Advertisement
E-Paper

গোয়েন্দা জেরায় তিন, লালবাজারে মুখোমুখি সাম্বিয়া-শানু-জনি

রেড রোড কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত সাম্বিয়া এবং তাঁর ঘনিষ্ট বন্ধু শানু অর্থ্যাত্ শাহনাওয়াজ খানের পর আরও এক অভিযুক্ত জনিকেও গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে তাঁকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের গুন্ডাদমন শাখা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০১৬ ০৯:৪০
সাম্বিয়া সোহরাবের বন্ধু জনি

সাম্বিয়া সোহরাবের বন্ধু জনি

রেড রোড কাণ্ডে ধৃত তিন জনকে আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিল আদালত। এর পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই লালবাজারে টানা জেরা করা শুরু হয়েছে অভিযুক্ত সাম্বিয়া, শানু এবং জনিকে।

এ দিন মূল অভিযুক্ত সাম্বিয়া এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু শানুর পর আরও এক অভিযুক্ত জনিকেও গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে তাঁকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের গুন্ডাদমন শাখা।

লালবাজার সূত্রে খবর, জনির খোঁজে শহরের বিভিন্ন জায়গায় জনির পরিজনদের নিয়ে তল্লাশি চালায় পুলিশ। পড়শি রাজ্য ঝাড়খণ্ডে জনি লুকিয়ে আছে বলে খবর পান গোয়েন্দারা। তাঁকে ধরতে সেই মতো ঝাড়খণ্ডে পাড়ি দেন তাঁরা। কিন্তু অল্পের জন্য জনির নাগাল পাননি তাঁরা। ইতিমধ্যেই জনি কলকাতায় পালিয়ে এসেছে বলে খবর পান তদন্তকারীরা। অবশেষে শহর থেকেই মঙ্গলবার সকালে জনিকে গ্রেফতার করা হয়। একবালপুর থানা এলাকা থেকে জনিকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ।

Advertisement

এই নিয়ে রেড রো়ড কাণ্ডে গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়াল তিন। এ দিনই শানু এবং জনিকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোনা হবে। তাঁদের চোদ্দো দিনের পুলিশি হেফাজত চাওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

গত বুধবার ভোরে মদ্যপ হয়ে অডি গাড়ি চালাচ্ছিলেন সাম্বিয়া সোহরাব। সেই গাড়িতে পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় বায়ুসেনার কর্পোরাল অভিমন্যু গৌড়। ওই ঘটনার পর সাম্বিয়া, জনি এবং শানু—তিন জনেই পালিয়ে যান।

গোপন ডেরা থেকে হোয়াটসঅ্যাপে নিজের একটি ভিডিও রেকর্ড দুই দাদার কাছে পাঠান জনি। ফুটেজে জনি দাবি করেন, “মঙ্গলবার রাতে কয়েক জন মিলে দইঘাটের একটি রেস্তোরাঁয় বসেছিলেন। সেখানে সকলেই দেদার মদ্যপান করেন। রাত ১২টার কিছু পরে অডি গাড়ি চেপে ওই রেস্তোরাঁয় পৌঁছন সাম্বিয়া ও শানু। জনির দাবি, সাম্বিয়া অতিরিক্ত মদ্যপান করে ফেলায় তাঁকে গাড়ি নিয়ে ফিরতে নিষেধ করেছিলেন সকলেই। শানুও বারণ করেছিলেন। বারণ শুনে উল্টে সাম্বিয়া শানুকে চ়়ড় মারেন।

রেস্তোরাঁ থেকে আলাদা আলাদা গাড়িতে বেরিয়ে যায় সকলে। সাম্বিয়া মদ্যপ অবস্থায় অডি নিয়ে একাই বেরিয়ে যায়। জনি এবং শানু অন্য একটি গাড়িতে করে সাম্বিয়ার গাড়িকে পিছু ধাওয়া করে। সাম্বিয়ার গাড়ি রেড রোডের দিকে যায়। কিন্তু রেড রোডে জনিদের গাড়ি ঢুকতে গেলে বাধা দেয় পুলিশ। কুচকাওয়াজের মহড়া চলছে বলে ওই গাড়িটিকে যেতে দেওয়া হয়নি। তখন জনি আর শানু গাড়ি ঘুরিয়ে খিদিরপুরের দিকে চলে যায়। এর পর তাঁরা জনির দাদা সানির বাড়ি গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। ঘুম ভাঙলে জানতে পারেন সাম্বিয়ার কাণ্ড!”

শনিবার রাতে পার্ক সার্কাসের শ্বশুরবাড়ির পাড়া বালু হক্কর লেন থেকে গ্রেফতার করা হয় সাম্বিয়াকে। রবিবার রাতে দিল্লির আজমেরি গেট এলাকার শাহগঞ্জে মামা মহম্মদ ইউসুফের বাড়ি থেকে শানুকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

শানু এবং সাম্বিয়ার বয়ান মিলছে না। তাই তিন জনকেই মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার কথা ভাবছেন গোয়েন্দারা।

এই সংক্রান্ত আরও খবর...

• ফাঁসিয়ে দেওয়ার তত্ত্ব উস্কে দিল্লিতে ধৃত শানু

• ফাঁসানোর চাপ ছিল শানুকে, আবারও দাবি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy