরও বেশি এজেন্ট। কিন্তু সম্প্রতি জালালউদ্দিন নিজে মাদক নিয়ে আসত না। বদলে, সে ট্রেনে বা বিমানে এই রাজ্যে চলে আসত। মাদক পৌঁছত সড়কপথে। সেই মাদক জালালউদ্দিন তার এজেন্টদের মধ্যে ভাগ করে দিত বলে অভিযোগ। কাদের সাহায্যে জালালউদ্দিন ওই মাদক সড়কপথে নিয়ে আসত, তা জানার জন্য তাকে জেরা করা হবে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)