মশা দমনে জোরকদমে কাজ শুরু করেছে বিধাননগর পুরসভা। কিন্তু মশা নিয়ন্ত্রণের পরিকাঠামো গড়ে তোলা না হলে এই কাজ কতটা সফল হবে তা নিয়ে সন্দিহান বাসিন্দারা। যদিও পুরসভার তরফে পরিকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা চলছে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বছরের শুরু থেকেই বিধাননগরে মশার উৎপাত শুরু হয়ে গিয়েছে। সক্রিয় হয়েছে পুরসভাও। ইতিমধ্যেই কেষ্টপুর খাল ও ইস্টার্ন ড্রেনেজ চ্যানেলে নিয়মিত জলপ্রবাহ বাড়ানোর কাজ শুরু হয়েছে। ওয়ার্ডে মশার তেল স্প্রে, ফগিং করার কাজ শুরু হয়েছে। পরিত্যক্ত জমিতে আবর্জনা যাতে জড়ো না হয় তাই জমির মালিকদের নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি ঝোপজঙ্গল সাফাইয়ের কাজও শুরু হয়েছে বলে পুরসভার দাবি।
একই সঙ্গে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে নিয়ে সচেতনতা প্রচারেও জোর দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তার পরেও কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিয়েছে। যেমন, অব্যবহৃত কিংবা পরিত্যক্ত জলাশয়গুলিকে ঘিরে মশার আঁতুড়ঘর তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যা উদ্বেগে রেখেছে পুরপ্রশাসনকে। গত বছরের অভিজ্ঞতার নিরিখে এ বার বছরের গোড়া থেকেই সেই সব জলাশয়ের দিকে নজর দেওয়ার চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন পুর-কর্তৃপক্ষ। মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য) প্রণয় রায় বলেন, ‘‘ওই সব জলাশয় নিয়ে প্রাথমিকভাবে সমীক্ষার কাজ করা হবে। সমীক্ষার উপরে ভিত্তি করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
বস্তুত সাবেক পরিকাঠামো দিয়ে যে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ করা মুশকিল তা স্বীকার করে নিয়েছেন পুরকর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই মেয়র সব্যসাচী দত্ত জানিয়েছিলেন, পরিকাঠামো সংস্কারের পরিকল্পনা হচ্ছে। তবে এখনও পরিকাঠামো সংস্কারের তোড়জোড় লক্ষ্য করা না গেলেও আপৎকালীন কিছু পদক্ষেপ করছে পুরসভা। যেমন, প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে ফগিং মেশিন কেনা হয়েছে। অনেক সময়ে দেখা যায়, কেষ্টপুর খাল ও ইস্টার্ন ড্রেনেজ চ্যানেলে সর্বত্র নেমে মশা তাড়ানোর কাজ
করা যাচ্ছে না। সে জন্য তিনটি রোয়িং বোট কেনা হয়েছে।
বাসিন্দাদের একটি অংশের বক্তব্য, মশার তেল স্প্রে কিংবা ফগিং এর কাজ শুরু হয়েছে। তার জেরে মশার প্রকোপ কিছুটা হলেও কমেছে। কিন্তু সেটা সাময়িক। সমস্যা কাটাতে সার্বিক সুসংহত পরিকল্পনার প্রয়োজন। বাসিন্দাদের একটি সংগঠনের নেতা কুমারশঙ্কর সাধু বলেন, ‘‘সল্টলেকে মশার সমস্যা দীর্ঘ দিনের। কলকাতা পুরসভার ধাঁচেই মশা নিয়ন্ত্রণের
জন্য নির্দিষ্ট পরিকাঠামো প্রয়োজন। তবে বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়েই সচেতনতার প্রচারের কাজ করলে সুফল তাড়াতাড়ি মিলতে পারে।’’
মেয়র পারিষদ প্রণয়বাবু বলেন, ‘‘মশা তাড়াতে আরও উন্নতমানের ওষুধ প্রয়োগ করা যায় কি না, তা নিয়ে কলকাতা পুরকর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালানো হচ্ছে।’’