বেআইনি নির্মাণ রুখতে কড়া অবস্থান নিয়েছে কলকাতা পুরসভা। পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, গত দু’বছরে শহর জুড়ে মোট ৮৫০টি অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি সামান্য ত্রুটি বা ‘মাইনর ডেভিয়েশন’-এর কারণে অবৈধ ঘোষিত ৭১০টি নির্মাণ নির্দিষ্ট জরিমানার বিনিময়ে ‘রেগুলারাইজ়’ বা বৈধ করা হয়েছে। এই তথ্যকে সন্তোষজনক বলেই মনে করছেন পুরসভার আধিকারিকদের একাংশ। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বিধানসভা কেন্দ্র কলকাতা বন্দরে একটি নির্মীয়মাণ বহুতল ভেঙে পড়ে ১৩ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। পরে তদন্ত করে জানা যায় ওই বাড়িটি পুরোপুরি বেআইনি ভাবে তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার পরেই মেয়র বিল্ডিং বিভাগকে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার ফলস্বরূপ ২ বছর পর সাড়ে ৮০০ বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলার তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, এমনটাই মত বিল্ডিং বিভাগের।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নির্মাণের ফলে অতীতে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেই প্রেক্ষিতেই বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়। পুরসভার ‘টক টু মেয়র’ কর্মসূচিতে বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত বহু অভিযোগ জমা পড়েছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। এক পুর আধিকারিকের বক্তব্য, মেয়রের নির্দেশের পর থেকেই শহরের ১৪৪টি ওয়ার্ডে বিশেষ অভিযান চালায় বিল্ডিং বিভাগ। নিয়মভঙ্গ করে নির্মিত বাড়ি ও বাণিজ্যিক কাঠামো চিহ্নিত করে আইনি প্রক্রিয়া মেনে ভাঙার কাজ শুরু হয়। এর ফলেই এত বিপুল সংখ্যক অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
তবে সব ক্ষেত্রেই ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিল্ডিং বিভাগের এক সূত্র জানায়, অনেক ক্ষেত্রে নির্মাণে বড় ধরনের অনিয়ম না থাকলেও নকশা থেকে সামান্য বিচ্যুতি বা পরিমাপে ত্রুটি থাকায় সেগুলি অবৈধ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য বিধি মেনে জরিমানা ধার্য করে সেই নির্মাণগুলিকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। গত দু’বছরে এ ভাবেই ৭১০টি নির্মাণ ‘রেগুলারাইজ়’ করা হয়েছে। পুরসভা কর্তৃপক্ষের দাবি, বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপের ফলে ভবিষ্যতে ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণ অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও নিয়ম মেনে নির্মাণের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে শহরের পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত থাকে।