বোমা বিস্ফোরণের ফলেই আগুন লেগেছিল, না কি আগুন লেগে যাওয়ায় বোমা ফেটেছিল? পাইকপাড়ার ক্লাবে বিস্ফোরণের ঘটনায় সেই উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। ওই ঘটনায় ইতিমধ্যেই মামলা রুজু হয়েছে। বিস্ফোরণের কারণ জানতে রবিবার ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞেরা। তবে, কে বা কারা ক্লাবে বোমা রাখল, বিস্ফোরণের প্রায় দু’দিন পরেও সেই উত্তর মেলেনি। কেউ গ্রেফতারও হয়নি।
শনিবার সকালে আচমকা বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে চিৎপুর থানা এলাকার পাইকপাড়ার গাঙ্গুলিপাড়া। একটি বন্ধ ক্লাবঘরের ভিতরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ক্লাবঘরের টিনের ছাউনি উড়ে যায়। বিধানসভা নির্বাচনের আগে ঘন বসতিপূর্ণ পাইকপাড়া অঞ্চলে এমন ঘটনায় আতঙ্কিত বাসিন্দাদের একাংশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছিলেন, তীব্র আওয়াজ শুনে বেরিয়ে এসে তাঁরা দেখেন, ক্লাবে আগুন জ্বলছে। প্রাথমিক ভাবে বিস্ফোরণের ফলে অগ্নিকাণ্ড মনে করা হলেও উল্টো দিকটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। মজুত থাকা বোমায় আগুন লেগে বিস্ফোরণের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশের একাংশ। এ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে রবিবার ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞেরা।
বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনও রয়েছে আতঙ্ক। বাসিন্দাদের একাংশ ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির যোগ থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন। অনেকের মত, বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে বোমা মজুত করা হচ্ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দার কথায়, ‘‘প্রভাবশালীর সমর্থন না থাকলে ঘন বসতিপূর্ণ এলাকায় বোমা রাখার সাহস কেউ পেতে পারে না। কী জন্য এ ভাবে বোমা মজুত করা হচ্ছিল, তার কারণ পুলিশ তদন্ত করে দেখুক।’’
পুলিশ যদিও এখনও এই নিয়ে নিশ্চিত ভাবে কিছু বলতে চায়নি। লালবাজারের এক তদন্তকারী আধিকারিক বলেন, ‘‘তদন্ত চলছে। বেশ কিছু সূত্র মিলেছে। সব দিক দেখা হচ্ছে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)