Advertisement
E-Paper

ইউএসজি করেও অ্যাপেনডিক্স ধরতে পারলেন না চিকিৎসক! প্রাণসংশয় বালিকার, জরিমানা করল স্বাস্থ্য কমিশন

শুক্রবার মালদহের একটি নার্সিংহোমে বিভিন্ন খামতি ধরে পড়েছে স্বাস্থ্য কর্তাদের পরিদর্শনে। কমিশনের নির্দেশ খামতিগুলি পূরণ না-হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে ওই নার্সিংহোম।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:২০

প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ইউএসজি করেও অসুস্থ বালিকার অ্যাপেনডিক্স ধরতে পারলেন না বেলগাছিয়ার এক ডায়গনিস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে দেখা যায় অ্যাপেনডিক্স ফেটে রোগীর গুরুতর অবস্থা! এর পরে দ্রুত অস্ত্রোপচারও করে সুস্থ করা হয় ওই বালিকাকে।

এই ঘটনায় দোষী চিকিৎসকের আর্থিক জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য কমিশন। এর পাশাপাশি শুক্রবার মালদহের একটি নার্সিংহোমে বিভিন্ন খামতি ধরে পড়েছে স্বাস্থ্য কর্তাদের পরিদর্শনে। কমিশনের নির্দেশ খামতিগুলি পূরণ না-হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে ওই নার্সিংহোম। সেই সঙ্গে গুনতে হবে আর্থিক জরিমানাও। কমিশন সূত্রের খবর, স্নেহা হালদার দাসের আট বছরের ওই বালিকা দিন চারেকের জ্বর, পেটে অসহ্য ব্যাথা এবং বমির সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি ইউএসজি করাতে বলেন।

বেলগাছিয়ার ওই ডায়গনিস্ট সেন্টারে ইউএসজি করা হয়েছিল। কয়েক দিন চিকিৎসার পরেও সুস্থ না হওয়ায় স্নেহাকে বিসি রায় শিশু হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে আবার ইউএসজি করা হয়। তখন দেখা যায় অ্যাপেনডিক্স ফেটে খুবই খারাপ অবস্থা। দ্রুত অস্ত্রোপচার করায় প্রাণে বেঁচে যায় স্নেহা। পরিবারের অভিযোগ, বেলগাছিয়ার ওই ডায়গোনিস্টিক সেন্টারের যে চিকিৎসক ইউএসজি করেন তিনি অ্যাপেনডিক্সের কোনও কথা বলেননি। স্বাস্থ্য কমিশনের শুনানিতে চিকিৎসক জানান শিশুটির জ্বর আর গলায় ব্যাথার জন্য অ্যাপেনডিক্সের সমস্যাটি ভাল করে দেখেননি। রিপোর্টেও কোনও উল্লেখ ছিল না।

স্বাস্থ্য কমিশন দোষী চিকিৎসকের ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করে জানিয়েছে, জরিমানার ওই অর্থ স্নেহার নামে স্থায়ী আমানত (ফিক্সড ডিপোজিট) করে রাখতে হবে। অন্য দিকে, মালদার একটি ছোট নার্সিংহোমের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য কমিশন। মালদার এডিএম (স্বাস্থ্য) ওই ক্লিনিকটি পরিদর্শন করেন। কিছু গাফিলতি নজরে আসে। পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি যত দিন না খামতিগুলি ঠিক হচ্ছে তত দিন সেটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই নির্দেশের বিরোধিতা করে স্বাস্থ্য কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মালদার ওই নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। তিনি আর্জি জানান যে এত টাকা দেওয়া ওঁদের সাধ্যের বাইরে। স্বাস্থ্য কমিশনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, যে সব খামতিগুলি নজরে এসেছে তা পূরণ করতে হবে এবং সিএমএইচওর থেকে রিপোর্ট নিয়ে কমিশনে দিতে হবে। এর মধ্যে এক সঙ্গে ৫ লক্ষ টাকা না দিয়ে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে আপাতত দিতে হবে। তবে খামতিগুলি ঠিক না করা পর্যন্ত নার্সিংহোম চালু করা যাবে না।

Health Department Health Nursing Home
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy